banglanewspaper

সর্বাধিক ঝুঁকিতে থাকা মানুষ ও ব্যবসা সুরক্ষায় সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে করোনা মহামারি তার দেশে বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারেনি বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার নিউইয়র্কভিত্তিক জনপ্রিয় সাময়িকী ফরচুনে প্রকাশিত এক নিবন্ধে প্রধানমন্ত্রী লিখেন, ‘বাংলাদেশ কোভিড-১৯ এর শিকার হতে পারত। কিন্তু আমরা আমাদের সর্বাধিক ঝুঁকিতে থাকা জনগণ ও ব্যবসাগুলোর সুরক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।’

নিচে শেখ হাসিনার সম্পূর্ণ নিবন্ধটির অনুবাদ তুলে ধরা হলো:

যাদের সবচেয়ে বেশি সহায়তার প্রয়োজন তাদের সাহায্য করার মাধ্যমে আমরা কোভিড-১৯ এর অভিঘাত মোকাবিলা করেছি। বাংলাদেশও কোভিড-১৯ মহামারির শিকার হতে পারত। কিন্তু আমরা ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠী ও ব্যবসা উভয়কে সুরক্ষিত করতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করি। এর ফলে, মহামারিটি বাংলাদেশে অন্যান্য দেশের মতো মারাত্মকভাবে আঘাত হানতে পারেনি। আমরা এই মহামারি থেকে খুব দ্রুত উত্তরণ করছি এবং এক দশক আগে আমাদের যে অর্থনৈতিক পুনরুত্থান ঘটেছিল, তা সচল রেখে একটি ভালো অবস্থানে পৌঁছতে সক্ষম হই।

কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমাদের প্রচেষ্টা ছিল, মানুষের চাহিদার দিকে লক্ষ্য রেখে জীবন ও জীবিকার মধ্যে সমন্বয় করা এবং এরপর ব্যবসাগুলোকে প্রণোদনা দেওয়া- যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।

গত বছর মহামারির শুরুতে, সরকার হত-দরিদ্র, প্রতিবন্ধী, বয়োজ্যেষ্ঠ, অভিবাসী ও নিঃস-অসহায় নারীদের ত্রাণ দিয়েছে। আমরা খুব দ্রুত চার কোটি বা দেশের এক চতুর্থাংশ মানুষের মাঝে অর্থ বিতরণসহ বিভিন্ন সহায়তা দিই। মোট ২২.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা আমাদের জিডিপির প্রায় ৬.২ শতাংশের এই সহায়তা ২৮টি পৃথক প্রণোদনা প্যাকেজের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও আমরা আরও কয়েকশ কোটি মার্কিন ডলার ভ্যাকসিন ক্রয় ও অন্যান্য জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যয় করেছি।

ওমিক্রন ধরন এলে আমাদের প্রতিটি সিদ্ধান্তের প্রতি জনগণের সমর্থন অব্যহত থাকবে।

সরকারের নীতি হচ্ছে- ‘কেউ ক্ষুধার্ত থাকবে না।’ এই নীতির আলোকে ১৬.৮ মিলিয়ন পরিবারকে চাল, শিশু-খাদ্য ও নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে। আমরা বয়স্ক, অক্ষম ও নিঃস্ব-অসহায় নারীদের এই অর্থ প্রদান করা হয়েছে।

আমার বাবা- এ দেশের জাতির পিতা ও প্রথম রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী স্মরণে মহামারির আগেই আমরা গৃহহীনদের জন্য বাড়ি নির্মাণকাজ সম্প্রসারিত করি। কার্যক্রমটি মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমাদের ব্যাপক অবদান রাখে।

এছাড়াও সরকার করোনাকালে ক্ষুদ্র ব্যবসা ও এর কর্মীদের নানাভাবে সহায়তা দিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ায়। আমরা ক্ষুদ্র-ব্যবসায়ী উদ্যোক্তা, বিশেষত নারী ও কৃষকদের সহজ শর্তে ঋণ দিয়েছি। পর্যটন শিল্পের কর্মীদেরও সরকার সহজ শর্তে ঋণ দিয়েছে। করোনার কারণে শাটডাউনে এ শিল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বড় ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলোও সহয়তা পেয়েছে: তৈরি পোশাক খাতের মতো রপ্তানি-সংশ্লিষ্ট ব্যবসার কর্মীদেরও আমরা কয়েকশ কোটি ডলার দিয়েছি।

কর্মীদের আর্থিক বোঝা লাঘবের জন্য, ওই ঋণগুলোর সুদ ঋণ-গ্রহীতা ও সরকারের মাঝে ভাগ করে নেয়া হয়। গত বছর দুই মাসের জন্য এবং এরপর পরবর্তী ১২ মাসের জন্য বাণিজ্যিক ঋণের সকল সুদকে বস্তুত মওকুফ করে দেওয়া হয়।

অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও সামাজিক দূরত্বের নির্দেশ চালু করে, মুখ ঢাকা রাখার নির্দেশ দেয় এবং গত বছরের মার্চের শেষ থেকে জুনের শুরু পর্যন্ত ৬৬ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করে। শিল্প উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। ছোট এবং মাঝারি আকারের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়। বৈশ্বিক লকডাউন চাহিদা হ্রাস করে এবং আমাদের পুরো অর্থনীতিকে নাড়িয়ে দেয়। যাইহোক, আমরা কখনও নিজেদের উপর বিশ্বাস হারাইনি এবং আমাদের জনগণকে সক্রিয় রেখেছি। আমরা পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করেছি। সংক্রমিত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে যারা গেয়েছে তাদের চিহ্নিত করেছি। আমরা সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে আইসোলেশন সুবিধা স্থাপন করেছি। আমরা ছয় হাজার ২০০ ডাক্তার, ১০ হাজার নার্স এবং তিন হাজার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা কর্মী নিয়োগ করেছি। পরিশেষে এটাও ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য যে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও আমরা এই বছরগুলোতে স্থানীয় পর্যায়ে বিনিয়োগের মাধ্যমে আমাদের স্বাস্থ্যসেবা টেকসই রাখতে পেরেছি। নতুন উদ্যোগ এবং অতীতের বিনিয়োগের সংমিশ্রণ অগণিত জীবন বাঁচিয়েছে এবং আমাদের অর্থনীতি এই প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলায় সক্ষম হয়েছে। গত বছরের নভেম্বর থেকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রায় দুই শতাংশ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের পাঁচটি দ্রুততম ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির মধ্যে একটি।

গত ১০ বছরেরও বেশি সময় বাংলাদেশ তার দারিদ্র্য হার ৩১.৫% থেকে ২০.৫% এ নামিয়ে এনেছে। আমাদের প্রতি ২০২১ অর্থবছরে মাথাপিছু আয় এক দশকে তিনগুণ বেড়ে ২,২২৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আমাদের প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে বেশি। আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ সর্বকালের সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। মহামারি আমাদের অগ্রগতিতে বাধা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

প্রকৃতপক্ষে, যাদের সাহায্যের প্রয়োজন ছিল তাদের সাহায্য করার প্রতি আমাদের নিরলস মনোযোগ স্পষ্টভাবে সুফল প্রদান করেছে। আমরা বিশেষভাবে গর্বিত যে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) ২০১৪ সাল থেকে রাজনীতিতে নারী ক্ষমতায়নে আঞ্চলিক প্রতিবেশীদের পেছনে রেখে বাংলাদেশকে সপ্তম স্থানে মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছে। আমাদের শিশু মৃত্যুর হার প্রতি এক হাজারে ২৩.৬৭ এ নামিয়ে আনা হয়েছে। মাতৃ মৃত্যুর হার হ্রাস পেয়েছে প্রতি লাখে ১৭৩ এ নেমে এসেছে। বাংলাদেশীদের গড় দীর্ঘায়ু বেড়েছে ৭৩ বছর।

বাংলাদেশ ডিজিটাল পদ্ধতি গ্রহণ এবং অভিজ্ঞতা অর্জনে বাংলাদেশ বিশ্ব নেতায় পরিণত হয়েছে। আমাদের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ উদ্যোগ অর্থনীতিকে রূপান্তর এবং বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে। এটি কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে লড়াইকে সহজ করে তুলেছে, অন্যথায় হতো না। অধিকাংশ বাংলাদেশিরা এখন তাদের স্মার্টফোনের ওপর নির্ভর করে। এর ফলে প্রতি মিনিটে মহামারি সম্পর্কে তাদের অবহিত রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে অন্যতম দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে একটি হতে অনেক দূর পাড়ি দিয়ে এসেছে এবং এ বছর নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জন করছে। এখন আমরা ২০২৬ সালের মধ্যে জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশে উত্তরণের পথে রয়েছি। গত এক শ’ বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ মহামারি সত্ত্বেও এসব অর্জন সম্ভব হয়েছে। মানুষের সম্পৃক্ততাই এই পরিবর্তনকে সম্ভব করেছে। সূত্র: বাসস

ট্যাগ: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয়
বঙ্গোপসাগরে ডুবলো গমভর্তি জাহাজ

banglanewspaper

প্রায় ১ হাজার ৬০০ টন গমসহ বঙ্গোপসাগরে ডুবে গেছে লাইটার জাহাজ ‘এমভি তামিম’। বুধবার (১৮ মে) বিকেল ৩টার দিকে জাহাজটি রামগতি পাইলট বিচের নিচে তিল্লার চর এলাকায় ডুবে যায়।

আগের দিন মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থানরত বড় জাহাজ ‘এমভি প্রোফেল গ্রিজ’ থেকে গম বোঝাই করে ঢাকার নাবিল অটো ফ্লাওয়ার মিলের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিল জাহাজটি।গমগুলোর মূল্য প্রায় ৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। দুর্ঘটনার পর জাহাজটির ১২ জন নাবিককে অপর একটি জাহাজ উদ্ধার করেছে।

এমভি তামিম জাহাজটি ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের (ডব্লিউটিসি) সিরিয়ালে পরিচালনা করছিল সমতা শিপিং অ্যান্ড লজিস্টিকস। 

সমতার কর্মকর্তা জামাল হোসেন সাংবাদিকদের জানান, চলার পথে পানির নিচে অদৃশ্য বস্তুর সঙ্গে লেগে জাহাজের সামনের হেজ ফেটে যায়। এ সময় হেজে পানি ঢুকে যায়। পরে মাঝের ও সামনের হেজেও পানি ঢুকে জাহাজটি ডুবে যায়। নাবিকদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।  

ট্যাগ:

জাতীয়
হজযাত্রী নিবন্ধনের সময় বাড়লো ৪ দিন

banglanewspaper

হজযাত্রী নিবন্ধনের সময় বাড়িয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। বুধবার (১৮ মে) জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকারি-বেসরকারি হজযাত্রী নিবন্ধনের সময় বাড়লো আরও চারদিন। আগের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আজ (১৮ মে) বুধবারই নিবন্ধন শেষ হওয়ার কথা ছিলো। সময় বাড়ানোর ফলে আগামী ২২ মে (রোববার) পর্যন্ত নিবন্ধনের সময় পাবেন হজযাত্রীরা। গত সোমবার (১৬ মে) সরকারি-বেসরকারি হজযাত্রী নিবন্ধন শুরু হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, ২০২২ সালের জন্য সরকারি ও বেসরকারি উভয় ব্যবস্থাপনার নিবন্ধন কার্যক্রম আগামী ২২ মে পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হলো।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিশেষভাবে দ্রষ্টব্য যে, আগামী শনিবার (২১ মে) হজ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখা নিবন্ধনের অর্থ গ্রহণ করবে।

এর আগে, নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তিতে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, সরকারি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ২০২০ সালের নিবন্ধিত সব হজযাত্রী ও প্রাক-নিবন্ধনের সর্বশেষ ক্রমিক নম্বর ২৫ হাজার ৯২৪ পর্যন্ত এ বছর হজের নিবন্ধনের আওতায় আসবেন। বেসরকারি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ২০২০ সালের সব নিবন্ধিত ব্যক্তি এবার নিবন্ধনের আওতায় আসবেন।

হজযাত্রী নিবন্ধনের জন্য আবশ্যিকভাবে পাসপোর্ট থাকতে হবে। পাসপোর্ট স্ক্যান করে নিবন্ধন তথ্য পূরণ করতে হবে। হজযাত্রীর পাসপোর্টের মেয়াদ হজের দিন থেকে পরবর্তী ছয় মাস অর্থাৎ ২০২৩ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত থাকতে হবে। হজযাত্রীর দাখিল করা পাসপোর্টের যথার্থতা অনলাইনে যাচাই করা হবে।

নিবন্ধনের পর কোনো হজযাত্রী হজে যেতে না পারলে শুধু বিমান ভাড়া ও খাবার বাবদ নেওয়া টাকা ফেরত পাবেন। তবে বিমানের টিকিট নিশ্চিত হওয়ার পর হজযাত্রা বাতিল করলে বিমান টিকিটের টাকা ফেরত পাওয়া যাবে না বলে জানিয়েছিল ধর্ম মন্ত্রণালয়।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৮ জুলাই সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। এবার বাংলাদেশ থেকে ৫৭ হাজার ৫৮৫ জন হজ পালনের সুযোগ পাবেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫৩ হাজার ৫৮৫ জন হজে যেতে পারবেন।

সরকারিভাবে হজে যেতে প্যাকেজ-১ এ ৫ লাখ ২৭ হাজার ৩৪০ এবং প্যাকেজ-২ এ ৪ লাখ ৬২ হাজার ১৫০ টাকা খরচ ধরা হয়েছে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে প্যাকেজে খরচ ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৬৩০ টাকা।

বেসরকারিভাবে এজেন্সিগুলোর 'সাধারণ প্যাকেজ'র মাধ্যমে হজ পালনে খরচ হবে ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৭৪৪ টাকা।

ট্যাগ:

জাতীয়
দেশে এখন আন্তর্জাতিক মানের চক্ষুসেবা দেয়া হয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

banglanewspaper

দেশে চক্ষু চিকিৎসা অনেক এগিয়েছে দাবি করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, ‘চক্ষু চিকিৎসায় আমাদের দুটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যেখানে আন্তর্জাতিক মানের চোখের সেবা দেওয়া হয়। তবে আমাদের জনবলে ঘাটতি আছে।’ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আরও তৈরি ও চক্ষু চিকিৎসায় উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি। 

বুধবার (১৮ মে) রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে বাংলাদেশ চক্ষু চিকিৎসক সমিতির (ওএসবি) ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। 

ডায়াবেটিসের কারণে চোখের সমস্যা বাড়ছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পুষ্টির ঘাটতি, উচ্চরক্তচাপ ও চোখের সমস্যার অন্যতম কারণ। এসব বিষয়ে জনগণকে সচেতন হতে হবে। কর্ণিয়াসহ অঙ্গ ডোনেশনে ঘাটতি রয়েছে। এখনো ছানির কারণে অনেকে অন্ধত্ব বরণ করে। আমরা তা জানাতে জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছি। অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। অনেক ঘাটতি আছে, এরপরেও এসব রোগে অধিক নজর দেওয়া হচ্ছে।’ 

স্বাস্থ্য খাতে সরকার অভূতপূর্ব উন্নতি করেছে দাবি করে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশে ১৩ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে তৃণমূলে স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছেছে। ইপিআই কর্মসূচি সারা বিশ্বে প্রশংসিত। টিকা কার্যক্রমের সফলতায় করোনা এখন নিয়ন্ত্রণে।’

উপজেলা পর্যায়ের মানুষ বিশেষজ্ঞ সেবা মিলছে। ১০০টি উপজেলায় ভিশন সেন্টার আছে। পর্যায়ক্রমে সব কয়টি উপজেলায় করা হবে। অবকাঠামো, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী সবই দেওয়া হবে। 

জাহিদ মালেক বলেন, ‘করোনার শুরুতে অনেক সমালোচনা হলেও সবাই এখন প্রশংসা করে। গত এক মাসে ভাইরাসটিতেন একজনও মারা যায়নি। জিডিপি আজ ৬ শতাংশ। এখন যেকোনো দেশে যেতে পারি, করোনার সার্টিফিকেটও লাগে না।’ 

করোনা নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ আমেরিকার থেকেও এগিয়ে মন্তব্য করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অন্য যেকোনো দিকে পিছিয়ে থাকলেও বাংলাদেশ এদিকে এগিয়ে আছে। বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিশ্বে উন্নত হয়েছে। তারা বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা জানতে চেয়েছে। তারা আমাদের অভিজ্ঞতা সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে দিতে চায়।’ 

আট বিভাগে আটটি হাসপাতালের কার্যক্রম চলমান আছে ৷ এসব বিভাগে বার্ন হাসপাতাল হচ্ছে। এ বছরেই জেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস ও আইসিইউ বেড চালু হবে। এ জন্য চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সহযোগিতা দরকার। চারটি নতুন মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন হবে। এসব প্রস্তাব একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলেও জানান তিনি। 

ট্যাগ:

জাতীয়
বঙ্গবন্ধু বায়োপিকের ট্রেইলার উদ্বোধনে ফ্রান্সের পথে তথ্যমন্ত্রী

banglanewspaper

বিশ্বের শীর্ষ চলচ্চিত্র উৎসব কান ফেস্টিভ্যালের ৭৫তম আসরে ‘মুজিব : একটি জাতির রূপকার’ (Mujib : The Making of a Nation) চলচ্চিত্রের ট্রেইলার উদ্বোধনে যোগ দিতে মঙ্গলবার রাতে ফ্রান্সের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। 

১৭ মে থেকে শুরু হওয়া কান চলচ্চিত্র উৎসবে ‘মার্শে দ্যু ফিল্ম’ নামে বিশ্ব চলচ্চিত্রের ব্যস্ততম বাণিজ্যিক শাখায় বৃহস্পতিবার (১৯ মে) ভারতীয় প্যাভিলিয়নে এ অনুষ্ঠান হবে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও কর্মের ওপর বাংলাদেশ-ভারত যৌথ উদ্যোগে নির্মিত এই বায়োপিকের ট্রেইলার উদ্বোধনে অংশ নেবেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, ভারতের তথ্য ও সম্প্রচার এবং যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া মন্ত্রী অনুরাগ সিং ঠাকুর, বায়োপিকের পরিচালক শ্যাম বেনেগাল, চিত্রনাট্যকার অতুল তিওয়ারি ও শামা জায়েদি, মুখ্য অভিনয় শিল্পীরা এবং কর্মকর্তাবৃন্দ। 

বায়োপিকের নির্বাহী প্রযোজক ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএফডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত ইয়াসমিন, বাংলাদেশ অংশের কাস্টিং পরিচালক বাহার উদ্দিন খেলন, বিএফডিসির পরিচালক মো: ঈশান আলী রাজা বাঙালী, উপসচিব মো: সাইফুল ইসলাম, বঙ্গবন্ধুর চরিত্রাভিনেতা আরেফিন শুভ, বঙ্গমাতার চরিত্রাভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা ও তার শিশুকন্যা ইলাহাম নুসরাত ফারুকী এ সফরে যোগ দিয়েছেন। 

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের শুরুতে সিনেমাটির চিত্রধারণ শুরু হয়। এ বছরেই ছবিটি মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। আরেফিন শুভ ও নুসরাত ইমরোজ তিশার পাশাপাশি শেখ হাসিনার চরিত্রে নুসরাত ফারিয়া, তাজউদ্দীন আহমদের চরিত্রে রিয়াজ আহমেদসহ প্রায় শতাধিক বাংলাদেশি এতে অভিনয় করেছেন।

ট্যাগ:

জাতীয়
সয়াবিন তেল শরীরের জন্য ক্ষতিকর, বললেন বাণিজ্যমন্ত্রী

banglanewspaper

আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সয়াবিন তেলের নির্ভরশীলতা কমাতে দেশীয় যোগানের রাইস ব্রান ও সরিষার তেলের উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বলেন, দেশে এখন রাইস ব্র্যান ৫০ থেকে ৬০ হাজার টন উৎপাদন হয়। এটিকে সাত লাখ টনে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। সেটি করতে পারলে মোট চাহিদার ২৫ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হবে। তা ছাড়া সয়াবিনের চেয়ে রাইস ব্র্যান ভালো। সয়াবিন তেল শরীরের জন্য ক্ষতিকর।

বুধবার (১৮ মে) দুপুরে দ্রব্যমূল্য ও বাজার মনিটরিং সংক্রান্ত টাস্কফোর্স কমিটির দ্বিতীয় সভার বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মন্ত্রী এসব কথা বলেন তিনি।  এ সময় মন্ত্রী সয়াবিন তেল, গম ও লবণ নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা ও বাজার পরিস্থিতি তুলে ধরেন। 

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশে যে ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে, তা আশপাশের দেশের তুলনায় কম। আশপাশের দেশের সঙ্গে বাংলাদেশে ভোজ্যতেলের দামের তুলনা করতে সাংবাদিকদের অনুরোধ জানান তিনি।

আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দাম বাড়ার কারণে অভ্যন্তরীণ বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে। এই সংকট সরকার এবং ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের মিলেমিশে সমাধান করতে হবে বলে মনে করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। 

টিপ মুনশি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির ফলে দেশের বাজারে সয়াবিনের দাম বেড়েছে। এখন আলোচনায় এসেছে এর বিকল্প কি করা যেতে পারে। রাইস ব্র্যান অয়েল নিয়ে ভাবছি। এক পর্যালোচনায়  দেখা গেছে ধানের কুড়া পাওয়া যায় তা থেকে সাত লাখ টন তেল উৎপাদন সম্ভব। বর্তমানে ৬০ হাজার টন রাইস ব্র্যান অয়েল উৎপাদন হয় যার কিছু অংশ দেশে বিক্রি হয়, কিছু রফতানি হয়। এখন অভ্যন্তরীণ বাজারের জন্য উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপার।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, খবর রটেছে যে, ভারত গম রফতানি বন্ধ করেছে। কিন্তু আমি হাইকমিশনের সঙ্গে আলাপ করে জেনেছি- বাংলাদেশের জন্য রফতানি বন্ধ হয়নি। জিটুজি ভিত্তিতে আমদানি চালু রয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়ে বাংলাদেশি কোনো ব্যবসায়ী আমদানি করতে চাইলে সেই সুযোগ করে দেওয়া হবে। এছাড়া দেশে গমের বর্তমান যে মজুদ রয়েছে তা দিয়ে সহসা কোনো সংকট হওয়ার কথা নয়।

ট্যাগ: