banglanewspaper

করোনাভাইরাস ইস্যুতে এখনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের বিষয়ে ভাবছে না শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সংক্রমণ আরো বেড়ে গেলে সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেবে।

মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের একটি অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী একথা বলেন। 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, 'আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। দু-এক দিনের মধ্যে কভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সঙ্গে বৈঠকে বসব।'

তিনি আরো বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে যাতে ভার্চুয়াল ক্লাস নেওয়া যায় সেটার প্রস্তুতি রাখার জন্য ডিসিদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেখানে ভার্চুয়াল ক্লাস নেওয়া সম্ভব নয় সেখানে অ্যাসাইনমেন্টের ওপর নির্ভর করতে হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জীবনযাপন যতখানি সম্ভব স্বাভাবিক রেখে করোনা মোকাবিলা করতে চাই। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যদি করোনার সংক্রমণ বাড়ার কারণে ক্লাস নেওয়া সম্ভব না হয়, সেক্ষেত্রে তো অনলাইন ক্লাসে যেতেই হবে। এখনো আমরা অনলাইন ক্লাস-অ্যাসাইনমেন্ট চালু রাখছি যাতে কেউ পিছিয়ে না পড়ে। তবে যেখানে অনলাইন ক্লাস সম্ভব না, সেখানে অ্যাসাইনমেন্ট চালু থাকবে।

দীপু মনি বলেন, করোনা সংক্রমণের ক্ষেত্রে আমরা দেখি, কতটা পরীক্ষা হচ্ছে, তার মধ্যে কতটা পজিটিভ পাওয়া যাচ্ছে। ওমিক্রনকে অনেকেই হালকাভাবে নিচ্ছেন। তবে ভুলে গেলে চলবে না আমাদের দেশে ওমিক্রনের চেয়ে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেশি। কাজেই আমাদের স্বাস্থ্য সচেতন হতে হবে।

এ সময় তিনি জানান, সোমবার পর্যন্ত ১২-১৮ বছর বয়সী ৮৫ লাখ শিক্ষার্থী করোনার প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছে।
 

ট্যাগ: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষাঙ্গন
৫১ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা

banglanewspaper

আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশের ৫১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ব্যয় নির্বাহের জন্য ১০ হাজার ৫১৫ কোটি ৭১ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদন করেছে ইউজিসি। এর মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে প্রায় ১০ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা। বাকি টাকা ইউজিসির জন্য। এবার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা খাতে বরাদ্দ বিদায়ী অর্থবছরের চেয়ে বেড়েছে।

সোমবার ইউজিসির পূর্ণ কমিশনের সভায় এই বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল বাজেটে ৬ হাজার ২৩ কোটি ৬০ লাখ টাকার রাজস্ব ব্যয় ও ৪ হাজার ৪২০ কোটি ৪৪ লাখ টাকার উন্নয়ন বরাদ্দ রয়েছে।

ইউজিসি জানিয়েছে, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে ৫০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুকূলে সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ ছিল ৯ হাজার ৫৭৭ কোটি ৯১ লাখ টাকা। এই হিসাবে আগামী অর্থবছরে বরাদ্দ বেড়েছে ৯৩৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এবার সবচেয়ে বেশি রাজস্ব বাজেট পেয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (প্রায় ৮৬৫ কোটি) টাকা। আর সবচেয়ে কম বরাদ্দ পেয়েছে খুলনার শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।

উচ্চশিক্ষায় ইউজিসি ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার জন্য আসন্ন অর্থবছরে মূল বাজেটে ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরের তুলনায় এ খাতে বরাদ্দ বেড়েছে ৩২ কোটি টাকা।

ইউজিসির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) দিল আফরোজা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ইউজিসির সভায় বাজেটের বিস্তারিত দিক তুলে ধরেন সংস্থাটির অর্থ ও হিসাব বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য মো. আবু তাহের। আর কার্যপত্র তুলে ধরেন ইউজিসির সচিব ফেরদৌস জামান।

ইউজিসির এক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী অধ্যাপক আবু তাহের সভায় বলেন, দেশের উন্নয়নে গুণগত গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিদেশে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের জন্য প্রথমবারের মতো ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষকে জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গে সর্বোত্তম ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি।

সভায় ইউজিসির অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ:

শিক্ষাঙ্গন
৪৪তম বিসিএস প্রিলির জন্য নতুন নির্দেশনা

banglanewspaper

২৭ মে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৪৪তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। এ পরীক্ষায় প্রার্থীরা কোনো ধরনের ডিভাইস নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না বলে জানিয়েছে পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি)।

 

 

 

মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) এ সংক্রান্ত এক নির্দেশনায় পিএসসি বলেছে, ৪৪তম বিসিএস পরীক্ষা ২০২১ এর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির শর্তানুযায়ী আগামী ২৭ মে অনুষ্ঠেয় প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় বই-পুস্তক, সব রকম ঘড়ি, মুঠোফোন, ক্যালকুলেটর, সব ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস, ব্যাংক-ক্রেডিট কার্ডসদৃশ কোনো ডিভাইস, গয়না, ব্যাগসহ পরীক্ষার হলে প্রবেশ করা নিষেধ। পরীক্ষার হলে যদি এসব নিষিদ্ধসামগ্রী পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীর প্রার্থিতা বাতিলসহ ভবিষ্যতে পিএসসির সব নিয়োগ পরীক্ষার জন্য তাকে অযোগ্য ঘোষণা করা হবে।

 

 

 

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, পরীক্ষার হলের গেটে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের উপস্থিতিতে প্রবেশপত্র ও মেটাল ডিটেক্টরের সাহায্যে মুঠোফোন, ঘড়ি, ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ নিষিদ্ধ সামগ্রী তল্লাশির মধ্য দিয়ে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা হলে প্রবেশ করতে হবে।পরীক্ষার্থীরা কানের ওপর কোনো আবরণ রাখবেন না, কান খোলা রাখতে হবে। কানে কোনো ধরনের হিয়ারিং এইড ব্যবহারের প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শপত্রসহ পূর্বেই কমিশনের অনুমোদন নিতে হবে।পরীক্ষার দিন উল্লিখিত নিষিদ্ধ সামগ্রী সঙ্গে না আনার জন্য সব পরীক্ষার্থীর মুঠোফোনে এসএমএস পাঠানো হবে। এসএমএসের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

 

ট্যাগ:

শিক্ষাঙ্গন
প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে অধিদপ্তরের ১৯ নির্দেশনা

banglanewspaper

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদের প্রথম ধাপের পরীক্ষা আগামী ২২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ধাপে ২২ জেলায় অনুষ্ঠিত হবে এ পরীক্ষা। পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

সোমবার (১৮ এপ্রিল) রাতে অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সতর্কতা জারি করা হয়।

এতে বলা হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়। কেউ অর্থের বিনিময়ে চাকরির প্রলোভন দেখালে তাকে নিকটস্থ থানায় সোপর্দ করুন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ধাপের পরীক্ষা আগামী শুক্রবার আবেদনকারীদের নিজ নিজ জেলায় বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষা হবে আগামী ২০ মে এবং তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা আগামী ৩ জুন।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ১৯ নির্দেশনা-

>> লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রবেশপত্র ও জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে আনতে হবে।

>> পরীক্ষা শুরু হওয়ার এক ঘণ্টা আগে প্রার্থীকে নির্ধারিত আসন গ্রহণ করতে হবে এবং পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কক্ষ ত্যাগ করা যাবে না।

>> প্রবেশপত্র ছাড়া কোনো পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হবে না। পরীক্ষাকেন্দ্রে কোনো বই, উত্তরপত্র, নোট বা অন্য কোনো কাগজপত্র, ক্যালকুলেটর, মোবাইল ফোন, ভ্যানিটি ব্যাগ, পার্স, হাতঘড়ি, যে কোনো ধরনের ইলেকট্রনিকস ডিভাইস, যোগাযোগ যন্ত্র বা এ জাতীয় বস্তু সঙ্গে নিয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। যদি কোনো পরীক্ষার্থী উল্লিখিত জিনিসপত্র সঙ্গে নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করেন, তবে তাকে তাৎক্ষণিক বহিষ্কারসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

>> পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষার কক্ষে অবস্থানকালে অবশ্যই উভয় কান উন্মুক্ত রাখতে হবে।

>> আবেদনপত্রে পরীক্ষার্থীর প্রদত্ত ছবি হাজিরা শিটে থাকবে এবং ইনভিজিলেটর এ ছবি দিয়ে পরীক্ষার্থীকে যাচাই করবেন। ভুয়া পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

>> আবেদনপত্রে প্রার্থীর দেওয়া স্বাক্ষরের সঙ্গে পরীক্ষার হাজিরা শিটে এবং ওএমআর শিটে প্রদত্ত স্বাক্ষরসহ সব তথ্যে মিল থাকতে হবে।

>> পরীক্ষার্থীকে উত্তরপত্রে অবশ্যই কালো বলপয়েন্ট কলম ব্যবহার করতে হবে।

>> একজন পরীক্ষার্থীর জন্য ওএমআর ফরমের সেট কোড পূর্বনির্ধারিত থাকবে। পরীক্ষার্থীর জন্য নির্ধারিত ওএমআর ফরমের সেট কোডটি প্রবেশপত্রে উল্লেখ আছে।

>> পরীক্ষার হলে যে ওএমআর ফরমটি দেওয়া হবে, সেখানে সেট কোডের ঘরে প্রবেশপত্রে উল্লিখিত কোডটি বৃত্তে ভরাট করতে হবে।

>> পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রের সেট কোডসমূহ এবং ওএমআর ফরমের সেট কোড ভিন্ন হবে। পরীক্ষার্থী ওএমআর সেট কোডের বিপরীতে কোন সেট কোডের প্রশ্ন পাবেন, তা পরীক্ষা শুরু হওয়ার পাঁচ মিনিট আগে কক্ষ পরিদর্শক জানিয়ে দেবেন। পরীক্ষার্থী সঠিক কোডের প্রশ্নটি পেলেন কি না, তা নিয়ে নিশ্চিত হবেন।

>> প্রবেশপত্রে নির্ধারিত ওএমআরের সেট কোড ব্যতীত অন্য সেট কোডে পরীক্ষা দিলে উত্তরপত্রটি বাতিল বলে গণ্য হবে।

>> রোল বা সেট কোডের বৃত্ত পূরণে কোনো ভুল হলে উত্তরপত্রটি বাতিল বলে গণ্য হবে।

>> হাজিরা শিটের সঠিক স্থানে পরীক্ষার্থীকে স্বাক্ষর করতে হবে এবং হাজিরা বৃত্তটি পূরণ করতে হবে। তা না হলে উত্তরপত্রটি বাতিল বলে গণ্য হবে।

>> ওএমআর ফরমের উপরিভাগের নির্ধারিত সব টেক্সট বক্স নির্দেশনা অনুযায়ী পূরণ করতে হবে, অন্যথায় উদ্ভবপরটি বাতিল বলে গণ্য হবে।

>> পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতরে পরীক্ষার্থীর আসন কোন কক্ষে তার তালিকা টাঙিয়ে দেওয়া হবে।

>> লিখিত পরীক্ষায় বা মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ চাকরির নিশ্চয়তা প্রদান করে না।

>> চূড়ান্ত ফলাফলে প্রতিটি উপজেলা/শিক্ষা থানার জন্য নিয়োগযোগ্য মেধাতালিকা ব্যতীত কোনো অপেক্ষমান তালিকা/প্যানেল প্রস্তুত করা হবে না।

>> লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর প্রকাশ করা হবে না।

>> পরীক্ষা সব তথ্যাদি অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

ট্যাগ:

শিক্ষাঙ্গন
বিনা বেতনে ছুটি মঞ্জুর না হওয়ায় অবসর চাইলেন সামিয়া রহমান

banglanewspaper

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধ্যাপনা থেকে অবসর চান গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সামিয়া রহমান। চার মাসের আর্ন লিভ নিয়ে বর্তমানে তিনি আমেরিকায় অবস্থান করছেন। তবে সেই ছুটি শেষ হওয়ায় ছেলের অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে বিভাগ থেকে বিনা বেতনে এক বছরের ছুটি চেয়েছিলেন সামিয়া রহমান। তবে তার ছুটি মঞ্জুর করেনি কর্তৃপক্ষ। এরপরই তিনি অবসরের আবেদন করেন।

কয়েক সপ্তাহ আগে বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবুল মনসুর আহাম্মদের কাছে আর্লি রিটায়ারমেন্টের জন্য এ আবেদন করেন।

সোমবার (১৮ এপ্রিল) অধ্যাপক আবুল মনসুর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। শিক্ষক সামিয়া রহমানও এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সামিয়া রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করে আমি সব হারিয়েছি। হারানোর আর কিছু নেই। এখন আমার ছেলে অসুস্থ। আমি যদি এখন দেশে এসে চাকরিতে যোগদান করি, আর আমার ছেলের কিছু হয় তাহলে সর্বস্ব হারিয়ে ফেলবো। চাকরির জন্য আমি ছেলেকে হারাতে চাই না। এজন্য চাকরি থেকে আর্লি রিটায়ারমেন্ট চাই। এটা আমার অধিকার। এটা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুর না করলে আমি হাইকোর্টে যাবো।’

অধ্যাপক ড. আবুল মনসুর আহাম্মদ বলেন, ‘উনি (সামিয়া রহমান) চাকরির বয়স শেষ হওয়ার একটু আগেই অবসরে যেতে চান। এজন্য বিভাগের চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করেছেন। আবেদনের কপিটি বিভাগ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এখন সিন্ডিকেট সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির বয়স ৬৫ বছর। সেই হিসেবে উনার ২০৪০/৪৫ সাল পর্যন্ত চাকরির মেয়াদ আছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরসূত্রে জানা গেছে, সামিয়া রহমান চার মাসের আর্ন লিভ নিয়ে দেশের বাইরে যান। এখনো তিনি দেশের বাইরে আছেন। গত ৩১ মার্চ তার এ ছুটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে মার্চের শুরুতেই তিনি বিনা বেতনে আরও এক বছরের ছুটির জন্য আবেদন করেন। তবে সেটি বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ মঞ্জুর না করলে মার্চের শেষের দিকে তিনি আর্লি রিটায়ারমেন্টের আবেদন করেন।

তবে ঠিক কত তারিখে তিনি এ আবেদন করেছেন, সেটি জানা সম্ভব হয়নি।

ছুটি মঞ্জুর না করার বিষয়ে অধ্যাপক মনসুর আহমেদ বলেন, ‘উনি তিন মাসের আর্ন লিভ নিয়ে বিদেশ গেছেন। এরপর হঠাৎ করে বললেন- এক বছরের বিনা বেতনের ছুটি প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়ে এ নিয়ম নেই। তাই এটি মঞ্জুর হয়নি।’

রেজিস্ট্রার দপ্তরের প্রশাসন-১ সূত্রে জানা গেছে, বিভাগ থেকে পাঠানো সামিয়া রহমানের আর্লি রিটায়ারমেন্টের কপির একটি নোট উপচার্যের কাছে পাঠানো হয়েছে। এখন উপাচার্যের সিদ্ধান্তের ওপর এটির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।

ট্যাগ:

শিক্ষাঙ্গন
ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ঢাবি শিক্ষককে অব্যাহতি

banglanewspaper

সিরাজগঞ্জের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষকে নিজ বিভাগের ছাত্রীর প্রতি যৌন নিপীড়নের অভিযোগে সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়াসহ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিভাগের একাডেমিক কমিটি৷ 

তবে অভিযুক্ত অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ তাঁর বিরুদ্ধে আনিত এই এসব সিদ্ধান্তকে ‘নাটকীয়তা’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি গত ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত (মার্চ) মাসে অভিযুক্ত অধ্যাপক নামে বিভাগের চেয়ারম্যান সৈয়দ আজিজুল হকের কাছে বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রী যৌন নিপীড়নের কথা উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দেন৷ পরে ২৯ মার্চ একাডেমিক কমিটির সভায় অভিযোগটি উত্থাপন করা হলে কমিটি সর্বসম্মতভাবে বিশ্বজিৎ ঘোষের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযোগ কে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, ‘এটি একেবারেই একটা নাটকীয়তা। এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না।’

বিভাগের সিদ্ধান্তের উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্বজিৎ ঘোষের বিরুদ্ধে একজন শিক্ষার্থীর আনা যৌন নিপীড়নের লিখিত অভিযোগের বিষয়টি বিভাগের চেয়ারম্যান একাডেমিক কমিটির সামনে উপস্থাপন করেন। তিনি ওই ছাত্রীর অভিযোগপত্রটি পড়ে শোনান। কমিটির সদস্যরা এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বিশ্বজিৎ ঘোষ ওই ঘটনায় তাঁর ভুল হয়েছে বলে মনে করেন। তিনি সবার কাছে ‘ক্ষমা প্রার্থনা ও করুণা ভিক্ষা’ করেন। কিন্তু একাডেমিক কমিটির সদস্যরা তাঁর দ্বারা সংঘটিত অতীতের বিভিন্ন যৌন নির্যাতনের ঘটনার কথা উল্লেখ করে তার পরিপ্রেক্ষিতে এই প্রার্থনা গ্রহণ করেননি। বিশ্বজিৎ ঘোষ নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও সভায় উপস্থিত শিক্ষকদের কাছে তা সত্য বলে মনে হয়নি। বরং তাঁর ‘ক্ষমা প্রার্থনা ও করুণা ভিক্ষার’ ঘটনায় তাঁর অপরাধ স্বীকারের বিষয়টিই প্রমাণিত হয়।

ট্যাগ: