banglanewspaper

জাপানি নাগরিক নাকানো এরিকো তার দুই শিশু সন্তান জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনাকে সঙ্গে নিয়ে বিদেশে যাওয়ার জন্য অনুমতি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছেন। মঙ্গলবার (১৭ মে) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আইনজীবী শিশির মনির।

আবেদনে বলা হয়েছে, দুই মেয়ে শিশুকে নিয়ে জাপানি নাগরিক নাকানো এরিকো বাংলাদেশে অনেক দিন কাটিয়েছেন। তারা অবকাশ কাটাতে দেশের বাইরে বেড়ানোর জন্য যেতে চান। সেটা জাপানেও হতে পারে।

এর আগে জাপান থেকে আসা দুই শিশু জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনার সঙ্গে দেখা করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদালতের আদেশ অনুসরণ না করার অভিযোগ তুলে শিশুদের বাবা বাংলাদেশি নাগরিক ইমরান শরীফের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনতে আবেদন করেছেন মা নাকানো এরিকো। এর পরেই আবার এই আবেদন করেন তিনি।

এ বিষয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে শুনানি হতে পারে বলেও জানান আবেদনকারী আইনজীবী।

এর আগে ঢাকার পারিবারিক আদালতে করা মামলাটির (শিশুদের বাবার) নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জাপান থেকে আসা দুই শিশু তাদের মা জাপানি নাগরিক নাকানো এরিকোর হেফাজতে থাকবে বলে আদেশ দিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আর পারিবারিক আদালতে থাকা মামলাটি তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে সংশ্লিষ্ট আদালতকে নির্দেশ দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ।

জাপান থেকে আসা দুই শিশু নিয়ে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে তাদের মা নাকানো এরিকো করা আবেদন (লিভ টু আপিল) নিষ্পত্তি করে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের ভার্চুয়াল আপিল বিভাগের বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

এর আগে শিশুদের মায়ের করা আবেদনের ওপর ৭ ফেব্রুয়ারি শুনানি শেষে আপিল বিভাগ ১৩ ফেব্রুয়ারি আদেশের জন্য দিন রাখেন। তারই ধারাবাহিকতায় ওইদিন বিষয়টি আদেশ দেন আদালত।

দুই শিশুকে তাদের বাবার হেফাজতে আটক রাখা বে-আইনি ঘোষণা করেন আপিল বিভাগ। আপিল বিভাগের এর আগের আদেশের পর দুই শিশু কূটনৈতিকপাড়ায় অবস্থিত একটি আবাসিক হোটেলে তাদের মায়ের সঙ্গে আছে। এখন ঢাকার পারিবারিক আদালতে থাকা মামলাটির নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত শিশুরা আগের মতোই মায়ের কাছে থাকবে বলে জানান মামলায় মায়ের পক্ষে থাকা জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম।

ঘোষিত আদেশে আদালত বলেন, মামলার পারিপার্শ্বিকতা ও শিশুদের স্বার্থ বিবেচনায় শিশুদের এই আদালতের এখতিয়ারের বাইরে (দেশের বাইরে) নেওয়া যাবে না। ঢাকার পারিবারিক আদালতে ২০২১ সালে করা মামলাটি (শিশুদের বাবার) নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত দুই শিশু তাদের মায়ের হেফাজতে থাকবে।

আরও বলা হয়, আপিল বিভাগের আদেশের অনুলিপি পাওয়ার তিন মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট পারিবারিক আদালতকে মামলাটি তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেওয়া হলো। হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ বাতিল করা হলো। শিশুদের বাবা তাদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাবেন।

আদালতে ওইদিন শিশুদের বাবার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী ফিদা এম কামাল, ফাওজিয়া করিম ফিরোজ ও ব্যারিস্টার অনীক আর হক। শিশুদের মায়ের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি, অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম ও মোহাম্মদ শিশির মনির।

জাপানের নাগরিক নাকানো এরিকো ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ইমরান শরীফের ২০০৮ সালের ১১ জুলাই বিয়ে হয়। তাদের তিন মেয়ে রয়েছে। ২০২১ সালের ১৮ জানুয়ারি এরিকোর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন ইমরান। এরপর গত বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি দুই মেয়েকে নিয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন তিনি। ছোট মেয়ে জাপানেই রয়েছে। 

পরে ইমরানের কাছ থেকে ১০ ও ১১ বছর বয়সী দুই মেয়েকে ফিরে পেতে ঢাকায় এসে গত ১৯ আগস্ট রিট করেন তার স্ত্রী নাকানো এরিকো। এতে দুই মেয়েকে বে-আইনিভাবে আটক রাখা হয়নি, তা নিশ্চিতে তাদের আদালতে হাজির করার নির্দেশনা চাওয়া হয়। অন্যদিকে, ছোট মেয়েকে ফিরে পেতে আরেকটি রিট করেন ইমরান।

নাকানো এরিকো ও ইমরানের পৃথক রিটের ওপর শুনানি নিয়ে দুই শিশু তাদের বাবা ইমরানের হেফাজতে থাকবে বলে গত ২১ নভেম্বর হাইকোর্ট আদেশ দেন। এই আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেন এরিকো, যা চেম্বার জজ আদালত হয়ে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য ওঠে।

পরে আপিল বিভাগ দুই শিশুকে তাদের মায়ের কাছে রাখার আদেশ দেন। বাবা শিশুদের সঙ্গে নির্ধারিত সময়ে দেখা করতে পারবেন বলেও আদেশে বলা হয়। পাশাপাশি আবেদনকারীপক্ষকে (শিশুদের মা) নিয়মিত লিভ টু আপিলও দায়ের করতে বলা হয়। হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ আদেশ প্রকাশের পর শিশুদের মা গত ২ ফেব্রুয়ারি নিয়মিত লিভ টু আপিল করেন। এর ওপর শুনানি শেষে এই আদেশ দেওয়া হয়।

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম বলেন, ‘ দুই শিশুকে তাদের বাবার হেফাজতে আটক রাখা বেআইনি ঘোষণা করেছেন আপিল বিভাগ। আপিল বিভাগের এর আগের আদেশের পর দুই শিশু কূটনৈতিকপাড়ায় অবস্থিত একটি আবাসিক হোটেলে তাদের মায়ের সঙ্গে আছে। এখন ঢাকার পারিবারিক আদালতে থাকা মামলাটির নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত শিশুরা আগের মতোই মায়ের কাছে থাকবে।’

ট্যাগ: জাপানি

আইন-আদালত
পদ্মা সেতু নিয়ে ষড়যন্ত্র কারিদের খুঁজতে রুল শুনানি হবে রোববার

banglanewspaper

পদ্মা সেতু নির্মাণ চুক্তি নিয়ে দুর্নীতি বিষয়ক যে তথ্য দেওয়া হয়েছিল সেই তথ্য দাতাদের খুঁজে বের করতে কমিশন গঠনে হাইকোর্টে করা রুলের শুনানির উদ্যোগ নিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।

রোববার (২৬ জুন) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে। শনিবার (২৫ জুন) রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

২০১৭ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি পদ্মা সেতু নির্মাণ চুক্তি এবং দুর্নীতির মিথ্যা গল্প সৃষ্টির নেপথ্যে প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করতে তদন্ত কমিশন গঠন করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং দোষীদের কেন বিচারের মুখোমুখি করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

মন্ত্রিপরিষদ, স্বরাষ্ট্র, আইন ও যোগাযোগ সচিব এবং দুদকের চেয়ারম্যানকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।

হাইকোর্ট স্ব-প্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেন।

শনিবার পদ্মার মাওয়া প্রান্তে সকাল ১০টায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সফরসঙ্গীরা। সেতুর মাওয়া প্রান্তে টোল পরিশোধ শেষে উদ্বোধনী ফলক ও ম্যুরাল-১ উন্মোচনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতু উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন শেষে জাজিরা প্রান্তে পৌঁছে সেতু ও ম্যুরাল-২ এর উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করেন।

এরপর জনসভায় যোগদান শেষে জাজিরা প্রান্তের সার্ভিস এরিয়া-২-তে যাবেন। সেখান থেকে তিনি হেলিকপ্টারে ঢাকায় ফিরে আসবেন।

তথ্যমতে, বাংলাদেশের বুকে সবচেয়ে বড় অবকাঠামোর নাম পদ্মা সেতু। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটারের সেতুটি ঢাকা বিভাগের দুই জেলা মুন্সীগঞ্জ আর শরীয়তপুরকে সংযুক্ত করেছে। সেতুর ডাঙার অংশ যোগ করলে মোট দৈর্ঘ্য ৯ কিলোমিটার। স্টিল আর কংক্রিটের তৈরি দ্বিতল সেতুর ওপরের স্তরে রয়েছে চার লেনের সড়ক আর নিচে একক রেলপথ।

বিশ্বের খরস্রোতা নদীর তালিকায় আমাজনের পরেই পদ্মার অবস্থান। এমন খরস্রোতা নদীর ওপর বিশ্বে সেতু হয়েছে মাত্র একটি। তাই সেতুকে টেকসই করতে নির্মাণের সময় বিশেষ প্রযুক্তির পাশাপাশি উচ্চমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়। পদ্মা সেতুর পিলার সংখ্যা ৪২ আর স্প্যান ৪১টি। খুঁটির নিচে সর্বোচ্চ ১২২ মিটার গভীরে স্টিলের পাইল বসানো হয়। অর্থাৎ প্রায় ৪০তলা ভবনের উচ্চতার গভীরে পাইল নিয়ে যেতে হয়। বিশ্বে এখন পর্যন্ত কোনো সেতুর জন্য এত গভীর পাইলিং হয়নি।

পদ্মা সেতুতে রয়েছে অত্যাধুনিক সিসি ক্যামেরা। সাধারণ আলোক সুবিধার পাশাপাশি সেতুতে রয়েছে আলোকসজ্জা ও সৌন্দর্য বর্ধনে রয়েছে আর্কিটেকচার লাইটিং। স্বাভাবিক সময়ে নদীর পানি থেকে সেতুর উচ্চতা প্রায় সাত ফুট। এর নিচ দিয়ে পাঁচ তলা উচ্চতার নৌযান চলাচল করতে পারবে। ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা বহুমুখী সেতু রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য বড় শহরের সঙ্গে দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার সড়ক ও রেল যোগাযোগ স্থাপন করবে।

পদ্মা সেতু দক্ষিণ এবং পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার উন্নয়নের সঙ্গে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ট্যাগ:

আইন-আদালত
‘ফাঁকি দেয়া করের’ ৯১ লাখ টাকা জমা দিলেন ড. কামাল

banglanewspaper

গণফোরামের সভাপতি ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেনের ল’ হাউস কামাল হোসেন অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দাবি করা করের ছয় কোটি ৯ লাখ ৮৫ হাজার ৩১৫ টাকা ট্যাক্সের মধ্যে ১০ শতাংশ জমা দিয়েছে।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে এক কোটি চার লাখ তিন হাজার ৪৯৫ টাকা আয়কর রিটার্ন জমা দেয় কামাল হোসেন অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস। কিন্তু জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ছয় কোটি নয় লাখ ৮৫ হাজার ৩১৫ টাকা আয়কর এবং আরও ৮৭ লাখ ৩৫ হাজার ৬৩৪ টাকা সুদ দাবি করে।

বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে যায় ড. কামালের ল’ হাউস। নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দাবি করা ছয় কোটি ৯ লাখ ৮৫ হাজার ৩১৫ টাকা ট্যাক্সের মধ্যে ১০ শতাংশ পরিশোধ করতে হয়। সে নির্দেশনা অনুযায়ী এ টাকা জমা দেয় তারা।

মঙ্গলবার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

ড. কামালের আইনজীবী ব্যারিস্টার রমজান আলী শিকদার বলেন, হাইকোর্ট আমাদের রিটের শুনানি নিয়ে স্টাটাস কো (স্থিতিবস্থা) জারি করেছেন। পাশাপাশি রুল জারি করেছেন। ৮৩ লাখ টাকা আমরা আগেই জমা দেয়া আছে। গতকাল আরও ৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা জমা দিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আইন অনুযায়ী যে টাকা পরিশোধ করে আপিল করতে হয়, আমরা তার সম্পূর্ণ পরিশোধ করলাম।’

গত ১৪ জুন কর ফাঁকির বিষয়ে আপিল ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করা রিট কার্যতালিকা থেকে বাদ দেয় হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ। পরে বিষয়টি নিয়ে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চে যান তারা।

এর আগে বিষয়টি নিয়ে ২০১৯ সালের ৩০ ডিসেম্বরে রাজস্ব বোর্ডের এক ডেপুটি কমিশনারের আদেশের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট যুগ্ম কমিশনারের কাছে আপিল করেন। আপিল শুনানি শেষে ২০২০ সালের ২৫ জুন তা খারিজ করে। এতে আগের আদেশ বহাল থাকে।

ট্যাগ:

আইন-আদালত
তারেক রহমান পলাতক কি না, জানা যাবে ২৬ জুন

banglanewspaper

বিদেশে অবস্থানরত দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান পলাতক কি না, এ বিষয়ে আগামী ২৬ জুন সিদ্ধান্ত জানাবেন হাইকোর্ট।

রোববার (১৯ জুন) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জোবায়দা রহমানের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জয়নুল আবেদীনসহ তিনজন। দুদকের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খুরশিদ আলম খান। উভরপক্ষের শুনানি শেষে আদালত ২৬ জুন রায় ঘোষণার তারিখ ধার্য করেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৭ সালের অবৈধ সম্পদ ও তথ্য গোপনের অভিযোগে এ মামলা হয়। মামলায় তারেক রহমান, জোবায়দা রহমান ও শাশুড়ি ইকবাল মান্দ বানুকে আসামি করা হয়। পরে তারেক রহমান ও তার স্ত্রী মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট দায়ের করেন। সেই রিটের শুনানি নিয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

এরপর চলতি বছরের ২৯ মে সে রিটের রুল শুনানির জন্য হাইকোর্টের কার্যতালিকায় আসে। তবে আইনের দৃষ্টিতে তারেক রহমান পলাতক বলে তার পক্ষে কোনো আইনজীবী দাঁড়াতে পারেন কি না, তা নিয়ে আদালতে প্রশ্ন রাখে দুদক।

এদিকে একই মামলা বাতিল চেয়ে জোবাইদা রহমানের আবেদনের শুনানি নিয়ে গত ১৩ এপ্রিল রায় দেন আপিল বিভাগ। রায়ে জোবাইদা রহমান পলাতক ঘোষণা করা হয়। পলাতক বলে তাদের পক্ষে আইনজীবী শুনানি করতে পারেন না।

ট্যাগ:

আইন-আদালত
দেশ প্রযুক্তিতে অনেক এগিয়েছে : আইনমন্ত্রী

banglanewspaper

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, বর্তমানে দেশ প্রযুক্তিতে অনেকদূর এগিয়ে গেছে। এই অবস্থায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলো ডিজিটাইজেশন বা ই-রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া চালুর বিকল্প নেই। এই প্রক্রিয়া চালু হলে জনগণকে দ্রুত রেজিস্ট্রেশন সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

শনিবার (১৮ জুন) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিআরএসএর আয়োজিত সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী নিবন্ধন পরিদপ্তরকে উন্নীত করা হয়েছে। সব কর্মকর্তাদের দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দেশের বিভিন্ন জেলায় জেলা রেজিস্ট্রার ও সাব-রেজিস্ট্রারের অফিস ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ বদলে গেছে, এই বদলে যাওয়া বাংলাদেশের সঙ্গে বাংলাদেশ রেজিস্ট্রেশন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনকে (বিআরএসএ) খাপ খাইয়ে চলতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, একটা দেশ আর্থিকভাবে সচ্ছল থাকতে ৩ মাসের ইমপোর্ট বিল পেমেন্ট করার মতো রিজার্ভ থাকতে হয়। পাকিস্তানের যেখানে ২ মাস ও শ্রীলঙ্কার মাত্র এক দিনের ইমপোর্ট বিল পেমেন্টের সামর্থ্য রয়েছে। সেখানে আমাদের বাংলাদেশের সাত থেকে সাড়ে-সাত মাসের ইমপোর্ট বিল পেমেন্টে করার মতো রিজার্ভ রয়েছে। কিন্তু এরপরও আমাদের সতর্কতার পাশাপাশি মিতব্যয়ী হতে হবে।

আনিসুল হক বলেন, আমরা চাই মামলা জট কমুক। কিন্তু মামলার শুরু হয় জমি-জমা নিয়ে। রেজিস্ট্রেশন ডিপার্টমেন্ট ডিজিটালাইজ করা হচ্ছে, আপনাদের (সাব-রেজিস্ট্রারদের) আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এই বিভাগে এখন পিএসসি থেকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি উপজেলায় সাব-রেজি অফিস বানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এখন দেশবাসীকে সেবা দিতে হবে।

বিআরএসত্রের সভাপতি মো. জিয়াউল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন- লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব মো. মইনুল কবির, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার, নিবন্ধন অধিদফতরের মহাপরির্শক শহীদুল আলম ঝিনুক, বিআরএসএ’র মহাসচিব মো. জাহিদ হোসেন প্রমুখ।

ট্যাগ:

আইন-আদালত
সংবিধানে থাকা বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণে শতাধিক ভুল : হাইকোর্টে প্রতিবেদন

banglanewspaper

সংবিধানে সন্নিবেশিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণে শতাধিক ভুল রয়েছে বলে জানিয়েছে হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটি।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) আইন মন্ত্রণালয় থেকে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চে এই প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণটি ২০২০ সালের ১০ মার্চ সংবিধানে ভুলভাবে সন্নিবেশিত হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠনের নির্দেশ প্রদান করে হাইকোর্ট। এ ছাড়া ৭ মার্চের ভাষণের সময় উপস্থিত থাকা ব্যক্তি ও বিশিষ্টজনদের এ কমিটিতে রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

সংবিধানের পঞ্চম তফসিলে থাকা ভাষণের সঙ্গে এ সংক্রান্ত সব অডিও-ভিডিও পর্যালোচনা করে একটি প্রতিবেদনও আদালতে জমা দিতে বলা হয়। একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের সঠিক ভাষণটি সংবিধানে কেন অন্তর্ভুক্ত করা হবে না, তা জানতে চেয়ে চার সপ্তাহের রুল জারি করেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. ইকবাল কবির ও বিচারপতি তারিক উল হাকিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সুবীর নন্দী দাস হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ২০২০ সালের ৫ মার্চ এ রিটটি দায়ের করেন।

সংবিধানে থাকা বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের ভুলটি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আবেদন জানানো হয় রিট আবেদনে। পাশাপাশি সংবিধানে পূর্ণাঙ্গ ভাষণটি বাংলা ও ইংরেজিতে অন্তর্ভুক্তি চাওয়া হয়।

রিটে বিবাদী করা হয় আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের।

ট্যাগ: