banglanewspaper

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার না হলে আর পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ উঠে দাঁড়াতো বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, আজকে যে সম্মানজনক অবস্থানে আমরা আসতে পেরেছি, জাতির পিতা বেঁচে থাকলে সেই জায়গায় আমরা স্বাধীনতার ১০ বছরে পৌঁছে যেতো। বঙ্গবন্ধু যদি আর পাঁচটি বছর সময় পেতেন, বাংলাদেশ উঠে দাঁড়াতো।

স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ৫০ বছরপূর্তি উপলক্ষে বুধবার বিকালে জাতীয় সংসদের বিশেষ আলোচনায় ১৪৭ বিধিতে প্রস্তাব তোলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে উত্থাপিত প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন সংসদ নেতা।

এদিন বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, মুক্তির মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ৩০ লাখ মহান শহীদ, আত্মত্যাগী ২ লাখ মা-বোন, সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা, জাতীয় চার নেতা-সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী, এ.এইচ.এম কামারুজ্জামানসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শহীদদের প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী।

পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার বঙ্গবন্ধুর কর্মকাণ্ডের বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘পাকিস্তানি বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি লণ্ডনে চলে যান। সেখান থেকে ভারত হয়ে, ভারতবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বাংলার মাটিতে ফিরে আসেন।’

‘১০ জানুয়ারি তিনি আগে বাংলাদেশের জনগণের কাছেই যান। আমরা তখন প্রতীক্ষায় ছিলাম, কখন আমার বাবা ঘরে আসবে। আমরা তখন যে বাড়িতে বন্দী (মুক্তিযুদ্ধচলাকালীন) ছিলাম। আমরা বাবাকে দেখতে পাই পরে, তাকে জনগণ পায় আগে। এটা হচ্ছে বাস্তবতা। তার কাছে জনগণই ছিলো সবথেকে বড়।’

স্বাধীনতা পরবর্তী দেশের উন্নয়নে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে একটি প্রদেশ থেকে রাষ্ট্রে উন্নীত করবার যত আইন, নিয়ম-নীতিমালা সবই তিনি করে দিয়ে যান। আমি দীর্ঘদিন রাষ্ট্র চালাচ্ছি। প্রতিদিন যত কাজ করতে যাই, তখনই আমি এটা লক্ষ্য করি। এটা আমার কাছে বিস্ময় মনে হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, যখনেই বঙ্গবন্ধু যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশকে গড়তে চেয়েছিলেন। তখন দেশের কিছু মানুষের মাঝে অস্থিরতা শুরু হয়েছিলো মনেহয়। তারা নানা ধরনের কথা, সমালোচনা, আলোচনা এবং অনেক নির্বাচিত সংসদ সদস্যকে হত্যা করা। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আত্মসমপর্ণ করেছিলো সত্যি। কিন্তু তারা তাদের কিছু দালাল, যুদ্ধাপরাধী এদেরকে রেখে যায়। যারা তখন, আমাদের কিছু মুক্তিযোদ্ধাকে হাতে নিয়ে দেশের ভিতরে একটা অরাজকতার চেষ্টা চালায়। দেশের অগ্রযাত্রাটা সহ্য হয় না।

সরকারপ্রধান বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াবে। এটা স্বাধীনতাবিরোধী, যুদ্ধাপরাধী ও তাদের দোসররা মানতে পারে না। যার জন্য একদিকে চক্রান্ত চলছে। ওই অবস্থা মোকাবেলা করে জাতির পিতা মানুষের উন্নয়েনের জন্য দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দেন। মানুষের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে এমন একটি পদ্ধতি নিয়েছিলেন, যেখানে একজন সাধারণ মানুষ নির্বাচনে জয়ী হতে পারে। বৈষম্য দূর করার জন্য ক্ষমতাকে বিকেন্দ্রীকরণ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু।

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বিপ্লবের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন জাতীয় সংসদে। তিনি বলেন, সেই সময় বাংলাদেশ একটা মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে যাক তারা চায়নি। তারা এটা সহ্য করতে পারেনি। এটা নিয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার চালিয়েছে। অপপ্রচার করেও যখন দেখে জনগণের কাছ থেকে জাতির পিতাকে সরাতে পারতেছে না। তখন পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের ঘটনা ঘটানো হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকারবে শক্তিশালী করেন। বঙ্গবন্ধুর সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে- বঙ্গবন্ধু যে কাজগুলি করতে চেয়েছিলেন-এজন্য আর ৫টি বছর তিনি হাতে সময় পেতেন বাংলাদেশ উঠে দাঁড়াতো। আজকে যে সম্মানজনক অবস্থানে আমরা আসতে পেরেছি, জাতির পিতা বেঁচে থাকলে সেই জায়গায় আমরা স্বাধীনতার ১০ বছরে পৌঁছে যেতে পারতাম।

ট্যাগ: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয়
‘মেধার সঙ্গে দেশাত্মবোধ থাকাও জরুরি’

banglanewspaper

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, মেধাবীদের মূল্যবোধ সমৃদ্ধ ও মানবিক মানুষ হওয়া প্রয়োজন আছে। দেশ গঠনে শুধু বস্তুগত উন্নয়ন নয়, মানবিকতাও থাকতে হবে। একজন মেধাবীর মধ্যে যেমন মেধা থাকা প্রয়োজন, তেমনি মূল্যবোধ, দেশাত্ববোধ, মানবিকতা, সামাজিকতা থাকা জরুরি।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসকাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল (ডিএসইসি) আয়োজিত মেধাবৃত্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সংগঠনের সদস্যের সন্তানদের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী, জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া প্রায় অর্ধশত জনকে মেধাবৃত্তি দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে সনদপত্র, ক্রেস্ট, বই ও নগদ অর্থ দেওয়া হয়।

ডিএসইসি সভাপতি মামুন ফরাজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন- জামালপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মো. মোজাফ্ফর হোসেন, দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক সাইফুল আলম, আওয়ামী লীগের উপকমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক বলরাম পোদ্দার, সাম্প্রতিক দেশকাল সম্পাদক ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ, কেএসবি গ্রুপ অব কোম্পানিজের চেয়ারম্যান এবং আওয়ামী লীগের উপকমিটির সদস্য ড. মোহাম্মদ এ হোসাইন দীপু।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন- ডিএসইসির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান হƒদয়।

এতে আরো বক্তব্য দেন- ডিএসইসির সাবেক সভাপতি কায়কোবাদ মিলন, শাহ মো. মোতাসিম বিল্লাহ, আশরাফুল ইসলাম, বর্তমান কোষাধ্যক্ষ অলক বিশ্বাস প্রমুখ।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংগঠনের যুগ্ম-সম্পাদক জাওহার ইকবাল খান।

কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে একটা রাজনীতি শুরু হয়ে গেছে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের দেশে কিছু পক্ষ আছে পরগাছার মতো। তারা অপরের ওপর ভর করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে চায়। এই পরগাছারা সক্রিয় হয়ে গেছে। ছাত্রদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তারা তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে চাচ্ছে। সুতরাং এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ করে মন্ত্রী বলেন, আজকে আমাদের সন্তানরা নিরাপদ সড়কের জন্য আন্দোলন করছে। আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই। নিরাপদ সড়কটা আমাদের প্রয়োজন। সরকারও কিন্তু অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে। ইতোমধ্যে ঢাকায় হাফ ভাড়া করে দিয়েছে, চট্টগ্রামেও এ নিয়ে আলোচনা চলছে। এখন আশা করব, আমাদের সন্তানরা কাসে ফিরে যাবে।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আরও বলেন, খালেদা জিয়া যাতে সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যসেবা পান, চিকিৎসা পান, সে জন্য সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা দেশের অভ্যন্তরে গ্রহণ করতে চায়। এ ব্যাপারে সরকার বদ্ধপরিকর। বিএনপি ও খালেদা জিয়ার পরিবার যেভাবে চায়, দেশের মধ্যে তাকে সেভাবেই চিকিৎসা দেওয়া হবে। আমাদের দেশেও অনেক ভালো ডাক্তার আছে। এ নিয়ে রাজনীতি করার কিছু নেই।

বিশেষ অতিথি ইঞ্জিনিয়ার মোজাফ্ফর হোসেন এমপি বলেন, সাব-এডিটররা পর্দার অন্তরালের নায়ক। গণমাধ্যমে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে। একটি সুখী ও সমৃদ্ধ দেশ গড়তে সাব-এডিটরসহ সাংবাদিকদেরও অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।

ট্যাগ:

জাতীয়
১৫ ডিসেম্বর ঢাকায় আসছেন ভারতের প্রেসিডেন্ট

banglanewspaper

আগামী ১৫ ডিসেম্বর তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকায় আসছেন ভারতের প্রেসিডেন্ট রামনাথ কোভিন্দ। এই প্রথম একই বছরে ভারতের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশে সফর করছেন। ২০২১ এর মার্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঢাকা সফর করেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকী, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ভারতের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ সফর করবেন। যে কারণে উভয় দেশের জন্য এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রটি আরও জানায়, ১৬ ডিসেম্বর জাতীয় স্মৃতিসৌধ, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি যাদুঘর, বিজয় দিবসের প্যারেড, সংসদের দক্ষিণ প্লাজার অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন ভারতের প্রেসিডেন্ট।

এই সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন প্রেসিডেন্ট রামনাথ কোভিন্দ এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এছাড়া প্রেসিডেন্ট আব্দুল হামিদ ভারতের প্রেসিডেন্টের সম্মানে একটি ব্যানকুয়েটের আয়োজন করবেন।

ভারতের কোনো প্রেসিডেন্ট আমাদের জাতীয় প্যারেডে প্রথমবারে মতো অংশ নেবেন। এছাড়া ভিারতয়ি প্রেসিডেন্টের সফর উপলক্ষে ভারত থেকে একটি অ্যাডভান্সড দল বাংলাদেশে সফর করে গেছে।একইসময় ভুটানের সাবেক রাজা জিগমে সিঙ্গে ওয়াংচুক ঢাকা সফর করবেন বলে জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ট্যাগ:

জাতীয়
বিজয় দিবসে দেশবাসীকে শপথ পড়াবেন প্রধানমন্ত্রী

banglanewspaper

বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তিতে সারা দেশের মানুষকে শপথ পাঠ করাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামী ১৬ ডিসেম্বর বিকালে প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী ওই শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন । তবে কী ধরনের শপথ পাঠ করাবেন তা পরে জানানো হবে।

মহান বিজয় দিবস এবং বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী।

সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সভাপতিত্বে ওই বৈঠক হয়।

বৈঠক শেষে কামাল আবদুল নাসের সাংবাদিকদের বলেন, ১৬ ডিসেম্বরের যে অনুষ্ঠান, সে অনুষ্ঠানে বিকেল সাড়ে ৪টায় প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা থেকে সারা বাংলাদেশে একটা শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন। সেখানে সব শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নেবে। তারপর সাড়ে ৫টা থেকে আলোচনা সভা শুরু হবে।

তবে কী শপথ হবে সে ব্যাপারে পরে বিস্তারিত জানাবেন বলে জানিয়েছেন কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী।

এ সময় সচিব বলেন, ১৬ ডিসেম্বরে সবসময় একটা কুচকাওয়াজ হয়। এবারের কুচকাওয়াজ অন্যবারের চেয়ে বড় আকারে হবে। সেখানে ৬টি দেশের প্রতিনিধি আসবেন। সেখানে অনেকগুলো দেশের অংশগ্রহণ থাকবে।

এছাড়া জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি থেকে ‘মহা বিজয়ের মহা নায়ক’ শিরোনামে ১৬ ও ১৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠান হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে আলোচনা সভা শুরু হবে। সেখানে ভারতের রাষ্ট্রপতি অংশ নেবেন। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীও এতে অংশ নেবেন। পুরো অনুষ্ঠান সুন্দরভাবে সাজিয়ে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, প্রকৃতি, পরিবেশ সব মিলিয়ে দেশের ৫০ বছরের অগ্রগতি, এ সবের সমন্বয়ে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠান হবে।

আমন্ত্রিত অতিথিদের ব্যাপারে তিনি বলেন, যাদের আমন্ত্রণ জানানো হবে সময়মত তাদের অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছানো, সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে যেন অনুষ্ঠানগুলো হয় সেটার নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও অন্যান্য বিষয়গুলো আজকে পর্যালোচনা করা হয়েছে।

করোনা পরীক্ষা রিপোর্ট ছাড়া কেউ সেখানে যেতে পারবেন না উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আমন্ত্রণপত্রে জানিয়ে দেওয়া হবে কোথায় কোথায় করোনা পরীক্ষা করতে হবে। যেহেতু স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন করতে হবে তাই করোনা পরীক্ষাটা বাধ্যতামূলক। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব কিছু আমরা ফলো করব। সব মিলিয়ে প্রতিদিন তিন হাজার মানুষ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। অনুষ্ঠানটি সারা দেশের পাশাপাশি সারা বিশ্বে সম্প্রচার হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

ট্যাগ:

জাতীয়
মালদ্বীপ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

banglanewspaper

তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মালদ্বীপ যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামী ২২ থেকে ২৪ ডিসেম্বর তিনি মালদ্বীপ সফর করবেন। চলতি বছরে ২৮ মার্চ মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মেদ সলিহ ঢাকা সফর করেন।

বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র প্রধানমন্ত্রীর মালদ্বীপ সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক সব সময়ই ভালো। এসব দেশের সঙ্গে সম্পর্ককে গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এ সফর বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়।

এবছরের মার্চে বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উৎসবে পাঁচটি প্রতিবেশী দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকার প্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল বাংলাদেশ। সফরে নেপালের রাষ্ট্রপতি ও ভারত, ভুটান ও শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী ঢাকা এসেছিলেন।

এছাড়া গত অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল মালদ্বীপ সফর করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিষয়ে আলোচনা করেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে বাণিজ্য, কানেক্টিভিটি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মালদ্বীপের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে বাংলাদেশের। এই সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে প্রধানমন্ত্রীর সফর।

ট্যাগ:

জাতীয়
ঢাকার যানজটে এক লাখ কোটি আর্থিক ক্ষতি

banglanewspaper

পরিবেশ ও স্বাস্থ্যগত ক্ষতি বাদ দিয়ে ঢাকার যানজটে বছরে প্রায় এক লাখ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। এ ক্ষতি দেশের জাতীয় বাজেটের প্রায় ২০ শতাংশের সমান। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) বার্ষিক গবেষণা সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

রাজধানীর লেকশোর হোটেলে আয়োজিত সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে বৃহস্পতিবার ‘ঢাকাস ওভার গ্রোথ অ্যান্ড ইস কস্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) পরিচালক আহমেদ আহসান। বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. বিনায়ক সেনের সভাপতিত্বে দ্বিতীয় দিনে ১৫টির মতো গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়। সম্মেলনে আরও তথ্য উঠে আসে যে, ঢাকা শহরে যানজটের কারণে বছরে জিডিপির সরাসরি ক্ষতি হচ্ছে ২ দশমিক ৫ শতাংশ। প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে মাথাপিছু আয়ের ক্ষতি হচ্ছে মাইনাস ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। সেই সঙ্গে ঢাকার ওভার প্রবৃদ্ধির কারণে ক্ষতি হয় জিডিপির ৬ শতাংশ।

পিআরআই পরিচালক তার প্রতিবেদনে বলেন, বাংলাদেশের শহুরে মানুষের বেশির ভাগের বাস ঢাকায়। বাংলাদেশের প্রায় ১৬ কোটি জনসংখ্যার ৩১ দশমিক ৯ শতাংশ বাস করে প্রধান শহরগুলোতে। এর মধ্যে ঢাকায় বাস করে ১১ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ। ১০ লাখের মতো মানুষ বাস করে এমন শহর রয়েছে ৫টি।

প্রতিবেদনের তথ্যমতে, চীনের প্রায় ১৩৮ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে সবচেয়ে বড় শহরে বাস করে ১ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ। ১০ লাখের মতো মানুষ বাস করে এমন শহর রয়েছে ১০২টি।

আর প্রতিবেশী ভারতের প্রায় ১৩৩ কোটি মানুষের মধ্যে শহরে বাস করে ৬ শতাংশ। সবচেয়ে বড় শহরে বাস করে ২ শতাংশ মানুষ। ১০ লাখের বেশি মানুষের শহর রয়েছে ৫৪টি। বাংলাদেশের উন্নয়নের অধিকাংশ ঢাকাকেন্দ্রিক বলে উল্লেখ করে পিআরআই পরিচালক আরও বলেন, অন্যান্য শহরে উন্নয়নের ঘাটতি রয়েছে। বিদ্যুৎ ব্যবহারেও অন্যান্য শহর পিছিয়ে রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দেশে দারিদ্র্য নিরসনের হার শহরে কম, গ্রামে বেশি। এই হার জাতীয় হারের চেয়ে গ্রামে বেশি। এছাড়া শ্রমিকদের মজুরি হারের প্রবৃদ্ধি শহরে কমছে।

ট্যাগ: