banglanewspaper

করোনা সংক্রমণ রোধে অনুষ্ঠান ও সভা-সমাবেশ বন্ধসহ ১১টি নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সরকার, যা আজ বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হয়েছে। এসব নির্দেশনা পুরোপুরি মেনে চলতে দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘একটা জিনিস সবাই একটু লক্ষ্য রাখবেন। নতুন ভ্যারিয়েন্ট (ওমিক্রম) দেখা দিয়েছে। এটা খুব দ্রুত ছড়াচ্ছে। এক একটা পরিবারসহ আক্রান্ত হচ্ছে। এখানে সবাইকে বলবো স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে চলার। আমরা ইতিমধ্যে কিছু নির্দেশনা দিয়েছি সেটা সবাই মেনে চলবেন। সেটাই আমি চাই।’

বৃহস্পতিবার সকালে নবনির্মিত জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কমপ্লেক্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। আগারগাঁওয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

সবাইকে টিকা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা টিকা নেননি, তাঁরা দ্রুত টিকা নিয়ে নিবেন। আমরা স্কুলের শিক্ষার্থীদেরও টিকা দেওয়া শুরু করেছি। টিকা নিলে অন্তত জীবনে বেঁচে থাকা যায়। এটাই হলো বাস্তব।’

অনুষ্ঠানে দেশের উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য, দেশের একটি মানুষও গৃহহীন ও ভূমিহীন থাকবে না। বিদ্যুৎ আমরা শতভাগ পৌঁছে দিয়েছি সমস্ত মানুষের ঘরে ঘরে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন আমরা করে দিচ্ছি। সেই সাথে সাথে খাদ্য নিরাপত্তা যেমন দিয়েছি। এখন আমাদের প্রজন্মের পর প্রজন্ম উন্নত জীবন পায়। তার পদক্ষেপ নিয়ে প্রেক্ষিত পরিকল্পনাও তৈরি করে দিয়ে গেলাম। ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ করে দিয়েছি। যেন এই ব-দ্বীপটা আগামী দিনে জলবায়ু অভিঘাত থেকে রক্ষা পেয়ে দেশের প্রজন্মের প্রজন্ম একটা সুন্দর জীবন পায়।’

স্বাধীনতা পরবর্তী দেশকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে এগিয়ে নিয়ে যেতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২১ বছর পরে আমরা যখন ক্ষমতায় আসলাম দেখলাম স্কুলে বিজ্ঞান শিক্ষায় শিক্ষার্থী পাওয়া যায় না। কমার্স ও আর্টস পড়ে কিন্তু বিজ্ঞানের দিকে ঝোঁকটা কম, পড়ার আগ্রহটা কম। তখন আমরা ১২টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করি। সেই প্রকল্প আমরা গ্রহণ করি। সেই সাথে আইন পাস করে ৬টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণ কাজ শুরু করি।

বিজ্ঞান শিক্ষার অনাগ্রহ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পঁচাত্তরের পরে যারা অবৈধভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করে সরকারে এসেছিল, তাদের এই অবৈধ ক্ষমতাকে বৈধ করার জন্য সবথেকে বেশি দুর্নীতিতে সম্পৃক্ত হয়ে যায়। একটা এলিট শ্রেণি তৈরি করে। তাদের নানাভাবে অর্থশালী ও সম্পদশালী তৈরি করে। মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে অস্ত্র ‍ও অর্থ তুলে দেয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অস্ত্রের ঝনঝনানি ছিলো। সেখানে রাষ্ট্র কিংবা সাধারণ জনগণের কি প্রয়োজন তাতে তাদের খেয়াল ছিলো না। ক্ষমতাকে ভোগ ও কুক্ষিগত রাখায় ছিলো মূল।

১৯৯১ সালে বিনামূল্যে আন্তর্জাতিকভাবে দেশে প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ হয়েছিল জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, তখন আমাদের এই অঞ্চলে সাবমেরিন ক্যাবল আসে। তখন বাংলাদেশকে অফার দেওয়া হয়েছিলো বিনামূল্যে যুক্ত হওয়ার জন্য। এটা দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, ওয়েস্টার্ন ইউরোপ অর্থাৎ সিমিইউ সংযোগ দেওয়ার সুযোগ আসে। আমাদের দুর্ভাগ্য। তখন বিএনপি সরকার ক্ষমতায়। খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী। সে বলে দিলো এটা করা যাবে না। এটা করলে বাংলাদেশের সব তথ্য বিদেশে চলে যাবে।

১৯৯৬ সালের আওয়ামী লীগ সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় উন্নতিতে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, সেই সময় কম্পিউটার কেনার জন্য নেদারল্যান্ডস সরকারের সঙ্গে একটা চুক্তি করেছিলাম। সেটার অর্ধেক দাম আমরা দিবো, বাকি অর্ধেক তারা দিবে। একটাই শর্ত ছিলো তাদের দেশ ও কোম্পানি থেকে কিনতে হবে। আমরা তাতে রাজি হয়ে যাই। কারণ সেটা আমাদের জন্য ভালো প্রস্তাব ছিলো। সেক্ষেত্রে আমরা সব পদক্ষেপ গ্রহণ করি। দুর্ভাগ্য হচ্ছে নেদারল্যান্ডের জাতীয় ফুল হচ্ছে টিউলিপ। সেই নামেই কোম্পানিটার ছিলো।

‘আমাদের অতিজ্ঞানী, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে কেউ বোঝায় শেখ রেহানার মেয়ের নাম টিউলিপ। নেদারল্যান্ডের কোম্পানিটাও তাঁর। তাই ওখান থেকে তা নেওয়া যাবে না। তাই চুক্তিটি বাতিল করে দেওয়া হয়। ফলে ওই কোম্পানি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলা পরিচালনায় অনেক অর্থ ব্যয় হয়। পরে বাংলাদেশ একটা শাস্তি পায়। প্রায় ৬০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হয়। ১০ হাজার কম্পিউটারতো গেলেও উল্টো আরও ৬০ কোটি টাকা দিতে হলো একটা দেশের সরকার প্রধানের সিদ্ধান্তের কারণে। এই ধরনের সরকার প্রধান থাকলে, দেশের উন্নতিটা কিভাবে হবে। সেটা বুঝে দেখেন।–বলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ইশতেহারে আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে সরকার গঠন করে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ। প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে আমাদের ব্রডব্যান্ড পৌঁছে গেছে। যেখানে পারেনি, সেখানে আমাদের বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর মাধ্যমে সবাই অনলাইনে কাজ করছে। আমরা এখন ডিজিটাল ডিভাইস তৈরি করছি।

দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতায় থাকায় কাজ করতে সুবিধা হয়েছে জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমরা ই-গভর্নেন্স প্রতিষ্ঠা এবং আইসিটি শিল্পের বিকাশে এই ১৩ বছরে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সজীব ওয়াজেদ জয় আমাদের সবধরণের পরামর্শ দিচ্ছে। সে কিন্তু অবৈতনিক। এটা আমি জানিয়ে রাখি। কারণ অনেক সময়, অনেকেই অনেক উল্টোপাল্টা কথা বলে। দেশের কল্যাণে ও শিক্ষায় সে কাজ করে যাচ্ছে। দেশের মানুষের জন্য।

রপ্তানিপণ্য গুণগত মান পরীক্ষায় সরকার পরীক্ষাগার বাড়িয়েছে বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির আমলে চিংড়ি মাছের মধ্যে লোহা ও পেরেক ঢুকিয়ে দিয়ে সেটা ইউরোপে রপ্তানি করার ফলে আমাদের রপ্তানি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে অনেক দেনদরবার করে সেটা ঠিক করি। আমাদের রপ্তানিযোগ্য পণ্যকে যথাযথভাবে পরীক্ষা করে সনদ দেওয়া অপরিহার্য। তাই আমরা পরীক্ষাগারের সক্ষমতা বাড়িয়েছি। বিভিন্ন এলাকায় পণ্যভিত্তিক টেস্টেং ল্যাবরেটরি করার উদ্যোগ নিয়েছি।

গবেষণা বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ প্রদান করছি। আমরা শিক্ষার্থীদের বিনা পয়সায় বই দিচ্ছি। তবে আমরা জোর দিচ্ছি বিজ্ঞানের উপর। এই শিক্ষায় যাতে শিক্ষার্থীরা এগিয়ে আসার জন্য আলাদাভাবে ফেলোশিপ দেওয়া হচ্ছে। এই যুগে যেসব দেশ বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এগিয়ে যাচ্ছে, তাঁরাই অর্থনৈতিকভাবে দ্রুত উন্নতি লাভ করছে। কাজেই উন্নতি করতে হলে গবেষণা একান্ত প্রয়োজন।

দেশে স্বাস্থ্য বিষয়ে গবেষণা কম হচ্ছে বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য বিষয়ে আমাদের দেশে গবেষণাটা খুব কম হচ্ছে। আমাদের দেশে খুব কম চিকিৎসক আছে…। আসলে তাঁরা যতটা না রোগী সেবা দিতে আগ্রহী, ঠিক গবেষণার দিকে নেই। হাতেগোনা কয়েকজন নিয়মিত গবেষণা করেন। এক্ষেত্রে আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি। আমাদের স্বাস্থ্য বিষয়ে গবেষণাটা একান্ত দরকার।

সরকার প্রতিবছরই গবেষণায় বিশেষ বরাদ্দ রাখছে বলে জনান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, মৌলিক গবেষণার সঙ্গে প্রায়োগিক গবেষণার দিকে জোর দিতে হবে। আমাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষিসহ প্রতিটি ক্ষেত্রেই গবেষণা প্রয়োজন। কারণ গবেষণা ছাড়া উৎকর্ষতা লাভ করা যায় না। এসডিজি গোল অর্জন করতে গবেষণার প্রয়োজন। দেশের অনেক সম্পদ রয়েছে। সেগুলো ব্যবহার করতে গবেষণার প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান। স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী।

ট্যাগ: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয়
আইজিপি ব্যাজ পেলেন ৭৪২ পুলিশ সদস্য

banglanewspaper

ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২০ ও ২০২১ সালের জন্য ৭৪২ পুলিশ সদস্যকে পুলিশ ফোর্স এক্সেমপ্ল্যারি গুড সার্ভিসেস ব্যাজ (আইজিপি ব্যাজ) দেওয়া হয়েছে। প্রশংসনীয় ও ভালো কাজের জন্য দেওয়া এই ব্যাজ পুলিশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পুরস্কার।

ব্যাজ পাওয়া কর্মকর্তাদের পুলিশ সপ্তাহের অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা থাকলেও করোনার কারণে এবার নিজ নিজ দপ্তরে পৌঁছে দেওয়া হবে এই ব্যাজ। ব্যাজ পদকের পাশাপাশি প্রত্যেককে আর্থিক পুরস্কারও দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ সদরদপ্তরের একটি সূত্র জানায়, কর্মক্ষেত্রে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্বপালন, বাহিনীর মর্যাদা বেড়েছে এমন কার্যক্রমের পাশাপাশি বিভিন্ন ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রতি বছর পুলিশ সপ্তাহে আইজিপি ব্যাজে মনোনীত পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের এই পদক দেওয়া হয়।

এছাড়া যারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা বিধান, জনসেবামূলক কার্যক্রম, মামলার রহস্য উদঘাটন, ভালো পুলিশিং, সরকারি ও ব্যক্তিগত কাজের মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি বাড়ানোসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে অবদান রাখেন তাদের এই পদকের জন্য নির্বাচিত করা হয়।

২০২০ সালে ভালো কাজের জন্য পুলিশ সুপার থেকে কনস্টেবল সমমর্যাদার ৪০১ জনকে ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’, ‘ডি’, ‘ই’ ও ‘এফ’—এই ছয় ক্যাটাগরিতে ভাগ করে ব্যাজ দেওয়া হচ্ছে। আর ২০২১ সালে অবদানের জন্য ব্যাজ পেয়েছেন ৩৪১ পুলিশ।

২০১৯ সালের ভালো কাজের জন্য ৫৯৫ জন, ২০১৮ সালে ৫০১ জন, ২০১৭ সালে ৩২৯ জন ও ২০১৬ সালে ২৮৮ পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য ‘আইজিপি ব্যাজ’ পেয়েছিলেন।

এর আগে, রবিবার সকাল ১০টায় রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে বার্ষিক পুলিশ প্যারেডের মধ্য দিয়ে পুলিশ সপ্তাহ ২০২২ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি প্যারেডে ভার্চুয়ালি উপস্থিত থেকে পুলিশের বিভিন্ন কন্টিনজেন্ট ও পতাকাবাহী দলের সুশৃঙ্খল ও দৃষ্টিনন্দন প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন।

অসীম সাহসিকতা, বীরত্বপূর্ণ কাজ, গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের জন্য কর্মজীবনের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) ও রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) পেয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের ২৩০ সদস্য।

রবিবার পুলিশ সপ্তাহের প্রথম দিনে পদকপ্রাপ্তদের মধ্যে ১৫-২০ জনকে পদক পরিয়ে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। বাকিদের কাছে পদক পৌঁছে দেওয়া হবে।

ট্যাগ:

জাতীয়
২০২১ সালে ৩৮ গৃহকর্মী নির্যাতনের শিকার, নিহত ১২

banglanewspaper

দেশে ২০২১ সালে ৩৮ জন গৃহকর্মী নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১২ জন নিহত হয়েছেন। এই ১২ জনের মধ্যে চারজন খুন হয়েছেন। তবে এই হত্যা, নির্যাতন ও নিহতের সংখ্যা আগের বছরের চেয়ে কম।

রবিবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ-বিলস্ এর এক জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে তৈরি এই জরিপটি প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

বিলস এর তথ্য কর্মকর্তা মামুন অর রশিদ স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২১ সালে ৩৮ জন গৃহকর্মী নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এরমধ্যে ১২ জন নিহত, ২৪ জন আহত এবং দুজন আত্মহত্যা করেন। নিহতদের মধ্যে চারজন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন এবং আটজনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।

আহতদের মধ্যে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১৫ জন, ছুরিকাঘাতের শিকার পাঁচজন, ধর্ষণের শিকার হয়েছেন তিনজন, যৌন নিপীড়নের শিকার একজন এবং ধর্ষণপরবর্তী আত্মহত্যা করেন একজন। এছাড়া কর্মক্ষেত্রের বাইরে তিনজন গৃহশ্রমিক নিহত হন।

২০২০ সালে হত্যা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন ৪৪ জন গৃহশ্রমিক। যার মধ্যে ২০ জন নিহত, ২৩ জন আহত এবং একজন নিখোঁজ ছিলেন।

ঢাকাসহ সারাদেশে যারা গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করেন তাদের ৯৫ ভাগেরও বেশি নারী। বিলস্ এর জরিপে দেখা গেছে, যারা হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণের শিকার হয়েছেন তাদের বেশির ভাগের বয়স ১০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে।

জরিপের বিষয়ে সংগঠনটি বলছে, এই হিসাব দেশের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ওপর নির্ভর করে করা। যদিও বাস্তব পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। কারণ অনেক নির্যাতনের ঘটনায় অর্থ ও চাপের মুখে সমঝোতা করা হয়। গৃহকর্মী বা তাদের পরিবারের সদস্য অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হওয়ার কারণে মামলা মোকাদ্দমায় যেতে চান না বা যেতে সাহন পান না। অনেক সময় প্রভাবশীলরা নির্যাতনের ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে ফেলেন।

গৃহশ্রমিক নির্যাতন প্রতিরোধে বিলস্ গৃহশ্রমিক কল্যাণ ও সুরক্ষা নীতিমালা ২০১৫ বাস্তবায়নে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান এবং গৃহশ্রমিকদের সুরক্ষায় আইন প্রণয়ন এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করেছে সংগঠনটি।

ট্যাগ:

জাতীয়
আরও ১৪ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১০৯০৬

banglanewspaper

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু কিছুটা কমলেও শনাক্তের সংখ্যা বেড়েছে। ভাইরাসটিতে আরও ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছেন ১০ হাজার ৯০৬ জন।

রবিবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, দেশে করোনায় মোট মৃত্যু হয়েছে ২৮ হাজার ২২৩ জনের। আর মোট শনাক্ত হয়েছে ১৬ লাখ ৮৫ হাজার ১৩৬ জন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৪ হাজার ৮৫৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৩১.২৯ শতাংশ। গত এক দিনে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৭৮২ জন। মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা ১৫ লাখ ৫৬ হাজার ৮৬১ জন।

মারা যাওয়া ১৪ জনের মধ্যে ছয়জন পুরুষ ও আটজন নারী। তারা সবাই মারা গেছেন হাসপাতালে। এর মধ্যে ত্রিশোর্ধ্ব একজন, চল্লিশোর্ধ্ব একজন, পঞ্চাশোর্ধ্ব চারজন, ষাটোর্ধ্ব পাঁচজন, সত্তরঊর্ধ্ব একজন ও আশিঊর্ধ্ব দুজন।

বিভাগওয়ারী হিসাবে ঢাকা বিভাগের পাঁচজন, চট্টগ্রাম বিভাগের দুজন, খুলনা বিভাগের একজন, বরিশাল বিভাগের একজন, সিলেট বিভাগে দুজন, রংপুর বিভাগের একজন ও ময়মনসিংহ বিভাগের দুজন।

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ করোনায় প্রথম মৃত্যুর খবর আসে। গত ২০ নভেম্বর দেশে প্রথমবারের মতো এবং ৯ ডিসেম্বর দ্বিতীয়বারের মতো করোনায় মৃত্যুহীন দিন দেখে বাংলাদেশ। এছাড়া বাকি সব দিনই মৃত্যু দেখেছে বাংলাদেশ।

গত জুলাই-আগস্ট মাসে দেশে করোনায় মৃত্যু ও শনাক্ত চরম আকার ধারণ করে। গত ৫ আগস্ট দেশে সর্বোচ্চ ২৬৪ জন রোগী মারা যায়। গত ২৮ জুলাই সর্বোচ্চ শনাক্ত হয় ১৬ হাজার ২৩০ জন। তবে সেপ্টেম্বর থেকে তা কমতে শুরু করে। ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত সেই ধারা অব্যাহত ছিল।

ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে অব্যাহতভাবে বাড়ছে সংক্রমণ। অতি সংক্রামক ধরন ওমিক্রনও ইতিমধ্যে দেশে শনাক্ত হয়েছে। নতুন শনাক্তদের বেশির ভাগ ওমিক্রনে আক্রান্ত বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

ট্যাগ:

জাতীয়
২০২১ সালে সড়ক রেল নৌপথে নিহত ৮৫১৬

banglanewspaper

মহামারি করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বিদায়ী বছর ২০২১ সালে দীর্ঘ ৮৫ দিন গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও সড়ক, রেল ও নৌপথে দুর্ঘটনার কোনো কমতি ছিল না। বিগত বছরে এই তিন পথে সর্বমোট ৬২১৩টি দুর্ঘটনায় ৮৫১৬ জন মারা গেছেন। সেই সঙ্গে ৯৭৫১ জন আহত হয়েছেন।

রবিবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি আয়োজিত ‘বার্ষিক সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিবেদন-২০২১ প্রকাশ’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

প্রতিবেদন তুলে ধরে সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী জানান, বিদায়ী ২০২১ সালে ৫৬২৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ৭৮০৯ জন নিহত ও ৯০৩৯ জন আহত হয়েছেন। একই সময় রেলপথে ৪০২টি দুর্ঘটনায় ৩৯৬ জন নিহত ও ১৩৪ জন আহত হয়েছেন। নৌপথে ১৮২টি দুর্ঘটনায় ৩১১ জন নিহত ও ৫৭৮ জন আহত এবং ৫৪৪ জন নিখোঁজ হয়েছেন। সড়ক, রেল, নৌপথে সর্বমোট ৬২১৩টি দুর্ঘটনায় ৮৫১৬ জন নিহত ও ৯৭৫১ জন আহত হয়েছে।

দুর্ঘটনা পর্যাআলোচনায় দেখা গেছে, এসব দুর্ঘটনা কবলে পড়েছেন ২৩৫০ জন চালক, ১৭১৫ জন পথচারী, ১০১৭ জন পরিবহন শ্রমিক, ৪৩০ জন ছাত্রছাত্রী, ১১১ জন শিক্ষক, ২৩৭ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ১০৭৬ জন নারী, ৬৩৮ জন শিশু, ৪২ জন সাংবাদিক, ২৭ জন চিকিৎসক, ১৪ জন আইনজীবী ও ১৮ জন প্রকৌশলী এবং ১৬১ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও ১০ জন মুক্তিযোদ্ধা।

এসব সড়ক দুর্ঘটনার বেশ কিছু কারণ তুলে ধরে লিখিত বক্ত্যবে তিনি জানান, বেপরোয়া গতি, বিপদজনক ওভারটেকিং, রাস্তাঘাটের ত্রুটি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, যাত্রী ও পথচারীদের অসতর্কতা, চালকের অদক্ষতা, চলন্ত অবস্থায় মোবাইল বা হেডফোন ব্যবহার, মাদক সেবন করে যানবাহন চালানো, রেলক্রসিং ও মহাসড়কে হঠাৎ ফিডার রোড থেকে যানবাহন উঠে আসা, রাস্তায় ফুটপাত না থাকা বা ফুটপাত বেদখলে থাকা, ট্রাফিক আইনের দুর্বল প্রয়োগ, ছোট যানবাহন বৃদ্ধি, সড়কে চাঁদাবাজি, রাস্তার পাশে হাট-বাজার, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন রাস্তায় নামানো এবং দেশব্যাপী নিরাপদ ও আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থার পরিবর্তে টুকটুকি, ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত রিকশা, মোটরসাইকেল, সিএনজি অটোরিকশা নির্ভর গণপরিবহন ব্যবস্থার দিকে ধাবিত হওয়ার কারণে সড়ক দুর্ঘটনা বেপরোয়াভাবে বাড়ছে।

এসময় সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সরকারের কাছে ১২ দফা সুপারিশ জানায় সংগঠনটি। দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদপত্রগুলোতে প্রকাশিত সড়ক দুর্ঘটনার সংবাদ মনিটরিং করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হযয়েছে বলে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন— বুয়েট দুর্ঘটনা গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক ড. হাদিউজ্জামান, গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ আবদুল হক, বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী নুর খান লিটনসহ প্রমুখ।

ট্যাগ:

জাতীয়
‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক রক্তের’

banglanewspaper

ভোলা সদরের প্রায় আড়াইশ বছরের পুরনো একটি মন্দির পরিদর্শন করেছেন ভারতীয় দূতাবাসের সহকারী হাইকমিশনার রাজেশ কুমার রায়না। রবিবার সকালে ভোলা সদরের বাপ্তা করুনাময়ী কালীমাতার মন্দির (সর্বতীর্থ ধাম) পরিদর্শন এবং মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তিনি।

ভোলা জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও করুনাময়ী কালীমাতার মন্দির কমিটি আলোচনা সভার আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে রাজেস কুমার রায়না বলেন, ভারতীয়দের কাছে বাংলাদেশের জনগণের ভালোবাসা অনেক। ভারত-বাংলাদেশ রক্তের সম্পর্ক। যেকোন প্রয়োজনে বাংলাদেশের পাশে আছে ভারত।

ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার বলেন, ভারত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বন্ধুপ্রতীম দেশ। যেকোন প্রয়োজনে সবার আগে ভারত পাশে আছে। ১৯৭১ সালে ভারত বন্ধুর মতই বাংলাদেশকে সহযোগিতা করেছে। করোনাকালেও করছে। ভবিষ্যতেও করবে। এই দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক অবিনাশ নন্দী।

এর আগে গত শনিবার বিকালে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার ভারতের পক্ষ থেকে ভোলা পৌরসভাকে একটি লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স (আইসিইউ) হস্তান্তর করেন।

ট্যাগ: