banglanewspaper

করোনা সংক্রমণ রোধে অনুষ্ঠান ও সভা-সমাবেশ বন্ধসহ ১১টি নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সরকার, যা আজ বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হয়েছে। এসব নির্দেশনা পুরোপুরি মেনে চলতে দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘একটা জিনিস সবাই একটু লক্ষ্য রাখবেন। নতুন ভ্যারিয়েন্ট (ওমিক্রম) দেখা দিয়েছে। এটা খুব দ্রুত ছড়াচ্ছে। এক একটা পরিবারসহ আক্রান্ত হচ্ছে। এখানে সবাইকে বলবো স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে চলার। আমরা ইতিমধ্যে কিছু নির্দেশনা দিয়েছি সেটা সবাই মেনে চলবেন। সেটাই আমি চাই।’

বৃহস্পতিবার সকালে নবনির্মিত জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কমপ্লেক্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। আগারগাঁওয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

সবাইকে টিকা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা টিকা নেননি, তাঁরা দ্রুত টিকা নিয়ে নিবেন। আমরা স্কুলের শিক্ষার্থীদেরও টিকা দেওয়া শুরু করেছি। টিকা নিলে অন্তত জীবনে বেঁচে থাকা যায়। এটাই হলো বাস্তব।’

অনুষ্ঠানে দেশের উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য, দেশের একটি মানুষও গৃহহীন ও ভূমিহীন থাকবে না। বিদ্যুৎ আমরা শতভাগ পৌঁছে দিয়েছি সমস্ত মানুষের ঘরে ঘরে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন আমরা করে দিচ্ছি। সেই সাথে সাথে খাদ্য নিরাপত্তা যেমন দিয়েছি। এখন আমাদের প্রজন্মের পর প্রজন্ম উন্নত জীবন পায়। তার পদক্ষেপ নিয়ে প্রেক্ষিত পরিকল্পনাও তৈরি করে দিয়ে গেলাম। ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ করে দিয়েছি। যেন এই ব-দ্বীপটা আগামী দিনে জলবায়ু অভিঘাত থেকে রক্ষা পেয়ে দেশের প্রজন্মের প্রজন্ম একটা সুন্দর জীবন পায়।’

স্বাধীনতা পরবর্তী দেশকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে এগিয়ে নিয়ে যেতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২১ বছর পরে আমরা যখন ক্ষমতায় আসলাম দেখলাম স্কুলে বিজ্ঞান শিক্ষায় শিক্ষার্থী পাওয়া যায় না। কমার্স ও আর্টস পড়ে কিন্তু বিজ্ঞানের দিকে ঝোঁকটা কম, পড়ার আগ্রহটা কম। তখন আমরা ১২টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করি। সেই প্রকল্প আমরা গ্রহণ করি। সেই সাথে আইন পাস করে ৬টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণ কাজ শুরু করি।

বিজ্ঞান শিক্ষার অনাগ্রহ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পঁচাত্তরের পরে যারা অবৈধভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করে সরকারে এসেছিল, তাদের এই অবৈধ ক্ষমতাকে বৈধ করার জন্য সবথেকে বেশি দুর্নীতিতে সম্পৃক্ত হয়ে যায়। একটা এলিট শ্রেণি তৈরি করে। তাদের নানাভাবে অর্থশালী ও সম্পদশালী তৈরি করে। মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে অস্ত্র ‍ও অর্থ তুলে দেয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অস্ত্রের ঝনঝনানি ছিলো। সেখানে রাষ্ট্র কিংবা সাধারণ জনগণের কি প্রয়োজন তাতে তাদের খেয়াল ছিলো না। ক্ষমতাকে ভোগ ও কুক্ষিগত রাখায় ছিলো মূল।

১৯৯১ সালে বিনামূল্যে আন্তর্জাতিকভাবে দেশে প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ হয়েছিল জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, তখন আমাদের এই অঞ্চলে সাবমেরিন ক্যাবল আসে। তখন বাংলাদেশকে অফার দেওয়া হয়েছিলো বিনামূল্যে যুক্ত হওয়ার জন্য। এটা দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, ওয়েস্টার্ন ইউরোপ অর্থাৎ সিমিইউ সংযোগ দেওয়ার সুযোগ আসে। আমাদের দুর্ভাগ্য। তখন বিএনপি সরকার ক্ষমতায়। খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী। সে বলে দিলো এটা করা যাবে না। এটা করলে বাংলাদেশের সব তথ্য বিদেশে চলে যাবে।

১৯৯৬ সালের আওয়ামী লীগ সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় উন্নতিতে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, সেই সময় কম্পিউটার কেনার জন্য নেদারল্যান্ডস সরকারের সঙ্গে একটা চুক্তি করেছিলাম। সেটার অর্ধেক দাম আমরা দিবো, বাকি অর্ধেক তারা দিবে। একটাই শর্ত ছিলো তাদের দেশ ও কোম্পানি থেকে কিনতে হবে। আমরা তাতে রাজি হয়ে যাই। কারণ সেটা আমাদের জন্য ভালো প্রস্তাব ছিলো। সেক্ষেত্রে আমরা সব পদক্ষেপ গ্রহণ করি। দুর্ভাগ্য হচ্ছে নেদারল্যান্ডের জাতীয় ফুল হচ্ছে টিউলিপ। সেই নামেই কোম্পানিটার ছিলো।

‘আমাদের অতিজ্ঞানী, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে কেউ বোঝায় শেখ রেহানার মেয়ের নাম টিউলিপ। নেদারল্যান্ডের কোম্পানিটাও তাঁর। তাই ওখান থেকে তা নেওয়া যাবে না। তাই চুক্তিটি বাতিল করে দেওয়া হয়। ফলে ওই কোম্পানি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলা পরিচালনায় অনেক অর্থ ব্যয় হয়। পরে বাংলাদেশ একটা শাস্তি পায়। প্রায় ৬০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হয়। ১০ হাজার কম্পিউটারতো গেলেও উল্টো আরও ৬০ কোটি টাকা দিতে হলো একটা দেশের সরকার প্রধানের সিদ্ধান্তের কারণে। এই ধরনের সরকার প্রধান থাকলে, দেশের উন্নতিটা কিভাবে হবে। সেটা বুঝে দেখেন।–বলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ইশতেহারে আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে সরকার গঠন করে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ। প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে আমাদের ব্রডব্যান্ড পৌঁছে গেছে। যেখানে পারেনি, সেখানে আমাদের বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর মাধ্যমে সবাই অনলাইনে কাজ করছে। আমরা এখন ডিজিটাল ডিভাইস তৈরি করছি।

দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতায় থাকায় কাজ করতে সুবিধা হয়েছে জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমরা ই-গভর্নেন্স প্রতিষ্ঠা এবং আইসিটি শিল্পের বিকাশে এই ১৩ বছরে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সজীব ওয়াজেদ জয় আমাদের সবধরণের পরামর্শ দিচ্ছে। সে কিন্তু অবৈতনিক। এটা আমি জানিয়ে রাখি। কারণ অনেক সময়, অনেকেই অনেক উল্টোপাল্টা কথা বলে। দেশের কল্যাণে ও শিক্ষায় সে কাজ করে যাচ্ছে। দেশের মানুষের জন্য।

রপ্তানিপণ্য গুণগত মান পরীক্ষায় সরকার পরীক্ষাগার বাড়িয়েছে বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির আমলে চিংড়ি মাছের মধ্যে লোহা ও পেরেক ঢুকিয়ে দিয়ে সেটা ইউরোপে রপ্তানি করার ফলে আমাদের রপ্তানি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে অনেক দেনদরবার করে সেটা ঠিক করি। আমাদের রপ্তানিযোগ্য পণ্যকে যথাযথভাবে পরীক্ষা করে সনদ দেওয়া অপরিহার্য। তাই আমরা পরীক্ষাগারের সক্ষমতা বাড়িয়েছি। বিভিন্ন এলাকায় পণ্যভিত্তিক টেস্টেং ল্যাবরেটরি করার উদ্যোগ নিয়েছি।

গবেষণা বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ প্রদান করছি। আমরা শিক্ষার্থীদের বিনা পয়সায় বই দিচ্ছি। তবে আমরা জোর দিচ্ছি বিজ্ঞানের উপর। এই শিক্ষায় যাতে শিক্ষার্থীরা এগিয়ে আসার জন্য আলাদাভাবে ফেলোশিপ দেওয়া হচ্ছে। এই যুগে যেসব দেশ বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এগিয়ে যাচ্ছে, তাঁরাই অর্থনৈতিকভাবে দ্রুত উন্নতি লাভ করছে। কাজেই উন্নতি করতে হলে গবেষণা একান্ত প্রয়োজন।

দেশে স্বাস্থ্য বিষয়ে গবেষণা কম হচ্ছে বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য বিষয়ে আমাদের দেশে গবেষণাটা খুব কম হচ্ছে। আমাদের দেশে খুব কম চিকিৎসক আছে…। আসলে তাঁরা যতটা না রোগী সেবা দিতে আগ্রহী, ঠিক গবেষণার দিকে নেই। হাতেগোনা কয়েকজন নিয়মিত গবেষণা করেন। এক্ষেত্রে আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি। আমাদের স্বাস্থ্য বিষয়ে গবেষণাটা একান্ত দরকার।

সরকার প্রতিবছরই গবেষণায় বিশেষ বরাদ্দ রাখছে বলে জনান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, মৌলিক গবেষণার সঙ্গে প্রায়োগিক গবেষণার দিকে জোর দিতে হবে। আমাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষিসহ প্রতিটি ক্ষেত্রেই গবেষণা প্রয়োজন। কারণ গবেষণা ছাড়া উৎকর্ষতা লাভ করা যায় না। এসডিজি গোল অর্জন করতে গবেষণার প্রয়োজন। দেশের অনেক সম্পদ রয়েছে। সেগুলো ব্যবহার করতে গবেষণার প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান। স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী।

ট্যাগ: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয়
পদ্মা সেতুর টোল চূড়ান্ত (তালিকাসহ)

banglanewspaper

স্বপ্নের পদ্মা সেতুর কাজ প্রায় শেষ। কয়েকদিন পরেই উদ্বোধন করা হবে সেতুটি। এরই মধ্যে সেতুতে যানবাহন পারাপারের জন্য টোল নির্ধারণ করেছে সরকার। 

মঙ্গলবার (১৭ মে) সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় থেকে পদ্মা সেতুর জন্য টোল নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে পদ্মা বহুমুখী সেতুতে যানবাহন পারাবারের জন্য যে টোল হার নির্ধারণ করা হয়েছে তা হলো— মোটরসাইকেলে টোল দিতে হবে ১০০ টাকা, কার-জিপ ৭৫০ টাকা, পিকআপ/লাক্সারি জিপ ১ হাজার ২০০ টাকা, মাইক্রোবাস ১ হাজার ৩০০ টাকা, ছোট বাস ১ হাজার ৪০০ টাকা, মাঝারি বাস ২ হাজার টাকা, বড় বাসে ২ হাজার ৪০০ টাকা, ছোট ট্রাক (৫ টন পর্যন্ত) ১ হাজার ৬০০ টাকা, মাঝারি ট্রাক (৫ থেকে ৮ টন) ২ হাজার ১০০ টাকা, মাঝারি ট্রাক (৮ থেকে ১১ টন) ২ হাজার ৮০০ টাকা, ট্রাক ৩ এক্সেল পর্যন্ত ৫ হাজার ৫০০ টাকা, ট্রেইলারের ৪ এক্সেল ৬ হাজার টাকা। 

এর আগে সেতু বিভাগ থেকে পদ্মা সেতুর খসড়া টোল প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে অনুমোদনের পর আজ প্রজ্ঞাপন আকারে তা প্রকাশ করা হলো।

জনস্বার্থে এ আদেশ পদ্মা বহুমুখী সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার তারিখ হতে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।

এর আগে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ‘আগামী জুনের শেষ দিকে পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমরা উদ্বোধনের সামারি পাঠাবো। তিনি জুন মাসে যে দিন সময় দিবেন সেই দিন পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করা হবে।’

বিভিন্ন গণমাধ্যমে সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে পদ্মা সেতুর সর্বশেষ অগ্রগতির তথ্য বলছে, ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার মূল সেতুর প্রায় ৯৮ ভাগ কাজ শেষ। প্রকল্পের সার্বিক কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৯৩ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং নদী শাসনের কাজ শেষ হয়েছে ৯২ শতাংশ। মূল সেতুর কার্পেটিং কাজ শেষ। এ ছাড়া সংযোগ সড়ক ও সার্ভিস এরিয়ার কাজ পুরোপুরি শেষ হয়েছে।
 

ট্যাগ:

জাতীয়
পি কে হালদারকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে ভারত

banglanewspaper

বাংলাদেশে অর্থ কেলেঙ্কারির অন্যতম হোতা প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারকে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দেশে ফেরত পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী। তবে তাকে ভারত থেকে ফেরত আনতে সময় লাগতে পারে বলেও জানান তিনি।

মঙ্গলবার (১৭ মে) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী বলেন, 'পররাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে তার (পি কে হালদার) বিষয়ে কথা হয়েছে।

এটি উভয় পক্ষের নিয়মিত সহযোগিতার একটি অংশ। এটি একটি আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়। আমাদের কাছে যে ধরনের তথ্য রয়েছে, তার ভিত্তিতে একটা সময় বাংলাদেশকে জানানো হবে। তবে আপনাদের বুঝতে হবে, এটি কিন্তু কোনো বড়দিনের কার্ড বিনিময় নয়। এ ধরনের বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। সেটি ধীরে ধীরে হতে দিন। এ নিয়ে আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করছি। '

তিনি আরও বলেন, 'বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক তৎপরতা প্রতিরোধের লক্ষ্যে সহযোগিতা রয়েছে। বাংলাদেশ  এরই মধ্যে ভারতের সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে তথ্য দিয়েছে। আমরা  সেটা যাচাই-বাছাই করছি। এ ক্ষেত্রে  পুরোপুরি আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। অপরাধীদের দমনে বাংলাদেশ ও ভারত সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে।'
 

ট্যাগ:

জাতীয়
শেখ হাসিনার স্বদেশে ফেরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রত্যাবর্তন: তথ্যমন্ত্রী

banglanewspaper

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ৪১ বছর আগে ১৯৮১ সালের ১৭ মে ব্যক্তি শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনই ছিলো না, ছিলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতন্ত্রের অগ্নিবীণা ও উন্নয়ন-প্রগতির প্রত্যাবর্তন। 

মঙ্গলবার (১৭ মে) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সমেম্মলন কেন্দ্রে ১৭ মে প্রধানমন্ত্রীর ৪২তম ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় তার বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ বিশেষ সভায় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সূচনা বক্তব্য এবং আওয়ামী লীগসহ জাতীয় নেতৃন্দ ও দেশবরেণ্য বুদ্ধিজীবীরা তাদের বক্তব্য দেন। 

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, 'গত ৪১ বছরের পথ চলায় জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বদলে গেছে। গত ১৩ বছরে প্রতিটি মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে। এ অভূতপূর্ব উন্নতি সহ্য হচ্ছে না বিধায় আবার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে, গর্তের ভেতর থেকে বিএনপি-জামাত উঁকি দিচ্ছে এবং বিশৃঙ্খলা করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।'

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, 'শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে বলতে চাই, আমরা এখনো মাঠে নামি নাই, প্রয়োজন নামবো। যদি কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের প্রতিহত করবো' 

মন্ত্রী বলেন, 'সমস্ত প্রতিকূলতার মধ্যেও স্বল্পোন্নত থেকে মধ্যম আয়ের দেশে, খাদ্যে ঘাটতি থেকে উদ্বৃত্তের দেশে উন্নীত করে  চিরদিন দেশের মানুষের পাশে থাকা শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। কিন্তু বিএনপি-জামাত, তাদের দোসর আর কিছু বুদ্ধিজীবীর এই উন্নয়ন-অগ্রগতি ভালো লাগে না। একারণেই সমগ্র পৃথিবী যখন প্রশংসা করে, তখনও তারা প্রশংসা করতে পারে না বরং তাদের কথায় মনে হয় দেশ দশ হাত দেবে গেছে, যা বাস্তবের বিপরীত।' 

'বেগম জিয়া, মির্জা ফখরুল সাহেবদের 'আওয়ামী লীগ সরকার পদ্মাসেতু করতে পারবে না' এমন মন্তব্য এখনও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরে বেড়ায়' উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, 'এখন পদ্মাসেতু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন, আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। ফখরুল সাহেবরা পদ্মাসেতুর ওপর দিয়ে যাবেন না কি নিচ দিয়ে  আওয়ামী লীগের নৌকায় করে যাবেন, সেটি ভাবছি। তাদের যদি লজ্জা থাকে, জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়ে পদ্মাসেতুর ওপর দিয়ে তারা যেতে পারেন। আমরা চাই আপনারা পদ্মাসেতু ব্যবহার করেন।'

'শেখ হাসিনাকে তার হার না মানা দেশপ্রেম এবং আন্তর্জাতিক চাপের মুখে জিয়াউর রহমান দেশে ফিরতে দিতে বাধ্য হয়েছিলো' উল্লেখ করে ১৯৮১ সালের ১৭ মে'র কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে কাজ করে আসা মন্ত্রী হাছান বলেন, 'সে দিনের মুষলধারে বৃষ্টি যেনো ছিলো শেখ হাসিনাকে পেয়ে প্রকৃতির আনন্দাশ্রু আর মেঘগর্জন ছিলো বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের প্রতি তীব্র ধিক্কার। শেখ হাসিনাকে বরণ করে প্রকৃতি যেনো জানান দিয়েছিলো- ষড়যন্ত্রকারী, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের দিন শেষ।' 
 

ট্যাগ:

জাতীয়
সকল বিষয়ে সাশ্রয়ী হওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

banglanewspaper

সরকারি-বেসরকারি সকল খাতে, সকল বিষয়ে সাশ্রয়ী হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন,  বিদ্যুৎ-পানি থেকে শুরু করে সকল খাতে কোনো অপচয় করা যাবে না।

অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় মঙ্গলবার (১৭ মে) ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরের জন্য ২ লাখ ৪৬ হাজার ৬৬ কোটি টাকার ব্যয় সম্বলিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা করপোরেশনের প্রায় ৯ হাজার ১৩০ কোটি টাকার এডিপি অনুমোদিত হয়েছে।
 
প্রধানমন্ত্রী ও এনইসি'র চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গণভবনের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষ এবং সচিবালয়স্থ মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এডিপি অনুমোদনের সময় প্রধানমন্ত্রী ওই নির্দেশনা দেন।  

প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, এনইসি সভায় আরো একটা বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে সেটা হলো অপচয় রোধ করতে হবে। এটা ভয়ের কোনো ব্যাপার নেই। জনগণের অর্থ ব্যয়ে সাশ্রয়ী হতে হবে। পিএম কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন সরকারি-বেসরকারি খাতে সাশ্রয়ী হতে হবে। পানি ও বিদ্যুতে সাশ্রয়ী হতে হবে। প্রধানমন্ত্রী ভ্রমণের বিষয়ে নির্বাহী আদেশ দিয়েছেন। সুতরাং সকল বিষয়ে সাশ্রীয় হতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর  অনুশাসন তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সকলকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে অপচয় করা যাবে না। কোনো মতেই অপচয় করা যাবে না। এটা ভয়ের কোনো বার্তা নয়। কারণ সম্পদ সবারই সীমিত। অহেতুক সম্পদ অপচয় করার মানে নেই।   শুধু অপচয় রোধ নয়,  জনগণের জন্য দেশের জন্য প্রকল্প আগে নিতে হবে।   ব্যয়ে ঘাটতি সবার থাকবে অফুরন্ত সম্পদ কারও নেই। গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প আগে নিতে হবে। অহেতুক বাড়াবাড়ি করা যাবে না বলে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

ট্যাগ:

জাতীয়
বিএনপির মুখে অর্থ পাচার নিয়ে কথা মানায় না: তথ্যমন্ত্রী

banglanewspaper

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও তার ভাই অর্থ পাচারের দায়ে আদালতে দন্ডিত, যাদের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া কালো টাকা সাদা করেছেন, যাদের আমলে দেশ পরপর পাঁচবার দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়, তাদের মুখে অর্থ পাচার নিয়ে কথা মানায় না।’

পিকে হালদার ধরা পড়ার পর বিএনপি নেতারা অর্থ পাচার নিয়ে নানা কথা বলছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের অর্থ পাচারের বিষয়ে এফবিআই এসে সাক্ষ্য দেয়, তার ভাইয়ের অর্থ পাচার সিঙ্গাপুরে উদঘাটিত হয় এবং সেই অর্থ ফেরত আনা হয় ও দুর্নীতির কারণে তারা তো বিশ্বচোর ছাড়া কিছু নয় এবং বয়সে আমার জ্যেষ্ঠ ফখরুল সাহেবের প্রতি যথাযথ সম্মান রেখেই আমি অপ্রিয় হলেও সত্য একটি কথা বলতে চাই, তিনি সেই বিশ্বচোরের মুখপাত্র।’

সোমবার (১৬ মে) দুপুরে রাজধানী শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মিলনায়তনে আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ উপ-কমিটি আয়োজিত ‘ঐতিহাসিক ১৭ই মে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনঃ মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুন:প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্রে উত্তোলন এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সমসাময়িক প্রসঙ্গে তিনি এসব কথা বলেন। 

ড. হাছান আরও বলেন, ‘যারা এই ধরণের অর্থ পাচার করেছে, আমরা সেগুলো উদঘাটন করছি, তাদেরকে আইনের আওতায় আনছি এবং সেই কারণেই পিকে হালদার ধরা পড়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং তার ভাই ছাড়াও আরও কারা অর্থ পাচার করেছে আমাদের জানা আছে, আস্তে আস্তে সেগুলোও আপনারা জানতে পারবেন। আমরা সেগুলো উদঘাটন করছি। জননেত্রী শেখ হাসিনা সেগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন এবং এটি অব্যাহত থাকবে।’

সরকারকে শ্রীলংকার উদাহরণ দেওয়াকে বিএনপির অনর্থক অপপ্রচার বলে বর্ণনা করেন হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘শ্রীলংকার উদাহরণ বাংলাদেশকে দিয়ে লাভ নেই। যে দেশ নিজের টাকায় পদ্মা সেতু করে, যে দেশ শ্রীলংকাকে দুইশ’ মিলিয়ন ডলার ঋণ দেয় এবং ফেরত দিতে না পারছে না বিধায় ঋণ পরিশোধের সময়সীমা আমরা বাড়িয়ে দিয়েছি, সেই দেশ, সেই সরকারকে এই উদাহরণ দেয়া অনর্থক এবং অপপ্রচার।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আন্দোলনের কথা বলে বিএনপি সারাদেশে সমাবেশের নামে নিজেরাই মারামারি করে। আমরা এখনো মাঠে নামি নাই, যদি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হয়, আমরা মাঠে নামবো। যারা উঁচু গলায় বক্তৃতা করেন, কি হলে, কি করলে তারা গর্তে লুকাবেন সেটা আমরা ভালো করেই জানি।’ 

এর আগে বক্তৃতায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘১৯৮১ সালের ১৭ মে প্রকৃতপক্ষে ব্যক্তি শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ছিলো না, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্যকন্যা যার ধমনিতে শিরায় বঙ্গবন্ধু রক্তস্রোত প্রবহমান, যার কণ্ঠে বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠ প্রতিধ্বনি হয়, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে প্রকৃতপক্ষে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতন্ত্রের অগ্নিবীণা, অন্যায় অনাচারের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠকণ্ঠের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন হয়েছিলো।’ 

ড. হাছান বলেন, ‘গত ৪১ বছরে পথ চলায় সমস্ত প্রতিবন্ধকতাকে উপড়ে ফেলে জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মানুষের পাশে থেকেছেন এবং আছেন। তার নেতৃত্বেই বাংলাদেশে গণতন্ত্র বাক্সবন্দি থেকে মুক্ত হয়েছে। তার নেতৃত্বেই বাংলাদেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি এসেছে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু যে স্বপ্নের বাস্তবায়ন করে যেতে পারেননি আজকে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হচ্ছে।’ 

আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ উপ-কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দকার বজলুল হকের সভাপতিত্বে ও বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় শেখ হাসিনার ৪১তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. আব্দুস সামাদ, সামাজিক বিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, প্রেস ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদ, বিশিষ্ট কলাম লেখক সুভাষ সিংহ রায়।

ট্যাগ: