banglanewspaper

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী দাবি করেছেন, তিনি নিজ দলের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানকে গডফাদার বলেননি, এটা তার ৩০ বছরের উপাধি।

রবিবার নারায়ণগঞ্জের বন্দর খেয়াঘাট এলাকায় গণসংযোগকালে আইভী সাংবাদিকদের এই কথা বলেন।

শনিবার গণসংযোগকালে আইভী দাবি করেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার গডফাদার শামীম ওসমান এবং তার ভাই সেলিম ওসমানের প্রার্থী। তৈমূর বিএনপির বা স্বতন্ত্র প্রার্থী নন। তার এই মন্তব্যে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শামীম ওসমান। এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানাতে সংবাদ সম্মেলনে আসবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন আলোচিত এই সাংসদ।

এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইভী বলেন, ‘আমি উনাকে (শামীম ওসমান) গডফাদার উপাধি দিইনি। এটা উনার বিগত ৩০ বছরের উপাধি। শুধু নারায়ণগঞ্জ নয়, তাকে সারা বাংলাদেশ জানে। আওয়ামী লীগ একটি বৃহত্তর দল, এখানে সবারই স্থান আছে। এই দলে জনপ্রিয় মানুষের যেমন স্থান আছে তেমনি বিতর্কিত মানুষেরও স্থান আছে। উনি আমার দলের লোক, সমর্থন দিলে দেবেন না দিলে না দেবেন। জনতাই আমার ক্ষমতা। আমাকে উনি অপছন্দ করতেই পারেন। আমি আমার বড় ভাইকে সম্মান রেখে বহুবার বলেছি, উনি যদি উনার দায়িত্ব পালন না করেন সেখানে আমার কিছু করার নেই। তারা ষড়যন্ত্র করবে কিন্তু তাদের ধ্বংস করে দেবে জনগণ।’

আইভী বলেন, ‘তৈমূর আলমের চারপাশে এখনো বিএনপির লোকজন আছে। এখন আবার জাতীয় পার্টি যুক্ত হয়েছে। আবার আমাদের নারায়ণগঞ্জের কথিত গডফাদার শামীম ওসমানের লোকজনও যুক্ত হয়েছে। সম্ভবত উনি বিএনপির প্রার্থী নন, আমার মনে হয় উনি সেলিম ওসমান ও শামীম ওসমানের প্রার্থী।’

নৌকার প্রার্থী বলেন, ‘আমি কখনোই বহিরাগত দিয়ে কিছু করি না। এই স্বভাব আমার রক্তেই নেই। আমার সাথে যারা থাকে তারা প্রতিদিন নিজের পয়সা খরচ করে, নিজের খেয়ে কাজ করছে। তাদের প্রত্যেকের সাথেই আমার আত্মিক সম্পর্ক। এই শহরের মানুষের সাথে আমার হৃদয়ের সম্পর্ক।’

তৈমূর আলম কখনো এই শহরবাসীর কাছে আসেননি দাবি করে আইভী বলেন, ‘তৈমূর আলম একটা রাজনীতি করেছেন, কিন্তু তৃণমূলে গিয়ে কখনোই মিশেননি। আমাকে আল্লাহ একটা সুযোগ করে দিয়েছিল, আমি তিন তিনবারের মেয়র। দরজা থেকে দরজা পর্যন্ত মানুষের সম্পর্কে জানা আছে। নির্বাচনের সময় অভিযোগ করতে হয় বলে তৈমূল আলম অভিযোগ করছেন। তার বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই। আমার জনসমর্থন কতটুকু এটা তৈমূর আলম নিজে জানেন। উনি ব্যক্তিগতভাবে আমার বাবা (আলি আহম্মদ চুনকা) জনপ্রিয়তা ও তার জনসমর্থন সম্পর্কে জানেন। বিগত ১৮ বছর ধরে আমার যে জনপ্রিয়তা সেটার সম্পর্কেও তিনি জানেন। এখন উনি নির্বাচনে দাঁড়িয়েছে বলে এসব অসত্য-মিথ্যা কথাগুলো বলছেন।’

এক প্রশ্নের জবাবে আইভী বলেন, ‘পুলিশ কী করছে তা আমি জানি না। আমি দিনভর সাধারণ মানুষের সাথে থাকি। তাদের কাছে ভোট ভিক্ষা চাচ্ছি। যারা খারাপ তাদের কোনো দল নেই। যারা মাদক ব্যবসায়ী, যারা চাঁদাবাজি-ছিনতাই করে তাদেরকে তো পুলিশ ধরবেই।’

আইভী বলেন, ‘সবাই জনগণ হতে চায়, জনগণের প্রার্থী হতে চায়। ২০১১ সালে আইভীও ছিল জনতার প্রার্থী, এখনো আইভী সেই অবস্থানে আছে। দল, জনতা সবকিছুই মিলিয়ে আইভীই জনতার প্রার্থী। আমি জানি না উনি (তৈমূর) জনতার প্রার্থী কি না। উনার চারপাশে যারা আছেন তারা সবাই আমাদের শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমানের লোকজন। সুতরাং তৈমূর আলম দাবি করতে পারেন না উনি জনতার প্রাথী। উনি প্রকৃত অর্থে ওসমান ভ্রাতৃদ্বয়ের প্রার্থী। উনার কর্মকাণ্ড ও গতিবিধি সবকিছুতেই প্রমাণ করছে পেছনে কলকাঠি কে নাড়ছে। জাতীয় পার্টির চারজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান উনার জন্য প্রচার করেছেন। এরপরও কি উনি বলবেন উনি কারো প্রার্থী না, কোনো পরিবারের প্রার্থী না। তৈমূর আলম তাদের দ্বারাই পরিচালিত হচ্ছেন।’

আওয়ামী লীগের প্রার্থী আইভী বলেন, ‘কেন্দ্র যেহেতু সবকিছু দেখছেন, তারা অবগত। কেন্দ্র তাদের ব্যবস্থা নেবে, কেন্দ্র কী করবে সেটা তাদের ব্যক্তিগত। কিন্তু আমার বিষয় হলো আমার জনগণ। আমার জনগণ কখনো কোনো সন্ত্রাসী, গডফাদার, চাঁদাবাজ ও খুনিকে গ্রহণ করেনি। নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সেটা বারবার প্রমাণিত হয়েছে। সুতরাং আমার নারায়ণগঞ্জের জনতা এবং জনগণ এগুলো কখনোই গ্রহণ করেনি এবং করবেও না। কেন্দ্র কেন্দ্রের কাজ করবে, দল দলের কাজ করবে এবং জনতা জনতার কাজ করবে।’

ভোটের মাঠ তার দখলে জানিয়ে আইভী বলেন, ‘আমার দখলে বলতে আমি এটা বোঝাচ্ছি, সিদ্ধিরগঞ্জ, বন্দর ও নারায়ণগঞ্জের ভোটাররা আমার কথা বলে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আমার কথা বলে। আমার বিরুদ্ধে প্রচুর অপপ্রচার চালানো হয়েছে, বিভ্রান্ত ছড়ানো হয়েছে, ধর্মীয় ব্যাপারে উস্কানি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনোটাই কাজ হবে না। আগেও হয়নি, ভবিষ্যতেও হবে না। আমি মসজিদের কাজ করেছি, মন্দিরের কাজ করেছি, শশ্মানের কাজ করেছি।’

ট্যাগ: নারায়ণগঞ্জ

রাজনীতি
‘ইসি গঠন আইন নিয়ে বিএনপি জনগণকে বিভ্রান্ত করছে’

banglanewspaper

রাজনীতির মাঠে পরাজিত বিএনপি এখন নির্বাচন কমিশন গঠন আইন নিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে অপতৎপরতায় লিপ্ত হয়েছে বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

রবিবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এই দাবি করেন।

দলের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এই আইনকে শুধু নয়, তারা বরাবরের মতো নির্বাচন ও নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পাঁয়তারা করছে। তারই ধারাবাহিকতায় নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার লক্ষ্যে প্রচুর পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ ও বিদেশে লবিস্ট নিয়োগ মাধ্যমে ষড়যন্ত্রের নতুন নতুন নাটক মঞ্চায়ন করেও বিএনপির মরা গাঙ্গের খরা কাটেনি। তাই তারা উদ্ভ্রান্তের মতো প্রলাপ বকতে শুরু করেছে।’ বিএনপি নেতাদের মিথ্যাচার এবং বিভ্রান্তিকর মন্তব্য পরিহার করে দায়িত্বশীল আচরণ ও বক্তব্য দিতে আহ্বান জানান কাদের।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘দীর্ঘ দিন ধরে নির্বাচন কমিশন গঠনে একটি আইন প্রণয়নের দাবি সর্বমহল থেকে উঠে এসেছে। দেশের সব রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশন নিয়োগ আইন-২০২২’ নামে আইনের একটি খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দিয়েছে। আইন প্রণয়নের উদ্যোগকে ইতিমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে স্বাগত জানানো হয়েছে।’

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘এই আইন পাসের মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে জটিলতা নিরসনে সমাধানের স্থায়ী পথ উন্মুক্ত হতে চলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় মহান জাতীয় সংসদে বিলটি উত্থাপিত হয়েছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন গঠন আইন সম্পর্কিত বিলটির ওপর জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব রাজনৈতিক দল আলোচনা করবে এবং নিজেদের মতামত দেবে। সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী আইন প্রণয়নের ক্ষমতা মহান জাতীয় সংসদের ওপর ন্যস্ত রয়েছে। সে মোতাবেক সংসদে উত্থাপিত বিলটি যথাযথ প্রক্রিয়া ও সাংবিধানিক রীতি-নীতির মধ্য দিয়েই পাস হবে বলে আশা রাখি।’

কাদের বলেন, ‘বিএনপি নেতৃবৃন্দ উত্থাপিত আইনটি সম্পর্কে সম্পূর্ণরূপে না জেনে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অভিপ্রায়ে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর মন্তব্য ও অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। কেননা গণতান্ত্রিক কাঠামো ও আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি তাদের কোনো শ্রদ্ধাবোধ নেই।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বন্দুকের নলের মুখে অসাংবিধানিক ও অবৈধ পন্থায় ক্ষমতা দখল করে যাদের নেতা নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করতে পারে, আইনি কাঠামোর প্রতি তাদের আস্থা থাকবে না এটাই স্বাভাবিক। সংবিধান ও আইন লঙ্ঘনের মধ্য দিয়ে যাদের জন্ম তাদের কাছে যেকোনো আইনি কাঠামোই তামাশা মনে হবে। কারফিউ মার্কা গণতন্ত্রের যে প্রহসনের বীজ তাদের অস্থিমজ্জায় প্রথিত তা থেকে এখনো তারা বেরিয়ে আসতে পারেনি।’

ট্যাগ:

রাজনীতি
বিএনপির সমর্থক হয়ে থাকব, অন্য দলে যাবো না: তৈমূর

banglanewspaper

সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে লড়ে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার পর দল থেকেও বহিষ্কার হয়েছেন অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। এ নিয়ে খুব বেশি আক্ষেপ না করে বললেন, ‘বিএনপি বহিষ্কার করলেও দল পরিবর্তন করব না, অন্য কোনো দলেও যোগ দেব না। দলের একজন অনুগত কর্মী হিসেবেই কাজ করে যাব।’

বুধবার নারায়ণগঞ্জ শহরের মাসদাইর এলাকায় নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

গত ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে হাতি প্রতীকে নির্বাচন করেন তৈমূর আলম খন্দকার। এই নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেওয়ায় তিনি স্বতন্ত্র হিসেবে অংশ নেন।

নির্বাচনের কয়েক দিন আগে তাকে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এরমধ্যে মঙ্গলবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারকে দল থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়।

চিঠিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপির গঠনতন্ত্র মোতাবেক দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পদ থেকে তৈমূর আলম খন্দকারকে বহিষ্কার করা হলো।

একই দিন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালকেও বহিষ্কার করা হয়। তিনি তৈমূর আলমের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, ‘বিএনপির যারা আমাকে নির্বাচন চলাকালে অব্যাহতি দিয়েছিল, এখন বহিষ্কার করেছে। এর অর্থ হলো তৈমূরকে ভোটটা দিও না। তারাই পল্টন অফিস থেকে আমার অনেক নেতাকে বলেছিল তৈমূরের পক্ষে যেও না। কিন্তু নারায়ণগঞ্জের বিএনপি তো ভোটটা দেবে, কাকে দেবে? তাদের কথায় প্রমাণ হয় ভোটটা নৌকায় যাবে, এটাই চেয়েছিল তারা। আমি ভাবতেও পারিনি দলীয় মহাসচিবের কথা কচুপাতার পানিতে পরিণত হবে। কারণ, মহাসচিব বলেছিলেন- দলগতভাবে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না, কিন্তু কেউ ব্যক্তিগতভাবে স্থানীয় নির্বাচনে গেলে দলের কোনো আপত্তি থাকবে না।’

নাম না উল্লেখ করে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় কেন্দ্রিক কিছু নেতার প্রতি ইঙ্গিত করে তৈমূর বলেন, ‘কেন্দ্র থেকে বা দল থেকে তো আমাকে একবারের জন্যও বলেনি আপনি নির্বাচন কইরেন না। তাহলে দলের যারা পল্টন অফিসে বসে নারায়ণগঞ্জের নেতাদের আমার নির্বাচনে যেতে নিষেধ করেছিল তারা অবশ্যই চেয়েছিল ভোটটা নৌকায় পড়ুক।‘

সামনের দিনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘দল আমাকে রাজপথের আন্দোলন সংগ্রাম থেকে মুক্তি দিয়েছে, এখন আমার সামনে দুটি কাজই খুঁজে পেয়েছি। একটি হল যাকে আমি মায়ের মতো শ্রদ্ধা করি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য এবং ভোট ডাকাতির মেশিন ইভিএমের বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টি করা।’

খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ করেন সদ্য বহিষ্কৃত এই বিএনপি নেতা। তিনি বলেন, আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনুরোধ করেবা তিনি যেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেন। ইতিহাসে আপনার নাম লেখা থাকবে। যদি অনুমতি না দেন, তবে কি বিপর্যয় হবে সেটা ভবিষ্যত বলে দেবে।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালকে বহিষ্কার প্রসঙ্গে তৈমূর বলেন, ‘আমার ক্ষেত্রে যা করার করেছে কিন্তু এটিএম কামালের মতো নেতাকে বহিষ্কার করা আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের শামিল। কারণ, বিএনপি করতে গিয়ে ত্যাগী এটিএম কামাল বহুবার মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছেন। আরেকজন এটিএম কামাল সৃষ্টি করা নারায়ণগঞ্জে খুবই কঠিন হবে।’

পরাজিত প্রার্থী তৈমূর বলেন, ‘অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান থাকবে কেউ ইভিএম মেনে নেবেন না। এটা ভোট ডাকাতের বাক্স। আমাদের দেশের আমলাতন্ত্র মেরুদণ্ডহীন। ঔপনিবেশিক প্রশাসনিক আমলের আদলে চলছে এখনো। তাদের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ ভূমিকা আশা করা যায় না। ইভিএমে নির্বাচনে গেলে কোনোভাবেই ভোট ডাকাতি রুখতে পারবে না জনগণ।’

তৈমূর বলেন, ‘আমি মনে করি রাজনীতি করতে গেলে একটা দল থাকতে হয়। কিন্তু পদ পদবি দরকার হয় না। ব্যক্তি ইমেজ ভালো থাকলে জনগণ এমনিতেই আপনার পাশে থাকবে। নির্বাচন কমিশন একটা মিথ্যার ফ্যাক্টরি, প্রশাসন একটা মিথ্যার ফ্যাক্টরি। জনগণ এখন মিথ্যার কষাঘাতে জর্জড়িত। এই মিথ্যার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোই হবে আমার কাজ। আমি জাতীয়তাবাদী ইসলামি মূল্যবোধে বিশ্বাসী। আমি না হয় বিএনপির কর্মী বা সমর্থক হয়ে থাকব। সমর্থককে তো আর বহিষ্কার করতে পারবে না। আমি বিএনপির সমৃদ্ধি কামনা করি, তারেক রহমানের বাংলাদেশে আগমন কামনা করি। তার সুস্বাস্থ্য কামনা করি। একই সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি কামনা করি।’

ট্যাগ:

রাজনীতি
দল থেকে তৈমূরকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি

banglanewspaper

বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) রাতে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ বহিষ্কার করা হয়।

চিঠিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকান্ডে জড়িত থাকার সুষ্পষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির গঠনতন্ত্র মোতাবেক আপনাকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে নির্দেশক্রমে বহিষ্কার করা হলো। এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।

দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের অংশ নিয়ে যেন কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হলেন অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার।

এর আগে দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালকে বহিস্কার করা হয়।

জানা যায়, গত ১৬ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্তভাবে নির্বাচনে অংশ নেন অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। আর এই বিষয়টিকে কেন্দ্রীয় বিএনপি সহজভাবে নিতে পারেনি।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীর জয়ে পরাভূত হয়েছেন স্বতস্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার।

নির্বাচনে মনোনয়ন পত্র দাখিলের পরপরেই জেলা বিএনপির আহবায়ক পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয় তৈমূর আলম খন্দকারকে। ভারপ্রাপ্ত আহবায়কের দায়িত্ব দেয়া হয় মনিরুল ইসলাম রবিকে।

সবশেষ গত ৩ জানুয়ারি বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পদ থেকেও প্রত্যাহার করা হয় তৈমূর আলম খন্দকারকে।

সেদিন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই তথ্য জানানো হয়। চিঠিতে তৈমূর আলম খন্দকারকে জানানো হয়, মাননীয় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিল সদস্য পদ থেকে আপনাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অবিলম্বে এই নির্দেশনা কার্যকর হবে।

সেসময় দলের এমন সিদ্ধান্তে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তৈমূর বলেছিলেন, দল থেকে আমাকে কিছু জানানো হয়নি। যদি এটা সত্য হয়ে থাকে, আলহামদুলিল্লাহ। আমি মনে করি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান একটা সময়োচিত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আমাকে জনগণের জন্য মুক্ত করে দিয়েছেন। এখন আমি রিকশাওয়ালাদের কাছে ফিরে যাব। ঠেলাগাড়িওয়ালাদের কাছে ফিরে যাব। আমি গণমানুষের কাছে ফিরে যাব। ’

কিন্তু তৈমূরের বিরুদ্ধে দলের এই ঘোষণাতেও নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকে ছেড়ে যায়নি। নির্বাচনের প্রচার প্রচারণা সহ বিভিন্ন কার্যক্রমে তৈমূরকে সঙ্গ দিয়েছেন। তার নির্বাচনী এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন। সেই সাথে তার প্রধান এজেন্ট হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল। যার পরিণতিতে এটিএম কামালকে দল থেকে বহিস্কার করে দেয়া হয়।

ট্যাগ:

রাজনীতি
নারায়ণগঞ্জে অপপ্রচারে বিশ্বাসীদের বিপর্যয় ঘটেছে: কাদের

banglanewspaper

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে নেতিবাচক ও উন্নয়নবিমুখ রাজনীতির চরম ভরাডুবি হয়েছে। ষড়যন্ত্র এবং অপপ্রচারের সংস্কৃতিতে যারা বিশ্বাসী তাদের বিপর্যয় ঘটেছে।’

রবিবার অনুষ্ঠিত নারয়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন পরবর্তী ব্রিফিংকালে সোমবার সকালে নিজ বাসভবনে ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন।

নির্বাচনে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও উৎসবমুখরতা সুস্পষ্টভাবে গণতন্ত্রের বিজয় উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চলমান গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার এ বিজয়।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ইভিএম-এ ভোট প্রদান এবং নির্বাচন কমিশনের যারা সমালোচনা করেছিল, তারা এখন গতকাল অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে সেরা নির্বাচন বলছেন। বছরের শুরুতেই একটি বড় নির্বাচন ছিল নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন।’

অংশগ্রহণমূলক, শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য জনগণ, নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান ওবায়দুল কাদের।

ট্যাগ:

রাজনীতি
‘ভাতিজি’ আইভীর মাথায় তৈমূরের স্নেহের হাত

banglanewspaper

দেশে নির্বাচনের আগে-পরে সহিংসতা যখন অনেকটা স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে তখন অনেকটা স্বস্তি দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এই নির্বাচনে সহিংসতা যেমন ছিল না তেমনি ছিল না গুরুতর অভিযোগও। এরমধ্যে ভোটের পরদিন সোমবার বিকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি করে সেলিনা হায়াৎ আইভী ও তৈমূর আলম খন্দকারের দুটি ছবি। একটি ছবিতে দেখা যায় মেয়র পদে পরাজিত তৈমূর আলম খন্দকারকে মিষ্টিমুখ করাচ্ছেন হ্যাট্রিক করা মেয়র আইভী। অনেকে ফেসবুকের টাইমলাইনে ছবিটি শেয়ার করে এমন উদ্যোগের প্রশংসা করছেন।

খানিক বাদে আরেকটি ছবি ভাইরাল হয় ফেসবুকে। যাতে দেখা যায় মিষ্টি মুখ করার পর পাশের চেয়ারে বসিয়ে ‘ভাতিজি’ আইভীর মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন বিএনপি নেতা তৈমূর আলম।

মেয়র আইভী বিকাল চারটার দিকে নেতাকর্মীদের নিয়ে শহরের মাসদাইর এলাকায় তৈমূরের বাসভবনে যান। সেখানে তারা একে অপরকে মিষ্টিমুখ করান। নগরের উন্নয়নে ‘চাচা’ তৈমূরকে পাশে চান আইভী। এসময় তিনিও ‘ভাতিজি’ আইভীর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।

দুটি ছবি ফেসবুকে অনেকে শেয়ার করে বলছেন, এমন ছবি ইতিবাচক রাজনীতির প্রতিকৃতি। কেউ বলছেন, রাজনৈতিক অঙ্গন ছবির মতো এমন সুন্দর দেখতে চান।

রবিবার নারায়ণগঞ্জ সিটিতে প্রথমবারের মতো ইভিএমে ভোটগ্রহণ হয়। সিটি করপোরেশনের ১৯২টি কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফলে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত আইভী নৌকা প্রতীকে পান এক লাখ ৫৯ হাজার ৯৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার হাতি প্রতীক নিয়ে পান ৯২ হাজার ১৬৬ ভোট। এ নিয়ে আইভী টানা তৃতীয়বার নারায়ণগঞ্জের মেয়র হলেন।

ট্যাগ: