banglanewspaper

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘সোনার বাংলা’ গড়তে রাজনৈতিক দলগুলোকে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

তিনি আরও বলেন, আসুন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আমরা দল-মত-পথের পার্থক্য ভুলে, ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে জাতির গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা ও দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার মধ্য দিয়ে লাখো শহীদের রক্তের ঋণ পরিশোধ করি।

বুধবার একাদশ জাতীয় সংসদের পঞ্চদশ অধিবেশনে স্বাধীন বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে জাতীয় সংসদের বিশেষ আলোচনার স্মারক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে দলমতের পার্থক্য ভুলে উন্নয়নের যাত্রায় সামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আবদুল হামিদ বলেন, বঙ্গবন্ধুর ‘সোনার বাংলা’ গড়ে তোলার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রয়োজন ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সবার মধ্যে ঐক্য। ঐক্য গড়ে তুলতে হবে সাম্প্রদায়িকতা, অগণতান্ত্রিকতা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে। রাজনৈতিক দলগুলোকে পরমতসহিষ্ণুতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, জাতিসংঘ কর্তৃক ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। ১৯৭৫ এর পর মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং উপযুক্ত নীতি ও কার্যক্রমের অভাবে অর্থনীতিতে তেমন গতি সঞ্চার হয়নি। তবে বিগত একযুগেরও বেশি সময় ধরে জাতির পিতার আদর্শের সরকার দায়িত্বে থাকায় তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের ফলে দেশ আজ উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশ্বে রোল মডেলে পরিণত হয়েছে।

গণপরিষদ এবং দেশের প্রথম জাতীয় সংসদের সদস্য তার বক্তৃতায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও উন্নয়নের ধারাবাহিক চিত্র তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের চূড়ান্ত সুপারিশ স্বাধীনতার সুর্বণজয়ন্তীতে ‘গুরুত্বপূর্ণ অর্জন’। জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্টের নির্ধারিত তিনটি সূচক মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ভঙ্গুরতা সূচকের প্রতিটিতে নির্ধারিত স্কোরের বেশি অর্জন করায় ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১ তারিখে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ হতে উত্তরণের চূড়ান্ত সুপারিশ লাভ করে, যা স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর ক্ষণে দেশের এ সাফল্য জাতির জন্য বয়ে এনেছে এক অভাবনীয় গৌরব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রাজ্ঞ, দূরদর্শী ও অদম্য নেতৃত্বের জন্য আমাদের এ অর্জন সম্ভব হয়েছে। এজন্য আমি তাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানাই।

বক্তব্যে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় দলমত নির্বিশেষে রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সুশীল সমাজ এবং অংশীজনদের সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি।

তিনি বলেন, দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং তথ্য কমিশন সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারসহ চাঞ্চল্যকর অন্যান্য মামলার রায় দ্রুত নিষ্পত্তি করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দুর্নীতি, মাদক, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ এবং সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কারণে দেশে স্বস্তি বিরাজ করছে, যা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হচ্ছে। সুশাসনের উদ্দেশ্যে প্রতিটি সরকারি প্রতিষ্ঠানকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার আওতায় আনার লক্ষ্যে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি, অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থাপনা, সিটিজেনস চার্টার এবং শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

মো. আবদুল হামিদ বলেন, সরকারের সময়োচিত ও দূরদর্শী পদক্ষেপের কারণে অনেক উন্নত দেশের তুলনায় বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ এবং সংক্রমণজনিত মৃত্যুর হার অপেক্ষাকৃত কম। কোভিড-১৯ মহামারি আমাদের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাকে সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত করলেও থামিয়ে দিতে পারেনি। ইতোমধ্যে ৪ কোটি ৫৫ লাখ ৯১ হাজার ৫৭৮ জনকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে। সরকার ২৮টি প্যাকেজের আওতায় ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৯ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন করছে। এসব প্রণোদনা প্যাকেজগুলো বাস্তবায়ন কর্মসৃজন ও কর্মসুরক্ষা, অভ্যন্তরীণ চাহিদা সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। সরকারের নানামুখী জনকল্যা‌ণকর কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের একটি মানুষও না খেয়ে থাকেনি। জীবন-জীবিকার অসাধারণ সমন্বয়ের মাধ্যমে করোনা সংকট মোকাবিলায় অনন্যসাধারণ নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে বিশ্ব নেতারা এবং জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অকুণ্ঠ প্রশংসা করেছে। প্রধানমন্ত্রীর এ স্বীকৃতি আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের, যা বিশ্ব দরবারে আমাদের সম্মান আরও বৃদ্ধি করেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতি হিসেবে আমরা এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত অতিক্রম করছি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর সোপান বেয়ে আমরা পৌঁছে গেছি স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর স্বর্ণতোরণে। সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর নির্মাণ এখন সমাপ্তির পথে। প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় মনোবল, বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে পদ্মাসেতু বাস্তবায়ন হয়েছে। এ সেতুর বাস্তবায়ন জাতি হিসেবে আমাদের স্বকীয়তা, সম্পদ ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা, সক্ষমতা, জবাবদিহি, দক্ষতা এবং আত্মবিশ্বাসের প্রতীকস্বরূপ মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সাহস দিয়েছে।

তিনি বলেন, এমডিজির সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত এসডিজির বিভিন্ন সূচকে অনন্য অগ্রগতির স্বীকৃতিস্বরূপ সম্প্রতি বাংলাদেশ ‘এসডিজি প্রোগ্রেস অ্যাওয়ার্ড’-এ ভূষিত হয়। এ প্রাপ্তি আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের এক বিশাল অর্জন। এ সম্মান বাংলাদেশের, এ সম্মান সমগ্র বাঙালি জাতির।

আবদুল হামিদ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ‘রূপকল্প ২০২১’-এর সার্থক বাস্তবায়ন শেষে ‘রূপকল্প ২০৪১’ বাস্তবায়ন করছে। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য আমাদের প্রয়োজন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবকে কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখা। পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ ব্যাপক শিল্পায়ন, অর্থনীতি সুসংহতকরণ, সুষ্ঠু অবকাঠামো এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলাসহ মেধাভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে নিরলসভাবে কাজ করে যেতে হবে।

বিকেল তিনটায় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। এরপর সংসদ কক্ষে ঢোকেন রাষ্ট্রপতি। তার প্রবেশের সময় বিউগলে বাজানো হয় ‘ফ্যানফেয়ার’। রাষ্ট্রপতি সংসদ কক্ষে পৌঁছালে নিয়ম অনুযায়ী যন্ত্রের সাহায্যে জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। তিনি স্পিকারের পাশে রাখা ডায়াসে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা দেন।

রাষ্ট্রপতির ২৫ মিনিটের বক্তব্য শেষে নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় সংগীত বাজানো হয়।

ট্যাগ: রাষ্ট্রপতি

জাতীয়
‘মেধার সঙ্গে দেশাত্মবোধ থাকাও জরুরি’

banglanewspaper

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, মেধাবীদের মূল্যবোধ সমৃদ্ধ ও মানবিক মানুষ হওয়া প্রয়োজন আছে। দেশ গঠনে শুধু বস্তুগত উন্নয়ন নয়, মানবিকতাও থাকতে হবে। একজন মেধাবীর মধ্যে যেমন মেধা থাকা প্রয়োজন, তেমনি মূল্যবোধ, দেশাত্ববোধ, মানবিকতা, সামাজিকতা থাকা জরুরি।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসকাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল (ডিএসইসি) আয়োজিত মেধাবৃত্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সংগঠনের সদস্যের সন্তানদের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী, জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া প্রায় অর্ধশত জনকে মেধাবৃত্তি দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে সনদপত্র, ক্রেস্ট, বই ও নগদ অর্থ দেওয়া হয়।

ডিএসইসি সভাপতি মামুন ফরাজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন- জামালপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মো. মোজাফ্ফর হোসেন, দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক সাইফুল আলম, আওয়ামী লীগের উপকমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক বলরাম পোদ্দার, সাম্প্রতিক দেশকাল সম্পাদক ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ, কেএসবি গ্রুপ অব কোম্পানিজের চেয়ারম্যান এবং আওয়ামী লীগের উপকমিটির সদস্য ড. মোহাম্মদ এ হোসাইন দীপু।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন- ডিএসইসির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান হƒদয়।

এতে আরো বক্তব্য দেন- ডিএসইসির সাবেক সভাপতি কায়কোবাদ মিলন, শাহ মো. মোতাসিম বিল্লাহ, আশরাফুল ইসলাম, বর্তমান কোষাধ্যক্ষ অলক বিশ্বাস প্রমুখ।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংগঠনের যুগ্ম-সম্পাদক জাওহার ইকবাল খান।

কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে একটা রাজনীতি শুরু হয়ে গেছে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের দেশে কিছু পক্ষ আছে পরগাছার মতো। তারা অপরের ওপর ভর করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে চায়। এই পরগাছারা সক্রিয় হয়ে গেছে। ছাত্রদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তারা তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে চাচ্ছে। সুতরাং এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ করে মন্ত্রী বলেন, আজকে আমাদের সন্তানরা নিরাপদ সড়কের জন্য আন্দোলন করছে। আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই। নিরাপদ সড়কটা আমাদের প্রয়োজন। সরকারও কিন্তু অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে। ইতোমধ্যে ঢাকায় হাফ ভাড়া করে দিয়েছে, চট্টগ্রামেও এ নিয়ে আলোচনা চলছে। এখন আশা করব, আমাদের সন্তানরা কাসে ফিরে যাবে।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আরও বলেন, খালেদা জিয়া যাতে সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যসেবা পান, চিকিৎসা পান, সে জন্য সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা দেশের অভ্যন্তরে গ্রহণ করতে চায়। এ ব্যাপারে সরকার বদ্ধপরিকর। বিএনপি ও খালেদা জিয়ার পরিবার যেভাবে চায়, দেশের মধ্যে তাকে সেভাবেই চিকিৎসা দেওয়া হবে। আমাদের দেশেও অনেক ভালো ডাক্তার আছে। এ নিয়ে রাজনীতি করার কিছু নেই।

বিশেষ অতিথি ইঞ্জিনিয়ার মোজাফ্ফর হোসেন এমপি বলেন, সাব-এডিটররা পর্দার অন্তরালের নায়ক। গণমাধ্যমে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে। একটি সুখী ও সমৃদ্ধ দেশ গড়তে সাব-এডিটরসহ সাংবাদিকদেরও অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।

ট্যাগ:

জাতীয়
১৫ ডিসেম্বর ঢাকায় আসছেন ভারতের প্রেসিডেন্ট

banglanewspaper

আগামী ১৫ ডিসেম্বর তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকায় আসছেন ভারতের প্রেসিডেন্ট রামনাথ কোভিন্দ। এই প্রথম একই বছরে ভারতের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশে সফর করছেন। ২০২১ এর মার্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঢাকা সফর করেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকী, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ভারতের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ সফর করবেন। যে কারণে উভয় দেশের জন্য এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রটি আরও জানায়, ১৬ ডিসেম্বর জাতীয় স্মৃতিসৌধ, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি যাদুঘর, বিজয় দিবসের প্যারেড, সংসদের দক্ষিণ প্লাজার অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন ভারতের প্রেসিডেন্ট।

এই সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন প্রেসিডেন্ট রামনাথ কোভিন্দ এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এছাড়া প্রেসিডেন্ট আব্দুল হামিদ ভারতের প্রেসিডেন্টের সম্মানে একটি ব্যানকুয়েটের আয়োজন করবেন।

ভারতের কোনো প্রেসিডেন্ট আমাদের জাতীয় প্যারেডে প্রথমবারে মতো অংশ নেবেন। এছাড়া ভিারতয়ি প্রেসিডেন্টের সফর উপলক্ষে ভারত থেকে একটি অ্যাডভান্সড দল বাংলাদেশে সফর করে গেছে।একইসময় ভুটানের সাবেক রাজা জিগমে সিঙ্গে ওয়াংচুক ঢাকা সফর করবেন বলে জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ট্যাগ:

জাতীয়
বিজয় দিবসে দেশবাসীকে শপথ পড়াবেন প্রধানমন্ত্রী

banglanewspaper

বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তিতে সারা দেশের মানুষকে শপথ পাঠ করাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামী ১৬ ডিসেম্বর বিকালে প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী ওই শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন । তবে কী ধরনের শপথ পাঠ করাবেন তা পরে জানানো হবে।

মহান বিজয় দিবস এবং বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী।

সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সভাপতিত্বে ওই বৈঠক হয়।

বৈঠক শেষে কামাল আবদুল নাসের সাংবাদিকদের বলেন, ১৬ ডিসেম্বরের যে অনুষ্ঠান, সে অনুষ্ঠানে বিকেল সাড়ে ৪টায় প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা থেকে সারা বাংলাদেশে একটা শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন। সেখানে সব শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নেবে। তারপর সাড়ে ৫টা থেকে আলোচনা সভা শুরু হবে।

তবে কী শপথ হবে সে ব্যাপারে পরে বিস্তারিত জানাবেন বলে জানিয়েছেন কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী।

এ সময় সচিব বলেন, ১৬ ডিসেম্বরে সবসময় একটা কুচকাওয়াজ হয়। এবারের কুচকাওয়াজ অন্যবারের চেয়ে বড় আকারে হবে। সেখানে ৬টি দেশের প্রতিনিধি আসবেন। সেখানে অনেকগুলো দেশের অংশগ্রহণ থাকবে।

এছাড়া জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি থেকে ‘মহা বিজয়ের মহা নায়ক’ শিরোনামে ১৬ ও ১৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠান হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে আলোচনা সভা শুরু হবে। সেখানে ভারতের রাষ্ট্রপতি অংশ নেবেন। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীও এতে অংশ নেবেন। পুরো অনুষ্ঠান সুন্দরভাবে সাজিয়ে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, প্রকৃতি, পরিবেশ সব মিলিয়ে দেশের ৫০ বছরের অগ্রগতি, এ সবের সমন্বয়ে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠান হবে।

আমন্ত্রিত অতিথিদের ব্যাপারে তিনি বলেন, যাদের আমন্ত্রণ জানানো হবে সময়মত তাদের অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছানো, সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে যেন অনুষ্ঠানগুলো হয় সেটার নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও অন্যান্য বিষয়গুলো আজকে পর্যালোচনা করা হয়েছে।

করোনা পরীক্ষা রিপোর্ট ছাড়া কেউ সেখানে যেতে পারবেন না উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আমন্ত্রণপত্রে জানিয়ে দেওয়া হবে কোথায় কোথায় করোনা পরীক্ষা করতে হবে। যেহেতু স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন করতে হবে তাই করোনা পরীক্ষাটা বাধ্যতামূলক। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব কিছু আমরা ফলো করব। সব মিলিয়ে প্রতিদিন তিন হাজার মানুষ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। অনুষ্ঠানটি সারা দেশের পাশাপাশি সারা বিশ্বে সম্প্রচার হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

ট্যাগ:

জাতীয়
মালদ্বীপ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

banglanewspaper

তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মালদ্বীপ যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামী ২২ থেকে ২৪ ডিসেম্বর তিনি মালদ্বীপ সফর করবেন। চলতি বছরে ২৮ মার্চ মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মেদ সলিহ ঢাকা সফর করেন।

বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র প্রধানমন্ত্রীর মালদ্বীপ সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক সব সময়ই ভালো। এসব দেশের সঙ্গে সম্পর্ককে গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এ সফর বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়।

এবছরের মার্চে বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উৎসবে পাঁচটি প্রতিবেশী দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকার প্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল বাংলাদেশ। সফরে নেপালের রাষ্ট্রপতি ও ভারত, ভুটান ও শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী ঢাকা এসেছিলেন।

এছাড়া গত অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল মালদ্বীপ সফর করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিষয়ে আলোচনা করেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে বাণিজ্য, কানেক্টিভিটি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মালদ্বীপের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে বাংলাদেশের। এই সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে প্রধানমন্ত্রীর সফর।

ট্যাগ:

জাতীয়
ঢাকার যানজটে এক লাখ কোটি আর্থিক ক্ষতি

banglanewspaper

পরিবেশ ও স্বাস্থ্যগত ক্ষতি বাদ দিয়ে ঢাকার যানজটে বছরে প্রায় এক লাখ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। এ ক্ষতি দেশের জাতীয় বাজেটের প্রায় ২০ শতাংশের সমান। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) বার্ষিক গবেষণা সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

রাজধানীর লেকশোর হোটেলে আয়োজিত সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে বৃহস্পতিবার ‘ঢাকাস ওভার গ্রোথ অ্যান্ড ইস কস্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) পরিচালক আহমেদ আহসান। বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. বিনায়ক সেনের সভাপতিত্বে দ্বিতীয় দিনে ১৫টির মতো গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়। সম্মেলনে আরও তথ্য উঠে আসে যে, ঢাকা শহরে যানজটের কারণে বছরে জিডিপির সরাসরি ক্ষতি হচ্ছে ২ দশমিক ৫ শতাংশ। প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে মাথাপিছু আয়ের ক্ষতি হচ্ছে মাইনাস ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। সেই সঙ্গে ঢাকার ওভার প্রবৃদ্ধির কারণে ক্ষতি হয় জিডিপির ৬ শতাংশ।

পিআরআই পরিচালক তার প্রতিবেদনে বলেন, বাংলাদেশের শহুরে মানুষের বেশির ভাগের বাস ঢাকায়। বাংলাদেশের প্রায় ১৬ কোটি জনসংখ্যার ৩১ দশমিক ৯ শতাংশ বাস করে প্রধান শহরগুলোতে। এর মধ্যে ঢাকায় বাস করে ১১ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ। ১০ লাখের মতো মানুষ বাস করে এমন শহর রয়েছে ৫টি।

প্রতিবেদনের তথ্যমতে, চীনের প্রায় ১৩৮ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে সবচেয়ে বড় শহরে বাস করে ১ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ। ১০ লাখের মতো মানুষ বাস করে এমন শহর রয়েছে ১০২টি।

আর প্রতিবেশী ভারতের প্রায় ১৩৩ কোটি মানুষের মধ্যে শহরে বাস করে ৬ শতাংশ। সবচেয়ে বড় শহরে বাস করে ২ শতাংশ মানুষ। ১০ লাখের বেশি মানুষের শহর রয়েছে ৫৪টি। বাংলাদেশের উন্নয়নের অধিকাংশ ঢাকাকেন্দ্রিক বলে উল্লেখ করে পিআরআই পরিচালক আরও বলেন, অন্যান্য শহরে উন্নয়নের ঘাটতি রয়েছে। বিদ্যুৎ ব্যবহারেও অন্যান্য শহর পিছিয়ে রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দেশে দারিদ্র্য নিরসনের হার শহরে কম, গ্রামে বেশি। এই হার জাতীয় হারের চেয়ে গ্রামে বেশি। এছাড়া শ্রমিকদের মজুরি হারের প্রবৃদ্ধি শহরে কমছে।

ট্যাগ: