banglanewspaper

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নিজেকে নিয়ে আলোচনার কারণ জানতে চেয়ে আলোচিত সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমান বলেছেন, ‘এখন আমার অবস্থা গরিবের ভাবির মতো। ও বলে আমি তার, সে বলে আমি তার।’

সোমবার দুপুরে সাম্প্রতিক নানা ইস্যু নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

শামীম ওসমান বলেন, ‘নির্বাচন এলেই আমাকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। নির্বাচনের সময় আমি কেনো সাবজেক্ট ম্যাটার (আলোচনার বিষয়) হবো, জানতে চাই।’

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, কোনো দল-মতের কারণে আমি রাজনীতিতে আসিনি। রাজনীতি করতে এসেছি জাতির পিতার হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে। রাজনীতি করতে এসেছি বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসে। আমি নৌকার বিরুদ্ধে না, নৌকা প্রতীক আমাদের রক্ত দিয়ে কেনা। আজ থেকে নৌকার হয়ে মাঠে নামলাম।

নারায়ণগঞ্জের এই আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ছাত্রলীগ, মহিলা লীগ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে। তারা আমার কাছে এসেছে, আমি তাদের আপ্যায়ন করেছি। টু বি অনেস্ট, আমি তখন নৌকার জন্য কাজ করিনি। আজ থেকে নৌকার পক্ষে নামলাম।

আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর পক্ষে কাজ না করায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টির দিকে ইঙ্গিত করে শামীম ওসমান বলেন, সামনে যে দিন আসছে, কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে। ছাত্রলীগের মনে কষ্ট দিয়েন না। দুঃসময়ে তারাই এগিয়ে এসেছিল। নির্বাচন ধমক দিয়ে হয় না। একে-অপরকে দোষারোপ করে নির্বাচন হয় না। সব রাগ অভিমান ছেড়ে দিয়ে কাজ করতে হবে। সবার ঘরে ঘরে যেতে হবে। এই ঘাঁটি নৌকার, এ মাটি আওয়ামী লীগের। জয় আমাদের হবেই।

নারায়ণগঞ্জে নৌকাকে ডুবিয়ে দেওয়া হবে বলে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার যে মন্তব্য করেছিলেন সংবাদ সম্মেলনে তার জবাব দেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের আলোচিত এই সংসদ সদস্য। তৈমূরকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আপনি নিজের প্রচারণা ঠিকমতো করেন। আমাদের কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু আপনি বলেছেন- নৌকা ডুবিয়ে দেবেন। নারায়ণগঞ্জ বিএনপি-জামায়াতের ঘাঁটি না। এখানকার মাটি ও মানুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার দলের পক্ষে। এখানে নৌকা ডোবানোর মতো এত শক্তি কারও আছে বলে আমার মনে হয় না।’

ট্যাগ: শামীম ওসমান

রাজনীতি
‘ইসি গঠন আইন নিয়ে বিএনপি জনগণকে বিভ্রান্ত করছে’

banglanewspaper

রাজনীতির মাঠে পরাজিত বিএনপি এখন নির্বাচন কমিশন গঠন আইন নিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে অপতৎপরতায় লিপ্ত হয়েছে বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

রবিবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এই দাবি করেন।

দলের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এই আইনকে শুধু নয়, তারা বরাবরের মতো নির্বাচন ও নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পাঁয়তারা করছে। তারই ধারাবাহিকতায় নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার লক্ষ্যে প্রচুর পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ ও বিদেশে লবিস্ট নিয়োগ মাধ্যমে ষড়যন্ত্রের নতুন নতুন নাটক মঞ্চায়ন করেও বিএনপির মরা গাঙ্গের খরা কাটেনি। তাই তারা উদ্ভ্রান্তের মতো প্রলাপ বকতে শুরু করেছে।’ বিএনপি নেতাদের মিথ্যাচার এবং বিভ্রান্তিকর মন্তব্য পরিহার করে দায়িত্বশীল আচরণ ও বক্তব্য দিতে আহ্বান জানান কাদের।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘দীর্ঘ দিন ধরে নির্বাচন কমিশন গঠনে একটি আইন প্রণয়নের দাবি সর্বমহল থেকে উঠে এসেছে। দেশের সব রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশন নিয়োগ আইন-২০২২’ নামে আইনের একটি খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দিয়েছে। আইন প্রণয়নের উদ্যোগকে ইতিমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে স্বাগত জানানো হয়েছে।’

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘এই আইন পাসের মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে জটিলতা নিরসনে সমাধানের স্থায়ী পথ উন্মুক্ত হতে চলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় মহান জাতীয় সংসদে বিলটি উত্থাপিত হয়েছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন গঠন আইন সম্পর্কিত বিলটির ওপর জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব রাজনৈতিক দল আলোচনা করবে এবং নিজেদের মতামত দেবে। সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী আইন প্রণয়নের ক্ষমতা মহান জাতীয় সংসদের ওপর ন্যস্ত রয়েছে। সে মোতাবেক সংসদে উত্থাপিত বিলটি যথাযথ প্রক্রিয়া ও সাংবিধানিক রীতি-নীতির মধ্য দিয়েই পাস হবে বলে আশা রাখি।’

কাদের বলেন, ‘বিএনপি নেতৃবৃন্দ উত্থাপিত আইনটি সম্পর্কে সম্পূর্ণরূপে না জেনে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অভিপ্রায়ে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর মন্তব্য ও অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। কেননা গণতান্ত্রিক কাঠামো ও আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি তাদের কোনো শ্রদ্ধাবোধ নেই।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বন্দুকের নলের মুখে অসাংবিধানিক ও অবৈধ পন্থায় ক্ষমতা দখল করে যাদের নেতা নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করতে পারে, আইনি কাঠামোর প্রতি তাদের আস্থা থাকবে না এটাই স্বাভাবিক। সংবিধান ও আইন লঙ্ঘনের মধ্য দিয়ে যাদের জন্ম তাদের কাছে যেকোনো আইনি কাঠামোই তামাশা মনে হবে। কারফিউ মার্কা গণতন্ত্রের যে প্রহসনের বীজ তাদের অস্থিমজ্জায় প্রথিত তা থেকে এখনো তারা বেরিয়ে আসতে পারেনি।’

ট্যাগ:

রাজনীতি
বিএনপির সমর্থক হয়ে থাকব, অন্য দলে যাবো না: তৈমূর

banglanewspaper

সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে লড়ে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার পর দল থেকেও বহিষ্কার হয়েছেন অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। এ নিয়ে খুব বেশি আক্ষেপ না করে বললেন, ‘বিএনপি বহিষ্কার করলেও দল পরিবর্তন করব না, অন্য কোনো দলেও যোগ দেব না। দলের একজন অনুগত কর্মী হিসেবেই কাজ করে যাব।’

বুধবার নারায়ণগঞ্জ শহরের মাসদাইর এলাকায় নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

গত ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে হাতি প্রতীকে নির্বাচন করেন তৈমূর আলম খন্দকার। এই নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেওয়ায় তিনি স্বতন্ত্র হিসেবে অংশ নেন।

নির্বাচনের কয়েক দিন আগে তাকে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এরমধ্যে মঙ্গলবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারকে দল থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়।

চিঠিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপির গঠনতন্ত্র মোতাবেক দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পদ থেকে তৈমূর আলম খন্দকারকে বহিষ্কার করা হলো।

একই দিন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালকেও বহিষ্কার করা হয়। তিনি তৈমূর আলমের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, ‘বিএনপির যারা আমাকে নির্বাচন চলাকালে অব্যাহতি দিয়েছিল, এখন বহিষ্কার করেছে। এর অর্থ হলো তৈমূরকে ভোটটা দিও না। তারাই পল্টন অফিস থেকে আমার অনেক নেতাকে বলেছিল তৈমূরের পক্ষে যেও না। কিন্তু নারায়ণগঞ্জের বিএনপি তো ভোটটা দেবে, কাকে দেবে? তাদের কথায় প্রমাণ হয় ভোটটা নৌকায় যাবে, এটাই চেয়েছিল তারা। আমি ভাবতেও পারিনি দলীয় মহাসচিবের কথা কচুপাতার পানিতে পরিণত হবে। কারণ, মহাসচিব বলেছিলেন- দলগতভাবে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না, কিন্তু কেউ ব্যক্তিগতভাবে স্থানীয় নির্বাচনে গেলে দলের কোনো আপত্তি থাকবে না।’

নাম না উল্লেখ করে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় কেন্দ্রিক কিছু নেতার প্রতি ইঙ্গিত করে তৈমূর বলেন, ‘কেন্দ্র থেকে বা দল থেকে তো আমাকে একবারের জন্যও বলেনি আপনি নির্বাচন কইরেন না। তাহলে দলের যারা পল্টন অফিসে বসে নারায়ণগঞ্জের নেতাদের আমার নির্বাচনে যেতে নিষেধ করেছিল তারা অবশ্যই চেয়েছিল ভোটটা নৌকায় পড়ুক।‘

সামনের দিনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘দল আমাকে রাজপথের আন্দোলন সংগ্রাম থেকে মুক্তি দিয়েছে, এখন আমার সামনে দুটি কাজই খুঁজে পেয়েছি। একটি হল যাকে আমি মায়ের মতো শ্রদ্ধা করি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য এবং ভোট ডাকাতির মেশিন ইভিএমের বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টি করা।’

খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ করেন সদ্য বহিষ্কৃত এই বিএনপি নেতা। তিনি বলেন, আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনুরোধ করেবা তিনি যেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেন। ইতিহাসে আপনার নাম লেখা থাকবে। যদি অনুমতি না দেন, তবে কি বিপর্যয় হবে সেটা ভবিষ্যত বলে দেবে।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালকে বহিষ্কার প্রসঙ্গে তৈমূর বলেন, ‘আমার ক্ষেত্রে যা করার করেছে কিন্তু এটিএম কামালের মতো নেতাকে বহিষ্কার করা আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের শামিল। কারণ, বিএনপি করতে গিয়ে ত্যাগী এটিএম কামাল বহুবার মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছেন। আরেকজন এটিএম কামাল সৃষ্টি করা নারায়ণগঞ্জে খুবই কঠিন হবে।’

পরাজিত প্রার্থী তৈমূর বলেন, ‘অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান থাকবে কেউ ইভিএম মেনে নেবেন না। এটা ভোট ডাকাতের বাক্স। আমাদের দেশের আমলাতন্ত্র মেরুদণ্ডহীন। ঔপনিবেশিক প্রশাসনিক আমলের আদলে চলছে এখনো। তাদের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ ভূমিকা আশা করা যায় না। ইভিএমে নির্বাচনে গেলে কোনোভাবেই ভোট ডাকাতি রুখতে পারবে না জনগণ।’

তৈমূর বলেন, ‘আমি মনে করি রাজনীতি করতে গেলে একটা দল থাকতে হয়। কিন্তু পদ পদবি দরকার হয় না। ব্যক্তি ইমেজ ভালো থাকলে জনগণ এমনিতেই আপনার পাশে থাকবে। নির্বাচন কমিশন একটা মিথ্যার ফ্যাক্টরি, প্রশাসন একটা মিথ্যার ফ্যাক্টরি। জনগণ এখন মিথ্যার কষাঘাতে জর্জড়িত। এই মিথ্যার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোই হবে আমার কাজ। আমি জাতীয়তাবাদী ইসলামি মূল্যবোধে বিশ্বাসী। আমি না হয় বিএনপির কর্মী বা সমর্থক হয়ে থাকব। সমর্থককে তো আর বহিষ্কার করতে পারবে না। আমি বিএনপির সমৃদ্ধি কামনা করি, তারেক রহমানের বাংলাদেশে আগমন কামনা করি। তার সুস্বাস্থ্য কামনা করি। একই সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি কামনা করি।’

ট্যাগ:

রাজনীতি
দল থেকে তৈমূরকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি

banglanewspaper

বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) রাতে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ বহিষ্কার করা হয়।

চিঠিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকান্ডে জড়িত থাকার সুষ্পষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির গঠনতন্ত্র মোতাবেক আপনাকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে নির্দেশক্রমে বহিষ্কার করা হলো। এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।

দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের অংশ নিয়ে যেন কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হলেন অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার।

এর আগে দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালকে বহিস্কার করা হয়।

জানা যায়, গত ১৬ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্তভাবে নির্বাচনে অংশ নেন অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। আর এই বিষয়টিকে কেন্দ্রীয় বিএনপি সহজভাবে নিতে পারেনি।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীর জয়ে পরাভূত হয়েছেন স্বতস্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার।

নির্বাচনে মনোনয়ন পত্র দাখিলের পরপরেই জেলা বিএনপির আহবায়ক পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয় তৈমূর আলম খন্দকারকে। ভারপ্রাপ্ত আহবায়কের দায়িত্ব দেয়া হয় মনিরুল ইসলাম রবিকে।

সবশেষ গত ৩ জানুয়ারি বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পদ থেকেও প্রত্যাহার করা হয় তৈমূর আলম খন্দকারকে।

সেদিন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই তথ্য জানানো হয়। চিঠিতে তৈমূর আলম খন্দকারকে জানানো হয়, মাননীয় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিল সদস্য পদ থেকে আপনাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অবিলম্বে এই নির্দেশনা কার্যকর হবে।

সেসময় দলের এমন সিদ্ধান্তে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তৈমূর বলেছিলেন, দল থেকে আমাকে কিছু জানানো হয়নি। যদি এটা সত্য হয়ে থাকে, আলহামদুলিল্লাহ। আমি মনে করি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান একটা সময়োচিত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আমাকে জনগণের জন্য মুক্ত করে দিয়েছেন। এখন আমি রিকশাওয়ালাদের কাছে ফিরে যাব। ঠেলাগাড়িওয়ালাদের কাছে ফিরে যাব। আমি গণমানুষের কাছে ফিরে যাব। ’

কিন্তু তৈমূরের বিরুদ্ধে দলের এই ঘোষণাতেও নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকে ছেড়ে যায়নি। নির্বাচনের প্রচার প্রচারণা সহ বিভিন্ন কার্যক্রমে তৈমূরকে সঙ্গ দিয়েছেন। তার নির্বাচনী এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন। সেই সাথে তার প্রধান এজেন্ট হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল। যার পরিণতিতে এটিএম কামালকে দল থেকে বহিস্কার করে দেয়া হয়।

ট্যাগ:

রাজনীতি
নারায়ণগঞ্জে অপপ্রচারে বিশ্বাসীদের বিপর্যয় ঘটেছে: কাদের

banglanewspaper

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে নেতিবাচক ও উন্নয়নবিমুখ রাজনীতির চরম ভরাডুবি হয়েছে। ষড়যন্ত্র এবং অপপ্রচারের সংস্কৃতিতে যারা বিশ্বাসী তাদের বিপর্যয় ঘটেছে।’

রবিবার অনুষ্ঠিত নারয়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন পরবর্তী ব্রিফিংকালে সোমবার সকালে নিজ বাসভবনে ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন।

নির্বাচনে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও উৎসবমুখরতা সুস্পষ্টভাবে গণতন্ত্রের বিজয় উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চলমান গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার এ বিজয়।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ইভিএম-এ ভোট প্রদান এবং নির্বাচন কমিশনের যারা সমালোচনা করেছিল, তারা এখন গতকাল অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে সেরা নির্বাচন বলছেন। বছরের শুরুতেই একটি বড় নির্বাচন ছিল নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন।’

অংশগ্রহণমূলক, শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য জনগণ, নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান ওবায়দুল কাদের।

ট্যাগ:

রাজনীতি
‘ভাতিজি’ আইভীর মাথায় তৈমূরের স্নেহের হাত

banglanewspaper

দেশে নির্বাচনের আগে-পরে সহিংসতা যখন অনেকটা স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে তখন অনেকটা স্বস্তি দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এই নির্বাচনে সহিংসতা যেমন ছিল না তেমনি ছিল না গুরুতর অভিযোগও। এরমধ্যে ভোটের পরদিন সোমবার বিকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি করে সেলিনা হায়াৎ আইভী ও তৈমূর আলম খন্দকারের দুটি ছবি। একটি ছবিতে দেখা যায় মেয়র পদে পরাজিত তৈমূর আলম খন্দকারকে মিষ্টিমুখ করাচ্ছেন হ্যাট্রিক করা মেয়র আইভী। অনেকে ফেসবুকের টাইমলাইনে ছবিটি শেয়ার করে এমন উদ্যোগের প্রশংসা করছেন।

খানিক বাদে আরেকটি ছবি ভাইরাল হয় ফেসবুকে। যাতে দেখা যায় মিষ্টি মুখ করার পর পাশের চেয়ারে বসিয়ে ‘ভাতিজি’ আইভীর মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন বিএনপি নেতা তৈমূর আলম।

মেয়র আইভী বিকাল চারটার দিকে নেতাকর্মীদের নিয়ে শহরের মাসদাইর এলাকায় তৈমূরের বাসভবনে যান। সেখানে তারা একে অপরকে মিষ্টিমুখ করান। নগরের উন্নয়নে ‘চাচা’ তৈমূরকে পাশে চান আইভী। এসময় তিনিও ‘ভাতিজি’ আইভীর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।

দুটি ছবি ফেসবুকে অনেকে শেয়ার করে বলছেন, এমন ছবি ইতিবাচক রাজনীতির প্রতিকৃতি। কেউ বলছেন, রাজনৈতিক অঙ্গন ছবির মতো এমন সুন্দর দেখতে চান।

রবিবার নারায়ণগঞ্জ সিটিতে প্রথমবারের মতো ইভিএমে ভোটগ্রহণ হয়। সিটি করপোরেশনের ১৯২টি কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফলে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত আইভী নৌকা প্রতীকে পান এক লাখ ৫৯ হাজার ৯৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার হাতি প্রতীক নিয়ে পান ৯২ হাজার ১৬৬ ভোট। এ নিয়ে আইভী টানা তৃতীয়বার নারায়ণগঞ্জের মেয়র হলেন।

ট্যাগ: