banglanewspaper

ওপার বাংলার অন্যতম সেরা সুপারস্টার জিৎ। আজ মঙ্গলবার তার জন্মদিন। বিশেষ এ দিনে জিৎকে নিয়ে নিজের মনের ভাব প্রকাশ করেছেন চিত্রনায়িকা ও তৃণমূল নেত্রী সায়ন্তিকা ব্যানার্জী। ফেসবুকে দিয়েছেন দীর্ঘ এক স্ট্যাটাস। সেখানে অভিনেত্রী বলেছেন, তিনি নাকি প্রথমবার দেখেই নায়ক জিতের প্রেমে পড়ে গিয়েছিলেন। জিতের `আওয়ারা‘ ছবির নায়িকার সেই লেখা হুবহু তুলে দেওয়া হল।

‘লাভ অ্যাট ফার্স্ট সাইট’-এর কথা অজস্র বার শুনেছি। ছোট থেকে হিন্দি ছবিতে দেখেছিও। নায়ককে দেখেই নাকি নায়িকা প্রেমে পড়ে যায়। কখনও আবার উল্টোটা। ভাবতাম, এই প্রথম দেখায় প্রেম-টেম শুধু ছবিতেই হয়। আমার মতো সাধারণ মেয়ের সঙ্গে কি এসব হতে পারে! আমি তো আর ‘কাভি খুশি কাভি গম’-এর কাজল নই, যে শাহরুখ খান আমাকে দেখেই প্রেমে এক্কেবারে হাবুডুবু খাবে! কিন্তু জিৎ-দা এসে আমার যাবতীয় ভাবনা, অবিশ্বাসকে এক লহমায় তছনছ করে দিয়ে চলে গেল। প্রথম দর্শনেই ধপাস করে ওর প্রেমে পড়ে গেলাম!

সে বহু বছর আগের কথা। তখন আমি স্কুলে পড়ি। শুনেছিলাম কোনো এক নতুন নায়কের ছবি আসছে। নাম ‘সাথী’। মা-বাবাকে রাজি করিয়ে ছুট দিয়েছিলাম প্রেক্ষাগৃহে। সেই সময়ে ঝাঁ চকচকে মাল্টিপ্লেক্স ছিল না। ছিল না কাউন্টার থেকে ভেসে আসা ক্যারামেল পপকর্ণের মিষ্টি গন্ধ। কাঠের শক্ত চেয়ারে বসে আলো-আঁধারি হলের পর্দায় প্রথম দেখেছিলাম জিৎ-দাকে। সেই যে দেখলাম, প্রেমে পড়ে গেলাম। ‘লাভ অ্যাট ফার্স্ট সাইট’। সেই প্রেম রয়েই গেল। তখনও কি জানতাম, এই মানুষটার সঙ্গেই এক দিন ছবি করব? তার নায়িকা হব?

কাট টু ২০১২। ‘আওয়ারা’ ছবিতে আমি জিৎ-দার নায়িকা। মানে সুপারস্টার জিতের নায়িকা। তার আগেও বেশ কিছু ছবি করেছিলাম। ক্যামেরার সঙ্গে আলাপটা মোটামুটি হয়েই গিয়েছিল। কিন্তু প্রিয় নায়কের বিপরীতে কাজ করব ভেবেই ভয়ে-আনন্দে হাত-পা যেন অবশ হয়ে যাচ্ছিল। এই ছবির প্রস্তাব আমার কাছে হঠাৎ করেই এসেছিল! আচমকা একদিন মহেন্দ্র সোনি আর শ্রীকান্ত মোহতা ফোন করে বললেন, তারা একটি ছবির বিষয়ে আমার সঙ্গে কথা বলতে চান। আমিও সাত-পাঁচ চিন্তা না করে হায়দ্রাবাদের বিমানে উড়ে গেলাম। সেখানেই রবি স্যার (রবি কিনাগি, ছবির পরিচালক) আমার পরীক্ষা নেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই জানতে পারি, আমি জিৎ-দার নায়িকা! তখন যে ঠিক কতটা খুশি হয়েছিলাম, সেটা এখনও লিখে বুঝিয়ে উঠতে পারব না। পরে জেনেছিলাম, জিৎ-দাই নাকি আমাকে এই ছবিতে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল। এই ছবি আমাকে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ দিয়েছে। ওর কাছে আমি সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকব।

হায়দ্রাবাদ, মালয়েশিয়া, লাদাখ- নানা জায়গায় ঘুরে ঘুরে শ্যুট করেছিলাম আমরা। আমার যখন শট থাকত না, জিৎ-দাকে দেখতাম। বাধ্য ছাত্রীর মতো শেখার চেষ্টা করতাম। ভুল হলে জিৎ-দা কোনো দিন বকাবকি করেনি। ও খুব শান্ত ভাবে ভুলটা ধরিয়ে দিত। এ রকম ঠাণ্ডা মাথার মানুষ আমি খুব কম দেখেছি। এখনও যখন ছোটপর্দায় ‘আওয়ারা’ চলে বা কোথাও ছবির গানগুলো শুনি, সে দিনগুলোর কথা ছবির মতো চোখের সামনে ভেসে ওঠে।

জিৎ-দার সঙ্গে আমার সম্পর্ক শুধু মাত্র পেশাদারি নয়। ও আমার খুব কাছের একজন বন্ধু। ওকে আমি শ্রদ্ধা করি। ভালোবাসি। মাঝেমধ্যে বলেও ফেলি, ‘জিৎ-দা আমি তোমাকে ভালোবাসি। আই লাভ ইউ। তোমাকে যদি বিয়ে করতে পারতাম!’ জিৎ-দা আমার কথা শুনে হাসে। তারপর আমার পিঠে স্নেহের হাত রেখে বলে, ‘আই লাভ ইউ টু বাবু’। ওর মুখে এই কথা শুনে এখনও একজন ‘ফ্যানগার্ল’-এর মতোই আনন্দ পাই। অনেকেই ‘আওয়ারা’ দেখে আমার সঙ্গে জিৎ-দার রসায়নের প্রশংসা করেন। আমি বলি, জিৎ-দার প্রতি আমার মনে যে প্রেম আছে, সেই প্রেমই মনে হয় পর্দায় ফুটে উঠেছিল!

জিৎ-দার থেকে অনেকেই অনেক কিছু শিখতে পারেন। কিন্তু নারীকে কীভাবে সম্মান করা উচিত, সেটা বোধহয় ওকে দেখলে সব থেকে ভালো ভাবে শেখা যায়। পেশাগত জীবনের বাইরেও কোনো সমস্যায় পড়লে আমি জিৎ-দার কাছে ছুটে যাই। ওর থেকে পরামর্শ চাই। কারণ জিৎ-দা কখনও মন ভোলানো কথা বলে না। আমি যেটা শুনে আনন্দ পাব, ও সেটা বলবে না। বরং যেটা করলে আমার ভালো হবে, ও আমাকে সেটাই করতে বলবে। এ রকম নির্ঝঞ্ঝাট, সৎ, কাজ-পাগল মানুষ আমি জীবনে খুব কম দেখেছি। ওর জন্মদিনে আরও একবার বলব, এই মানুষটাকে আমি সত্যিই খুব ভালোবাসি।

জিৎ-দার জন্মদিনে ওকে নিয়ে লিখতে বসে কত কথাই মনে আসছে। সবটা ভালো করে লিখেও উঠতে পারছি না। আবেগের কাছে শব্দ কি আর ধোপে টেকে! আমার কাছে জিৎ-দা আর প্রেম সমার্থক। সেই কবে থেকে এই মানুষটাকে ভালোবাসছি। এখনও ভালোবাসি, ভবিষ্যতেও ভালোবাসব।

জিৎ-দা তুমি আক্ষরিক অর্থেই ‘নায়ক’। যে নায়ক পাশে থাকতে জানে, ভালোবাসতে জানে। জানে ঠিক-ভুলের যাচাই করতে। যা কিছু ভালো, সবই তুমি জয় করেছ। জন্মদিনে উপহার হিসেবে এই লেখা আর শ্রদ্ধা ছাড়া তোমাকে আর কী-ই বা দেব!

ট্যাগ: জিত

বিনোদন
শিল্পী সমিতি আমার ভালোবাসা, তাই এত শত্রু: জায়েদ খান

banglanewspaper

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির দুই বারের নির্বাচিত সম্পাদক জায়েদ খান। একই পদে এবারের নির্বাচনেও লড়ছেন এই চিত্রনায়ক। আগামী ২৮ জানুয়ারি ভোট। নির্বাচন উপলক্ষে রবিবার সংবাদ সম্মেলনে আসেন তিনি। জানালেন সমিতির প্রতি তার ভালোবাসা কতোটা।

জায়েদ খান বলেন, ‘আমি যে এখন কত এতিম তা বোঝাতে পারব না। আমার মা মরার আগে রাজারবাগ হাসপাতালে বলে গেছেন, ‘তোমার আর বিয়ে করা লাগবে না। তুমি শিল্পী সমিতি নিয়েই থাকো।’ আমার কাছে শিল্পী সমিতি একটা ভালোবাসার জায়গা হয়ে গেছে। এ জন্যই এত শত্রু।’

জায়েদ জানান, লকডাউন চলাকালে এফডিসির ১১টা কুকুরকেও বাসা থেকে রান্না করে এসে খাইয়েছি। মিশা সওদাগর আর কমিটি শিল্পী সমিতির কি কি উন্নয়ন করেছেন তার ফিরিস্তিও দেন এই চিত্রনায়ক।

জায়েদ খান বলেন, ‘যে শিল্পী সমিতিতে এসে গেটে পকেটের টাকা খরচ করে ফ্লাক্সের চা খেতে হতো, সেখানে এখন দুইটা কফি মেশিন থাকে মিশা-জায়েদের আমলে। তিনটা ফ্রিজ সমিতিতে। ২১টা লাইট জ্বলে। এই শিল্পী সমিতি তো আমরা করেছি। অনেকের চক্ষশূল হয়ে গেছি এত কাজ করে।’

এরপরই অভিনেতা বলেন, এফডিসিতে ১১টা কুকুর আছে। না খেয়ে শুকিয়ে গিয়েছিল। লকডাউনের মধ্যে বাসা থেকে রান্না করে এনে সেই কুকুরগুলোকেও খাইয়েছি। যদি একটা মিথ্যা বলি, আমার বাবা-মা কবরে। তাদের আত্মা শাস্তি পাবে। জীবনটা দিয়ে দিয়েছি শিল্পীদের জন্য। বিনিময়ে অবহেলা পেয়েছি মানুষের। গালি শুনেছি। আমাকে খুনি সাজানো হচ্ছে।’

জায়েদ অভিযোগ করে বলেন, ‘রাত একটার সময় আমাকে মার্ডার কেসের আসামি বানানো হল এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। লোক পাঠানো হয়েছে শিমুর বাসায়, যে আপনারা শুধু একবার জায়েদ খানের নাম বলেন, যে তাকে সন্দেহ করছি। আপনাদের যা লাগে দেবো।’

অভিনেতার প্রশ্ন, ‘এর জন্যই কি দুই বছর পরিশ্রম করে গেলাম। আপনারা বিবেকের কাছে প্রশ্ন করেন, কার বাসায় শিল্পী সমিতির প্যাকেট যায়নি। কার বাসায় আমি গরু জবাই করে মাংস পাঠাইনি?’

জায়েদের ধারণা, ‘কাজ কম করলে আমার দুর্নামও কম হতো। অনেক কাজ করেছি বলে আজ আমার দুর্নামও অনেক। অনেক সংগঠন আমাকে চেপে ধরার চেষ্টা করছে। আমাকে আর মিশা ভাইকে বয়কট করার হুমকি দিয়েছে। কিছু মুখোশধারী লোককে এফডিসির গেটে দাঁড় করিয়ে আমাদের পদত্যাগ চায়। অথচ কতবার আমি ঝুঁকি নিয়ে শিল্পীদের দ্বারে দ্বারে খাবার পৌঁছেছি। এটাই আমার অপরাধ ছিল?’

সামনে উপস্থিত শিল্পীদের উদ্দেশ্য করে জায়েদ বলেন, ‘আপনারা হাত তুলে কেউ বলতে পারেন যে, জায়েদ এই অন্যায়টা করেছে শিল্পীদের সঙ্গে। তাহলে আমি মাথানত করে শিল্পী সমিতি থেকে চলে যাবো। আমার মা-বোন সবাই আমাকে বকে। যে তুই শিল্পী সমিতি করে শেষ হয়ে গেলি। এদিকে আপনারাও বকেন। তাহলে আমি কই যাবো বলেন তো। কাজ করাই কি আমার অপরাধ?’

নিজ প্যানেল থেকে টানা দুইবার সভাপতি নির্বাচিত হওয়া মিশা সওদাগরের প্রসঙ্গ টেনে জায়েদ বলেন, ‘মিশা ভাইয়ের স্ত্রী-সন্তান আমেরিকায় থাকে। ভাবী মিশা ভাইকে সেখানে চলে যেতে বলে, মিশা ভাই যায় না। বলে, তোমাকে একা ফেলে যাবো? আমরা কবরী আপার লাশ কাঁধে তুলেছি, উজ্জ্বল ভাইয়ের বউয়ের লাশ কাঁধে, সাদেক বাচ্চু ভাইর লাশ কাঁধে, রানা হামিদের লাশ কাঁধে। আর কত লাশ কাঁধে তুলব বলেন তো? কাঁধটা তো ব্যথা হয়ে গেছে।’

প্রমঙ্গত, দুই মেয়াদে টানা চার বছর ধরে শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে থেকে জায়েদ খান অনেক অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বহু শিল্পী কাছ থেকে চাঁদা নিয়েও রশীদ না দেওয়ার অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া দেড় শতাধিক শিল্পী এবারের নির্বাচনে ভোট দিতে পারছে না। তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার পেছনেও জায়েদ খানের হাত আছে বলে অভিযোগ।

এতসব অভিযোগ মাথায় নিয়েই এবারও একই প্যানেল থেকে সভাপতি পদে মিশা সওদাগর ও সাধারণ সম্পাদক পদে জায়েদ খান নির্বাচন করছেন। তাদের বিপক্ষে একটি প্যানেল গড়েছেন চিত্রনায়িকা নিপুণ। তিনি সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন। তার প্যানেল থেকে সভাপতি পদে নির্বাচন করছেন চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। এছাড়া দুই প্যানেলেই আছে একঝাঁক করে তারকা প্রার্থী।

ট্যাগ:

বিনোদন
হাসপাতালে অক্সিজেন সাপোর্টে অভিনেতা তুষার খান

banglanewspaper

তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে রাজধানীর গ্রিন লাইফ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা তুষার খান। তিনি মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। তার ফুসফুসের ৬০ ভাগ আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। অভিনেতাকে বর্তমানে গ্রিন লাইফ হাসপাতালের আইসিইউতে অক্সিজেন সাপোর্ট দিয়ে রাখা হয়েছে।

এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন অভিনেতা ও শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব নাসিম। তিনি বলেন, ‘তুষার ভাই প্রথমে বাড়িতেই চিকিৎসা নিচ্ছেলেন। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শনিবার তিনি গ্রিন লাইফ হাসপাতালে ভর্তি হন। শ্বাসকষ্টসহ তার বেশ কিছু শারীরিক জটিলতা রয়েছে।’

অভিনেতা আনিসুর রহমান মিলন ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে জানিয়েছেন, ‘২০ জানুয়ারি তুষার ভাইয়ের শারীরিক অবস্থা খারাপ হয়। প্রথমে তিনি করোনা টেস্ট করাতে রাজি ছিলেন না। পরে অনেকটা জোর করেই পরীক্ষা করানোর পর জানা যায়, তিনি করোনায় আক্রান্ত। একদিন বাড়িতে চিকিৎসা নিয়ে শনিবার তুষার ভাই হাসপাতালে ভর্তি হন।’

করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে এরই মধ্যে বাংলাদেশের অভিনয় জগৎ থেকে চিত্রনায়িকা দিলারা হানিফ পূর্ণিমা এবং ছোটপর্দার অভিনেত্রী ফারিয়া শাহরিনের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর প্রকাশ হয়েছে। এবার সামনে এলো তুষার খানের খবর। এই অভিনেতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন আনিসুর রহমান মিলন।

১৯৮২ সালে ‘আরণ্যক’ নাট্যদলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অভিনয়ে পথচলা শুরু তুষার খানের। এরপর দলটির প্রায় সব নাটকে তিনি অভিনয় করেছেন। অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত তিন যুগের বেশি সময় ধরে। এর মধ্যে মঞ্চের গণ্ডি ছাড়িয়ে কাজ করেছেন নাটক এবং সিনেমায়ও। সবখানেই তার অভিনয় দারুণভাবে প্রশংসিত।

ট্যাগ:

বিনোদন
‘বিশ্বসুন্দরী’র জন্য পুরস্কৃত হলেন তারা

banglanewspaper

বহু দর্শকপ্রিয় নাটকের নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী ২০২০ সালে হাত লাগান চলচ্চিত্র পরিচালনায়। আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি ও নায়ক সিয়াম আহমেদকে প্রথমবার জুটি বানিয়ে নির্মাণ করেন ‘বিশ্বসুন্দরী’। শনিবার ‘বাংলাদেশ বিনোদন সাংবাদিক সমিতি পুরস্কার-২০২০’ (বাবিসাস) অনুষ্ঠানে চয়নিকার সেই ছবি জিতে নিয়েছে পাঁচ পাঁচটি পুরস্কার।

এর মধ্যে চয়নিকা নিজে পেয়েছেন সেরা পরিচালকের পুরস্কার। ‘বিশ্বুসন্দরী’র নায়ক সিয়াম আহমেদ পেয়েছেন সেরা অভিনেতার পুরস্কার। একই ছবির নায়িকা পরীমনি জিতেছেন বেস্ট ক্রিটিকস অ্যাওয়ার্ড। এছাড়া ‘বিশ্বসন্দরী’তে গান গেয়ে সেরা গায়ক-গায়িকার পুরস্কার বাগিয়ে নিয়েছেন এই সময়ের দুই জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ইমরান মাহমুদুল ও দিলশাদ নাহার কনা।

শনিবার ‘বাবিসাস অ্যাওয়ার্ড ২০১৯-২০-২১’-এর আয়োজন করা হয়েছিল রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে। সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া ওই অনুষ্ঠানে পুরস্কার নিতে উপস্থিত ছিলেন ‘বিশ্বুসন্দরী’র নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী ও নায়ক সিয়াম আহমেদ। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় চয়নিকা বলেন, ‘ভালো লাগছে প্রথম ছবিতেই পুরস্কার পেলাম। এ পুরস্কার আমার দায়বদ্ধতা আরও বাড়িয়ে দিল।’

তবে এ দিনের অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন না ‘বিশ্বসুন্দরী’তে পুরস্কার জেতা অন্য তিন তারকা পরীমনি এবং কণ্ঠশিল্পী জুটি ইমরান ও কনা। এর জন্য অবশ্য আক্ষেপ করেন চয়নিকা চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘সবাই মিলে একসঙ্গে পুরস্কার গ্রহণ করতে পারলে আরও ভালো লাগতো।’

প্রসঙ্গত, চয়নিকার ‘বিশ্বসুন্দরী’ মুক্তি পেয়েছিল ২০২০ সালের ১১ ডিসেম্বর। এর কাহিনি ও চিত্রনাট্য লেখেন রুম্মান রশীদ খান। ছবির বিভিন্ন চরিত্রে সিয়াম-পরীমনি ছাড়াও অভিনয় করেন চম্পা, আলমগীর, ফজলুর রহমান বাবু, মুনিরা মিঠু, আনন্দ খালেদ ও খালেদ হোসেন সুজন। ইমরান-কনা ছাড়াও সেখানে একটি গানে কণ্ঠ দেন প্রীতম হাসান।

ট্যাগ:

বিনোদন
আলোচনায় সুরিয়ার ‘জয় ভীম’

banglanewspaper

এ বছর অস্কার পুরস্কারের জন্য ভারতীয় ছবি হিসাবে মনোনীত হয়নি তামিল ছবি ‘জয় ভীম’। যদিও দক্ষিণী সুপারস্টার সুরিয়া অভিনীত এই ছবি প্রশংসা কুড়িয়েছে সমালোচক থেকে শুরু করে সাধারণ দর্শকের। সম্প্রতি ওয়ার্ল্ড সিনেমার মানচিত্রেও ভারতের নাম উজ্জ্বল করেছে ছবিটি।

অ্যাকাডেমির তরফ থেকে তাদের অফিসিয়াল ইউটিউব হ্যান্ডেলে ফিল্মটির একটি দৃশ্য আপলোড করা হয়েছে। এর ফলে ‘সিন অ্যাট দ্য অ্যাকাডেমি’ সিরিজে জায়গা করে নিয়েছে ‘জয় ভীম’-এর ওই দৃশ্য।

অ্যাকাডেমি বিশ্বব্যাপী তাদের সদস্যদের জন্য ‘সিনে অ্যাট দ্য একাডেমি’ নামে একটি বিশেষ বিভাগ পরিচালনা করে। যেখানে তারা একটি সূক্ষ্মভাবে শুট করা দৃশ্য প্রদর্শন করে, যা চলচ্চিত্র নির্মাণের গুরুত্বের কথা বলে এবং বিশ্বকে পরিবর্তন করার সম্ভাবনার সঙ্গে সিনেমা কীভাবে গল্প বলার একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে তা তুলে ধরে।

তাদের ওয়েবসাইটে এই বিভাগটি সম্পর্কে লেখা রয়েছে, ‘অ্যাকাডেমির দৃশ্য হল এক্সক্লুসিভ বিষয়বস্তু তৈরি করার একটি সুযোগ- চলচ্চিত্রের পেছনে চলচ্চিত্র নির্মাণ এবং সৃজনশীল প্রক্রিয়াকে অ্যাকাডেমির বিশ্বব্যাপী সদস্য এবং ভক্তদের কাছে তুলে ধরা।’

‘জয় ভীম’ প্রথম তামিল ছবি, যেটি অ্যাকাডেমির দ্বারা এমন একটি সম্মান পেয়েছে এবং সুরিয়া প্রথম তামিল তারকা যার ছবি এই সম্মান পেয়েছে। জয় ভীমের এহেন সাফল্যে সুরিয়ার অনুরাগীরা তাদের পছন্দের তারকা ও ছবির টিমকে সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছে।

‘জয় ভীম’-এ, সুরিয়া একজন আইনজীবীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন, যিনি আদিবাসীদের পক্ষে আদালতে লড়েন এবং নিপীড়িত লোকদের জাল অভিযোগে ফাঁসানোর জন্য সিস্টেমের বিরুদ্ধে দাঁড়ান। ছবিতে এক বিশেষ গোষ্ঠীর একটি পরিবারের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। সাপুড়ে পরিবারের একটি লোককে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয় এবং পুলিশের অত্যাচারে জেল হেফাজতেই সে মারা যায়।

ওই সাপুড়ের গর্ভবতী স্ত্রী ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য অনেকের কাছে যান। অবশেষে তাকে সাহায্য করেন আইনজীবী সুরিয়া। নির্যাতিতদের কণ্ঠস্বর হওয়ার জন্য ছবিটি সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। ‘জয় ভীম’ পরিচালনা করেছেন টি জে জ্ঞানভেল।

ট্যাগ:

বিনোদন
সুসংবাদের পর এবার ন্যান্সি-ভক্তদের জন্য দুঃসংবাদ

banglanewspaper

কয়েকদিন আগেই অনুরাগীদের সুসংবাদ দেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত গায়িকা নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি। জানান, তিনি তৃতীয় সন্তানের মা হতে চলেছেন। এবার জানা গেল দুঃসংবাদ। জনপ্রিয় এই গায়িকা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। যদিও তিনি দুই ডোজ টিকাই নিয়েছিলেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় এই দুঃসংবাদ জানিয়েছেন ন্যান্সির বর্তমান স্বামী গীতিকার মহসিন মেহেদী। তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘কয়েকদিন ধরে জ্বর ছিল ন্যান্সির। আমরা অনুমান করছিলাম যে করোনা হতে পারে, তাই পরীক্ষা করাই। মঙ্গলবার সেই রিপোর্ট পজিটিভ আসে।’

মহসিন জানান, ন্যান্সির শরীরে বর্তমানে জ্বর বা কোনো উপসর্গ নেই। তবুও তিনি পুরোপুরি বিশ্রামে রয়েছেন। গীতিকার আরও বলেন, ‘আমাদের পরিবারের অন্যরা কেউ আক্রান্ত হয়নি। কারও উপসর্গও দেখা দেয়নি। কোনো ধরনের উপসর্গ দেখা দিলেই পরীক্ষা করাব।’

গত বছরের আগস্টে গীতিকার মহসিন মেহেদীকে বিয়ে করেন গায়িকা ন্যান্সি। সম্প্রতি ফেসবুকে লম্বা একটি স্ট্যাটাস দিয়ে ন্যান্সি জানান, তিনি মা হতে যাচ্ছেন। এর আগে দুটি বিয়ে করেন এই গায়িকা। সেই দুই সংসারে তার রোদেলা ও নায়লা নামে দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

ট্যাগ: