banglanewspaper

দেশে হুহু করে বাড়ছে করোনা রোগী। ইতিমধ্যে সংক্রমণ হার ১১ শতাংশ ছাড়িয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সভা-সমাবেশে নিষেধ্বাজ্ঞাসহ ১১দফা নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। কিন্তু এরমধ্যেই চলছে মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা। প্রচার-প্রচারণায় সরগরম নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এ মাসের শেষের দিকে আছে ষষ্ঠ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। একদিকে বিধিনিষেধ অন্যদিকে এমন আয়োজন নিয়ে চলছে সমালোচনা। তবে এসব নিয়ে যেন অনেকটা অসহায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। বললেন, ‘আমরা সরকারকে সবধরনের জনসমাগম ও সভাসমাবেশ নিয়ন্ত্রণ করতে বলেছি। কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তো শুধু পরামর্শ আর নির্দেশনাই দিতে পারে, এর বেশি কিছু করার সুযোগ নেই।’

তবে বিশেষজ্ঞরা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এমন বক্তব্য হতাশা প্রকাশ করে বলছেন, সরকারকে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মানাতে ক্রাশ প্রোগ্রাম শুরু করতে হবে। অন্যথায় পরিস্থিতি নাজুক হয়ে পড়বে।

অবশ্য ক্রমেই পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে সে কথাই নিজেই বলেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। বুধবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, ‘হাসপাতালেও রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, রোগীদের হাসপাতালে আসা শুরু হয়ে গেছে। আর এভাবে হাসপাতালে তিন-চারগুণ রোগী হলে বেকায়দায় পড়তে হবে। হাসপাতাল ব্যবস্থা, চিকিৎসক-নার্সদের ওপর চাপ পড়বে, মৃত্যুর হারও বাড়বে।

করোনাবিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এমন বক্তব্য হতাশার ও দুঃখজনক। কীভাবে তিনি বলেন নির্দেশনার বাইরে কিছু করার নেই? তাহলে কে করবে? আমাদের অবস্থা তাহলে কী হবে? কোনোভাবে তিনি একথা বলতে পারেন না।’

করোনার ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে কী করা উচিত এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা পরামর্শ দিয়েছি। পরে মন্ত্রণালয় থেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্দেশনা দিয়েছে। এটা বাস্তবায়নও সরকারকে করতে হবে। সেজন্য ক্রাশ প্রোগ্রাম শুরু করতে হবে। সবচেয়ে বেশি জোর দিতে হবে মাস্ক পরা ও হাত ধোয়ায়। সামাজিক দূরত্ব পুরোপুরি নিশ্চিত করতে গেলে তখন পাইকারি বাজারঘাট বন্ধ করে দিতে হবে। সেটা হয়তো সম্ভব হবে না। রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ খুব গুরুত্বপূর্ণ কি না সেটাও ভেবে দেখা দরকার।’

দেশে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৯১৬ জন হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১৬ লাখ ছাড়িয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা সংক্রমিত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার বেড়ে ১১ শতাংশ ছাড়িয়েছে।

এদিকে গত ১ জানুয়ারি থেকে রাজধানীর অদূরে পূর্বাচলে চলছে মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন। অন্যদিকে ৩১ জানুয়ারি হবে ৬ষ্ঠ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। নির্বাচন কমিশন বলছে, বিধিনিষেধের মধ্যেও ভোটগ্রহণ হবে। এদিকে সবচেয়ে বেশি সংক্রমত্মক করোনার ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে শনাক্তের সংখ্যাও বাড়ছে। বুধবার নতুন তিনজনসহ এ পর্যন্ত ৩৩ জনের দেহে ওমিক্রনের সংক্রমণ পাওয়া গেছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দাবি, ‘যে হারে রোগী বাড়ছে, তাতে ওমিক্রনের কমিউনিটি ট্রান্সমিশন কিছুটা হয়েছে। দেশে এখন ১৫ থেকে ২০ শতাংশ করোনা রোগীই ওমিক্রনে আক্রান্ত। কাজেই কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়েছে বলে অমি মনে করি।’

তার এমন বক্তব্যের সঙ্গেও দ্বিমত করেন অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিনের তথ্য অনুযায়ী ওমিক্রণে আক্রান্ত তো ১ শতাংশও হয় না। সেখানে কীভাবে ১৫ থেকে ২০ শতাংশের কথা বললেন বুঝে আসে না। বিষয়টা এমন না যে দেশের ১০ ভাগ লোক দুর্নীতিতে জড়িত বলে দিলাম। অফিসিয়াল তথ্য ছাড়া কথা বললে জনগণ বিভ্রান্ত হবে। তবে এটা সত্য যে, করোনার সংক্রমণ ঠেকানো না গেলে সামনে ওমিক্রণ আরও বাড়বে।’

ট্যাগ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

জাতীয়
আইজিপি ব্যাজ পেলেন ৭৪২ পুলিশ সদস্য

banglanewspaper

ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২০ ও ২০২১ সালের জন্য ৭৪২ পুলিশ সদস্যকে পুলিশ ফোর্স এক্সেমপ্ল্যারি গুড সার্ভিসেস ব্যাজ (আইজিপি ব্যাজ) দেওয়া হয়েছে। প্রশংসনীয় ও ভালো কাজের জন্য দেওয়া এই ব্যাজ পুলিশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পুরস্কার।

ব্যাজ পাওয়া কর্মকর্তাদের পুলিশ সপ্তাহের অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা থাকলেও করোনার কারণে এবার নিজ নিজ দপ্তরে পৌঁছে দেওয়া হবে এই ব্যাজ। ব্যাজ পদকের পাশাপাশি প্রত্যেককে আর্থিক পুরস্কারও দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ সদরদপ্তরের একটি সূত্র জানায়, কর্মক্ষেত্রে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্বপালন, বাহিনীর মর্যাদা বেড়েছে এমন কার্যক্রমের পাশাপাশি বিভিন্ন ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রতি বছর পুলিশ সপ্তাহে আইজিপি ব্যাজে মনোনীত পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের এই পদক দেওয়া হয়।

এছাড়া যারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা বিধান, জনসেবামূলক কার্যক্রম, মামলার রহস্য উদঘাটন, ভালো পুলিশিং, সরকারি ও ব্যক্তিগত কাজের মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি বাড়ানোসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে অবদান রাখেন তাদের এই পদকের জন্য নির্বাচিত করা হয়।

২০২০ সালে ভালো কাজের জন্য পুলিশ সুপার থেকে কনস্টেবল সমমর্যাদার ৪০১ জনকে ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’, ‘ডি’, ‘ই’ ও ‘এফ’—এই ছয় ক্যাটাগরিতে ভাগ করে ব্যাজ দেওয়া হচ্ছে। আর ২০২১ সালে অবদানের জন্য ব্যাজ পেয়েছেন ৩৪১ পুলিশ।

২০১৯ সালের ভালো কাজের জন্য ৫৯৫ জন, ২০১৮ সালে ৫০১ জন, ২০১৭ সালে ৩২৯ জন ও ২০১৬ সালে ২৮৮ পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য ‘আইজিপি ব্যাজ’ পেয়েছিলেন।

এর আগে, রবিবার সকাল ১০টায় রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে বার্ষিক পুলিশ প্যারেডের মধ্য দিয়ে পুলিশ সপ্তাহ ২০২২ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি প্যারেডে ভার্চুয়ালি উপস্থিত থেকে পুলিশের বিভিন্ন কন্টিনজেন্ট ও পতাকাবাহী দলের সুশৃঙ্খল ও দৃষ্টিনন্দন প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন।

অসীম সাহসিকতা, বীরত্বপূর্ণ কাজ, গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের জন্য কর্মজীবনের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) ও রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) পেয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের ২৩০ সদস্য।

রবিবার পুলিশ সপ্তাহের প্রথম দিনে পদকপ্রাপ্তদের মধ্যে ১৫-২০ জনকে পদক পরিয়ে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। বাকিদের কাছে পদক পৌঁছে দেওয়া হবে।

ট্যাগ:

জাতীয়
২০২১ সালে ৩৮ গৃহকর্মী নির্যাতনের শিকার, নিহত ১২

banglanewspaper

দেশে ২০২১ সালে ৩৮ জন গৃহকর্মী নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১২ জন নিহত হয়েছেন। এই ১২ জনের মধ্যে চারজন খুন হয়েছেন। তবে এই হত্যা, নির্যাতন ও নিহতের সংখ্যা আগের বছরের চেয়ে কম।

রবিবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ-বিলস্ এর এক জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে তৈরি এই জরিপটি প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

বিলস এর তথ্য কর্মকর্তা মামুন অর রশিদ স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২১ সালে ৩৮ জন গৃহকর্মী নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এরমধ্যে ১২ জন নিহত, ২৪ জন আহত এবং দুজন আত্মহত্যা করেন। নিহতদের মধ্যে চারজন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন এবং আটজনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।

আহতদের মধ্যে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১৫ জন, ছুরিকাঘাতের শিকার পাঁচজন, ধর্ষণের শিকার হয়েছেন তিনজন, যৌন নিপীড়নের শিকার একজন এবং ধর্ষণপরবর্তী আত্মহত্যা করেন একজন। এছাড়া কর্মক্ষেত্রের বাইরে তিনজন গৃহশ্রমিক নিহত হন।

২০২০ সালে হত্যা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন ৪৪ জন গৃহশ্রমিক। যার মধ্যে ২০ জন নিহত, ২৩ জন আহত এবং একজন নিখোঁজ ছিলেন।

ঢাকাসহ সারাদেশে যারা গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করেন তাদের ৯৫ ভাগেরও বেশি নারী। বিলস্ এর জরিপে দেখা গেছে, যারা হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণের শিকার হয়েছেন তাদের বেশির ভাগের বয়স ১০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে।

জরিপের বিষয়ে সংগঠনটি বলছে, এই হিসাব দেশের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ওপর নির্ভর করে করা। যদিও বাস্তব পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। কারণ অনেক নির্যাতনের ঘটনায় অর্থ ও চাপের মুখে সমঝোতা করা হয়। গৃহকর্মী বা তাদের পরিবারের সদস্য অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হওয়ার কারণে মামলা মোকাদ্দমায় যেতে চান না বা যেতে সাহন পান না। অনেক সময় প্রভাবশীলরা নির্যাতনের ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে ফেলেন।

গৃহশ্রমিক নির্যাতন প্রতিরোধে বিলস্ গৃহশ্রমিক কল্যাণ ও সুরক্ষা নীতিমালা ২০১৫ বাস্তবায়নে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান এবং গৃহশ্রমিকদের সুরক্ষায় আইন প্রণয়ন এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করেছে সংগঠনটি।

ট্যাগ:

জাতীয়
আরও ১৪ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১০৯০৬

banglanewspaper

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু কিছুটা কমলেও শনাক্তের সংখ্যা বেড়েছে। ভাইরাসটিতে আরও ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছেন ১০ হাজার ৯০৬ জন।

রবিবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, দেশে করোনায় মোট মৃত্যু হয়েছে ২৮ হাজার ২২৩ জনের। আর মোট শনাক্ত হয়েছে ১৬ লাখ ৮৫ হাজার ১৩৬ জন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৪ হাজার ৮৫৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৩১.২৯ শতাংশ। গত এক দিনে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৭৮২ জন। মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা ১৫ লাখ ৫৬ হাজার ৮৬১ জন।

মারা যাওয়া ১৪ জনের মধ্যে ছয়জন পুরুষ ও আটজন নারী। তারা সবাই মারা গেছেন হাসপাতালে। এর মধ্যে ত্রিশোর্ধ্ব একজন, চল্লিশোর্ধ্ব একজন, পঞ্চাশোর্ধ্ব চারজন, ষাটোর্ধ্ব পাঁচজন, সত্তরঊর্ধ্ব একজন ও আশিঊর্ধ্ব দুজন।

বিভাগওয়ারী হিসাবে ঢাকা বিভাগের পাঁচজন, চট্টগ্রাম বিভাগের দুজন, খুলনা বিভাগের একজন, বরিশাল বিভাগের একজন, সিলেট বিভাগে দুজন, রংপুর বিভাগের একজন ও ময়মনসিংহ বিভাগের দুজন।

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ করোনায় প্রথম মৃত্যুর খবর আসে। গত ২০ নভেম্বর দেশে প্রথমবারের মতো এবং ৯ ডিসেম্বর দ্বিতীয়বারের মতো করোনায় মৃত্যুহীন দিন দেখে বাংলাদেশ। এছাড়া বাকি সব দিনই মৃত্যু দেখেছে বাংলাদেশ।

গত জুলাই-আগস্ট মাসে দেশে করোনায় মৃত্যু ও শনাক্ত চরম আকার ধারণ করে। গত ৫ আগস্ট দেশে সর্বোচ্চ ২৬৪ জন রোগী মারা যায়। গত ২৮ জুলাই সর্বোচ্চ শনাক্ত হয় ১৬ হাজার ২৩০ জন। তবে সেপ্টেম্বর থেকে তা কমতে শুরু করে। ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত সেই ধারা অব্যাহত ছিল।

ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে অব্যাহতভাবে বাড়ছে সংক্রমণ। অতি সংক্রামক ধরন ওমিক্রনও ইতিমধ্যে দেশে শনাক্ত হয়েছে। নতুন শনাক্তদের বেশির ভাগ ওমিক্রনে আক্রান্ত বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

ট্যাগ:

জাতীয়
২০২১ সালে সড়ক রেল নৌপথে নিহত ৮৫১৬

banglanewspaper

মহামারি করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বিদায়ী বছর ২০২১ সালে দীর্ঘ ৮৫ দিন গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও সড়ক, রেল ও নৌপথে দুর্ঘটনার কোনো কমতি ছিল না। বিগত বছরে এই তিন পথে সর্বমোট ৬২১৩টি দুর্ঘটনায় ৮৫১৬ জন মারা গেছেন। সেই সঙ্গে ৯৭৫১ জন আহত হয়েছেন।

রবিবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি আয়োজিত ‘বার্ষিক সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিবেদন-২০২১ প্রকাশ’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

প্রতিবেদন তুলে ধরে সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী জানান, বিদায়ী ২০২১ সালে ৫৬২৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ৭৮০৯ জন নিহত ও ৯০৩৯ জন আহত হয়েছেন। একই সময় রেলপথে ৪০২টি দুর্ঘটনায় ৩৯৬ জন নিহত ও ১৩৪ জন আহত হয়েছেন। নৌপথে ১৮২টি দুর্ঘটনায় ৩১১ জন নিহত ও ৫৭৮ জন আহত এবং ৫৪৪ জন নিখোঁজ হয়েছেন। সড়ক, রেল, নৌপথে সর্বমোট ৬২১৩টি দুর্ঘটনায় ৮৫১৬ জন নিহত ও ৯৭৫১ জন আহত হয়েছে।

দুর্ঘটনা পর্যাআলোচনায় দেখা গেছে, এসব দুর্ঘটনা কবলে পড়েছেন ২৩৫০ জন চালক, ১৭১৫ জন পথচারী, ১০১৭ জন পরিবহন শ্রমিক, ৪৩০ জন ছাত্রছাত্রী, ১১১ জন শিক্ষক, ২৩৭ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ১০৭৬ জন নারী, ৬৩৮ জন শিশু, ৪২ জন সাংবাদিক, ২৭ জন চিকিৎসক, ১৪ জন আইনজীবী ও ১৮ জন প্রকৌশলী এবং ১৬১ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও ১০ জন মুক্তিযোদ্ধা।

এসব সড়ক দুর্ঘটনার বেশ কিছু কারণ তুলে ধরে লিখিত বক্ত্যবে তিনি জানান, বেপরোয়া গতি, বিপদজনক ওভারটেকিং, রাস্তাঘাটের ত্রুটি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, যাত্রী ও পথচারীদের অসতর্কতা, চালকের অদক্ষতা, চলন্ত অবস্থায় মোবাইল বা হেডফোন ব্যবহার, মাদক সেবন করে যানবাহন চালানো, রেলক্রসিং ও মহাসড়কে হঠাৎ ফিডার রোড থেকে যানবাহন উঠে আসা, রাস্তায় ফুটপাত না থাকা বা ফুটপাত বেদখলে থাকা, ট্রাফিক আইনের দুর্বল প্রয়োগ, ছোট যানবাহন বৃদ্ধি, সড়কে চাঁদাবাজি, রাস্তার পাশে হাট-বাজার, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন রাস্তায় নামানো এবং দেশব্যাপী নিরাপদ ও আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থার পরিবর্তে টুকটুকি, ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত রিকশা, মোটরসাইকেল, সিএনজি অটোরিকশা নির্ভর গণপরিবহন ব্যবস্থার দিকে ধাবিত হওয়ার কারণে সড়ক দুর্ঘটনা বেপরোয়াভাবে বাড়ছে।

এসময় সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সরকারের কাছে ১২ দফা সুপারিশ জানায় সংগঠনটি। দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদপত্রগুলোতে প্রকাশিত সড়ক দুর্ঘটনার সংবাদ মনিটরিং করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হযয়েছে বলে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন— বুয়েট দুর্ঘটনা গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক ড. হাদিউজ্জামান, গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ আবদুল হক, বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী নুর খান লিটনসহ প্রমুখ।

ট্যাগ:

জাতীয়
‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক রক্তের’

banglanewspaper

ভোলা সদরের প্রায় আড়াইশ বছরের পুরনো একটি মন্দির পরিদর্শন করেছেন ভারতীয় দূতাবাসের সহকারী হাইকমিশনার রাজেশ কুমার রায়না। রবিবার সকালে ভোলা সদরের বাপ্তা করুনাময়ী কালীমাতার মন্দির (সর্বতীর্থ ধাম) পরিদর্শন এবং মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তিনি।

ভোলা জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও করুনাময়ী কালীমাতার মন্দির কমিটি আলোচনা সভার আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে রাজেস কুমার রায়না বলেন, ভারতীয়দের কাছে বাংলাদেশের জনগণের ভালোবাসা অনেক। ভারত-বাংলাদেশ রক্তের সম্পর্ক। যেকোন প্রয়োজনে বাংলাদেশের পাশে আছে ভারত।

ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার বলেন, ভারত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বন্ধুপ্রতীম দেশ। যেকোন প্রয়োজনে সবার আগে ভারত পাশে আছে। ১৯৭১ সালে ভারত বন্ধুর মতই বাংলাদেশকে সহযোগিতা করেছে। করোনাকালেও করছে। ভবিষ্যতেও করবে। এই দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক অবিনাশ নন্দী।

এর আগে গত শনিবার বিকালে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার ভারতের পক্ষ থেকে ভোলা পৌরসভাকে একটি লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স (আইসিইউ) হস্তান্তর করেন।

ট্যাগ: