banglanewspaper

আগের দিনে সবাই মাটির কলসিতে পানি রেখে পান করতেন। আজকাল তা দেখাই যায় না। প্লাস্টিক বা কাঁচের বোতলের ভিড়ে মাটির পাত্র হারিয়েই গেছে। সম্প্রতি গবেষকরা জানতে পেরেছেন, ধাতব উপাদানে বানানো এসব পাত্রের তুলনায় মাটির তৈরি পাত্র অনেক স্বাস্থ্যকর। সেই সাথে মাটির পাত্রে রাখা পানি পানের নানা উপকারিতা রয়েছে।

১. মাটি প্রাকৃতিকভাবে পানি ঠান্ডা রাখে। মাটির গ্লাস বা পাত্রে পানি পান করা হলে তা শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। এতে শরীরের বিপাক বাড়াতে সাহায্য করে।

২. গরমের সময় শরীর ঠান্ডা করতে অনেকেই ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা পানি বের করে পান করেন । অথচ মাটির পাত্রে প্রাকৃতিকভাবেই পানি ঠান্ডা থাকে। কারণ কাদা-মাটিতে থাকে অণুবীক্ষণিক ছোট ছোট ছিদ্র। ফলে এই কাদা-মাটির তৈরি পাত্রে পানি রাখা হলে বাষ্পীভবন ঘটে। এতে পানি ঠান্ডা হয়।

৩. গরমে রোদের তীব্রতা থেকে বাঁচাতে সাহায্য করে মাটির পাত্রে রাখা ঠান্ডা পানি। এটি হিট স্ট্রোক থেকে শরীরকে সুরক্ষা দেবে। মাটির পাত্রে রাখা পানি পান করলে শরীরের গরম অনেকটাই কমে গিয়ে শরীর ঠান্ডা হয়।

৪. প্লাস্টিকের বোতলের চেয়ে মাটির পাত্র বেশি ভালো হওয়া অন্যতম কারণ, এটা পরিবেশ বান্ধব। এছাড়াও কাচের বোতলের চেয়ে মাটির বোতল ব্যবহার করা সাশ্রয়ী।

৫. মাটি প্রাকৃতিক ক্ষার সমৃদ্ধ এবং তা যখন পানির অম্লতার সংস্পর্শে আসে তখন তা পিএইচয়ের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। পানির সুষম পিএইচ বা অম্ল-ক্ষার নিয়ন্ত্রণে রেখে গ্যাসের ব্যথা থেকে রক্ষা পেতে সাহায্য করে।

৬. শরীরে টক্সিক কেমিক্যালের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে মাটির পাত্রে রাখা পানি। লোহা, স্টিল কিংবা প্লাস্টিক জাতীয় পাত্রে পানি রাখলে সেখান থেকে নানা ধরনের দূষিত পদার্থ ঢুকতে পারে শরীরে। মাটির পাত্রে পানি রাখলে সেটি সম্ভব নয়।

৭. খনিজ উপাদান এবং ইলেক্ট্রম্যাগনেটিক শক্তিতে সমৃদ্ধ থাকে কাদা-মাটি। তাই মাটির পাত্রে পানি সংরক্ষণ করা হলে তা পানির আরোগ্য ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

৮. যাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আছে তারা নিয়মিত মাটির পাত্রে রাখা পানি পান করতে পারেন। এটি বেশ ভালো কাজ করে। যারা একটু বয়স্ক, তারা পানি পানের ক্ষেত্রে মাটির পাত্র ব্যবহার করুন। এতে শরীরের অনেক সমস্যার সমাধান মিলবে।

ট্যাগ: মাটি

লাইফস্টাইল
কনুইয়ের কালচে দাগ দূর করার ৩ উপায়

banglanewspaper

ত্বকের যত্ন নেওয়া হলেও কনুইয়ের দিকে নজর দেওয়া হয় না অনেকেই। ফলে এই অংশটি হয়ে থাকে কালো। দেহের অন্যান্য অংশের তুলনায় কনুইয়ের ত্বক বেশি পুরু হয়। ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করলেও তা তেমন একটা কাজ করে না। এই অংশটি হয়ে পড়ে শুষ্ক। কনুইয়ে মেলানিন বেশি হওয়ায় কালচে ভাবও বেশি থাকে। কিছু ঘরোয়া উপায়ে কনুই থেকে কালচে ভাব কমিয়ে ফেলতে পারেন—

লেবুর রস

প্রাকৃতিক এই উপাদানে রয়েছে ব্লিচিং এফেক্ট। কনুইয়ের কালো ছোপ উঠাতে সাহায্য করে। যেভাবে ব্যবহার করবেন- একটি লেবুর রস নিংড়ে নিয়ে সামান্য চিনি মেশান। এবার এই মিশ্রণ কনুইয়ে ভালো করে ঘষুন। এতে কালো দাগ তো যাবেই, দূর হবে ডেড সেলও। আধা ঘণ্টা পর ঘন ময়শ্চারাইজার লাগিয়ে নিন।

দুধ ও বেকিং সোডা

কনুইয়ের কালো দাগ দূর করতে দুধ আর বেকিং সোডাও ভালো কাজ করে। দুটি উপাদান একসঙ্গে মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করুন। এই মিশ্রণ কনুইয়ে চক্রাকারে ম্যাসেজ করে নিন। নিয়মিত ব্যবহারে কালো দাগ কমবে। দুধের ফ্যাট কনুইয়ের শুষ্কতাও কমাবে।

শসার রস

ঘরে থাকা শসাও এক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারেন। একটা শসা একটু মোটা করে কেটে নিন। কনুইয়ে মিনিট দশেক ঘষতে থাকুন। ৫ মিনিট অপেক্ষা করে হাত ধুয়ে নিন। চাইলে শসা আর লেবুর রস মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করেও ব্যবহার করতে পারেন।

তবে কনুইয়ের কালচেভাব দূর করার জন্য কেবল এসব প্যাক ব্যবহার করা যথেষ্ট নয়। প্রতিদিন গোসলের পর ভালো করে ময়শ্চারাইজার লাগিয়ে নিন। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগেও একই কাজ করুন। পেট্রোলিয়াম জেলি, নারিকেল তেল, কোকো বা শিয়া বাটার ময়শ্চারাইজার হিসেবে খুবই ভালো। একই উপায় কাজে লাগিয়ে হাঁটুর কালো দাগও দূর করতে পারেন।

ট্যাগ:

লাইফস্টাইল
বাবা হওয়ার সঠিক বয়স, যা বলছে গবেষণা

banglanewspaper

অনেক পুরুষের ভাবনা, সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের বয়স কোনো বাধা নয়। তাদের এই ধারণা একেবারেই ভুল। যদিও ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সি অনেক পুরুষও সন্তান জন্ম দিতে সক্ষম হয়েছেন। গিনেস বুক রেকর্ডসের মতে, ৯২ বছর বয়সি এক পুরুষ সন্তানের জন্ম দিতে সক্ষম হয়েছেন।

বিভিন্ন গবেষণা বলছে, ৪০ বছরের পর পুরুষদের সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষমতা কমে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষদের ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়স পিতা হওয়ার জন্য আদর্শ।

নারীদের ক্ষেত্রে ঋতুবন্ধের পরে সন্তানধারণের কোনও সম্ভাবনা থাকে না। কিন্তু ছেলেদের শরীরে শুক্রাণু তৈরির প্রক্রিয়া কখনও বন্ধ হয় না। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, তাদের নারীদের মতো ‘বায়োলজিক্যাল ক্লক’ নেই।

পুরুষদের বয়স বাড়ার সঙ্গে শুক্রাণুগুলো জেনেটিক মিউটেশনের মধ্য দিয়ে যায়। ফলে শুক্রাণুর ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। পুরুষদের সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষমতা প্রভাবিত হয়। শুধু তা-ই নয়, সেই বয়সে যদি তিনি সন্তানের জন্ম দিয়েও ফেলেন, তাহলে শিশুর স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও খারাপ প্রভাব পড়তে পারে। এ ক্ষেত্রে শিশুদের স্নায়ুতন্ত্রজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

‘জার্নাল অব এপিডেমিওলজি অ্যান্ড কমিউনিটি হেলথ’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ২৫ বছর বয়সের আগে বাবা হওয়া তাঁদের স্বাস্থ্যের গুরুতর পরিণতি ডেকে আনতে পারে, এমনকি মধ্যবয়সে অকালমৃত্যুও হতে পারে।

বাড়তি বয়সের সঙ্গে সঙ্গে জীবনধারায় অনিয়ম পুরুষদের বন্ধ্যত্বের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান, মদ্যপান, মানসিক চাপ, বিভিন্ন প্রকার ওষুধ, স্থূলতা— পুরুষের বন্ধ্যত্বের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী।

ট্যাগ:

লাইফস্টাইল
ত্বকের যৌবন ধরে রাখার ঘরোয়া উপায়

banglanewspaper

প্রতিটি মানুষের স্বপ্ন থাকে প্রাণবন্ত ও উজ্জ্বল ত্বক। কেননা প্রাণবন্ত ও উজ্জ্বল ত্বক মানুষের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয় দ্বিগুণ। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত পরিবেশের দূষণ এবং স্ট্রেস আপনার একসময়ের উজ্জ্বল এবং সুস্থ ত্বককে নিস্তেজ ও প্রাণহীন করে তোলে। যার ফলে বয়সের ছাপ পরে আমাদের চেহারায়। তবে ত্বককে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য বেশ কয়েকটি ঘরোয়া পদ্ধতি আছে। যা ব্যবহারে আপনার ত্বকের অতি-কাঙ্ক্ষিত আভা ধরে রাখতে পারবেন। কেননা পুনরুজ্জীবিত ত্বক আমাদের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস প্রদান করে স্ট্রেস কমিয়ে দেয়। তাহলে চলুন জেনে নেই ঘরোয়া উপায়ে ত্বককে উজ্জ্বল করে, ত্বকের যৌবন ধরে রাখার উপায়।

এপ্রিকট

এই ফলটিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং ই রয়েছে। যা আপনার ত্বকের জন্য উপকারী। বিশেষ করে ভিটামিন সি ফ্রি যা ডিকেলগুলিকে নিরপেক্ষ করে ইউভি (UV) রশ্নি এবং দূষণের বিরুদ্ধে কাজ করে। চার থেকে পাঁচটি এপ্রিকট ফুলে উঠা না পর্যন্ত পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এরপর এপ্রিকটগুলোর খোসা ছাড়িয়ে নিয়ে তার সাথে ২ চা চামচ মধু, ১/২ চা চামচ বাদাম তেল এবং ১/২ চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে ব্লেন্ড করে নিন। এরপর মিশ্রণটি পুরো মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

পেঁপে ও মধু

২ চামচ পেঁপের পেস্টের সঙ্গে ২ চামচ মধুর রস মিশিয়ে বৃত্তাকার গতিতে আপনার ত্বকে লাগান। এরপর ১৫ মিনিট এভাবেই মুখে লাগিয়ে রাখুন। পেঁপে ত্বকের যত্নে প্রাকৃতিক স্ক্রাব হিসেবে কাজ করে এবং ত্বকে পুষ্টি যোগায়।

কমলার খোসা

কমলার খোসা কুঁচি করে রোদে শুকিয়ে নিন। ১ চামচ শুকনো কমলার খোসার সঙ্গে ২ চামচ বেসন এবং ১ চামচ দুধ যোগ করে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন। মুখে প্যাকটি লাগিয়ে ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। সাইট্রিক অ্যাসিড এবং ভিটামিন সি কোলাজেন গঠনে সাহায্য করে। যা আপনার ত্বককে টানটান রাখে এবং ফটোজিং ও হাইপারপিগমেন্টেশন এর উপস্থিতি হ্রাস করে।

তরমুজ এবং শসার প্যাক

তরমুজে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে লাইকোপিনের উপস্থিতি। এটি বলিরেখা এবং সূক্ষ্ম রেখা সহ বার্ধক্যজনিত লক্ষণগুলির বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে। গ্রেট করা শসা, গ্রেট করা তরমুজ এবং কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে একটি ফেসপ্যাক তৈরি করে মুখে লাগান। এরপর শুকিয়ে গেলে তেলমুক্ত, উজ্জ্বল ত্বকের জন্য হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

পেঁপে এবং কলা

কয়েক টুকরো পাকা পেঁপে এবং অর্ধেক পাকা কলা নিন। দুটি ফল একসঙ্গে ব্লেড করে ঘন পেস্ট তৈরি করে ত্বকের যে অংশে বলিরেখা রয়েছে সেখানে প্যাকটি লাগিয়ে নিন। ১৫-২০ মিনিট রাখার পর হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। পেঁপের মধ্যে প্যাপাইন নামক এনজাইম রয়েছে, অন্যদিকে কলার মধ্যে রয়েছে নানা ভিটামিন যা ত্বককে পুনরুজ্জীবিত করতে সাহায্য করে। ন্যাচরাল এই ফেসপ্যাকটি বলিরেখা মুক্ত করতে এবং ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে দারুণ উপকারী। সপ্তাহে দুই থেকে তিন বার এই প্যাক ব্যবহার করতে পারেন।

টমেটো

৩ টেবিল চামচ টমেটোর রসের সাথে ১ টেবিল চামচ লেবুর রস, ২ টেবিল চামচ দুধের ক্রিম যোগ করে একটি মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। ১৫ মিনিট রাখুন এরপর ধুয়ে ফেলুন। টমেটোতে রয়েছে লাইকোপেন যা ত্বককে পুনরুজ্জীবিত করে এবং টানটান করে। এতে অ্যাস্ট্রিঞ্জেন্ট বৈশিষ্ট্যও রয়েছে যা আপনার ত্বককে সতেজ রাখে।

ওটমিল এক্সফোলিয়েটিং

একটি সমীক্ষা অনুসারে, ওটমিল প্রদাহ-বিরোধী বৈশিষ্ট্যে সমৃদ্ধ যা ত্বকের শুষ্কতা, স্কেলিং এবং রুক্ষতা উন্নত করতে সাহায্য করে। এমনকি এটি চুলকানিও কমাতে পারে। ১ টেবিল চামচ ওটমিল সামান্য পানির সাথে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। তার সাথে ১ চা চামচ মধু মিশিয়ে মুখে লাগান এবং ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। ওটমিলে উপস্থিত স্যাপোনিনগুলি আপনার ত্বককে পরিষ্কার করে সজীবতা ফিরিয়ে আনবে।

ডিমের সাদা অংশ

অ্যান্টি রিঙ্কলস ক্রিমের বদলে সপ্তাহে এক-দু'বার মুখে ডিমের সাদা অংশ ব্যবহার করুন। এতে ত্বকের বলিরেখা এবং ফাইনলাইনস দূর হবে। ত্বক হয়ে উঠবে টানটান। ডিমের সাদা অংশ ভালো করে ফেটিয়ে নিন এবং ত্বকের উপর লাগিয়ে রাখুন। ভালোভাবে শুকিয়ে গেলে হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

দই

ঘরে তৈরি দই আপনার ত্বকের জন্য বিস্ময়কর কাজ করতে পারে। এতে উপস্থিত ল্যাকটিক অ্যাসিড এক্সফোলিয়েটর এবং ত্বক উজ্জ্বল করার মতো কাজ করে। একটি সমীক্ষা অনুসারে, দইয়ের প্যাক আর্দ্রতা, উজ্জ্বলতা এবং ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে। ২ চা চামচ দই, ১/৪ চা চামচ হলুদ গুড়া এবং ১/২ চা চামচ বেসন মিশিয়ে একটি মসৃণ ফেসপ্যাক তৈরি করুন। এরপর মুখ পরিষ্কার করে প্যাকটি লাগিয়ে ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এই ফেসপ্যাকটি প্রাকৃতিকভাবে ত্বক পরিষ্কার এবং টানটান করে। এতে আপনার ত্বক তরুণ এবং সতেজ দেখায়।

ট্যাগ:

লাইফস্টাইল
রান্নাঘরের যেসব জিনিস বিপদ ডেকে আনতে পারে

banglanewspaper

কর্মব্যস্ত জীবনে রান্নাঘর সামলাতে এখন অনেকেই নানা যন্ত্রপাতি ব্যবহার করেন। ফ্রিজ, মাইক্রোওয়েভ ছাড়া তো এখন রান্নাঘরই অপূর্ণ থাকে! তবে জানেন কি, রান্নাঘরে ব্যবহৃত এমন কয়েকটি জিনিস আছে যেগুলো হতে পারে স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জক। জেনে নিন সেসব বিষয়ে—

ফ্রিজ তো এখন সবার ঘরেই আছে। খাবার দীর্ঘদিন সংরক্ষণের জন্য ফ্রিজের বিকল্প নেই। তবে ফ্রিজ থেকে নির্গত ক্লোরো ফ্লুরো কার্বন কিন্তু শরীরের জন্য হতে পারে মারাত্মক ক্ষতিকর। এই কার্বন তীব্র মাথা যন্ত্রণার কারণ হতে পারে।

খাবার গরম করা থেকে শুরু করে বাহারি পদ তৈরির জন্য মাইক্রোওয়েভের বিকল্প নেই। তবে মাইক্রোওয়েভ থেকে নির্গত রশ্মি শরীরের জন্য ক্ষকির। আর অবশ্যই মাইক্রোওয়েভে ব্যবহৃত বাসনপত্র সঠিক কিনা তা যাচাই করে নিন।

অ্যালুমিনিয়ামের বাসনপত্র কমবেশি সবাই ব্যবহার করেন। তবে এই বাসনেই লুকিয়ে আছে বিপদ। কারণ অ্যালুমিনিয়ামের বাসন থেকে নির্গত ক্যাডমিয়াম শরীরের জন্য হতে পারে মারাত্মক ক্ষতিকর।

খাবার সংরক্ষণে সোডিয়াম বেনজোয়েট ব্যবহার করা হয়। যদি ভুলেও কোনো খাবারে ০.১ শতাংশের বেশি সোডিয়াম বেনজোয়েট ব্যবহার করা হয় তাহলে শরীরে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। এর ফলে অ্যালার্জি ও ক্যানসারের মতো রোগ হতে পারে।

খাবারে ৩ গ্রামেরও বেশি এমএসজি ব্যবহারও ডেকে আনতে পারে বিপদ। এমএসজি হৃদরোগ ও অ্যালার্জি জন্য দায়ী। আধুনিক রান্নাঘরে এয়ার ফ্রায়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই বৈদ্যুতিক যন্ত্র নানা রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

কমবেশি সবাই রান্নায় রিফাইন্ড অয়েল ব্যবহার করেন। ভাজাভুজির পর কখনো বাকি তেলটুকু সংরক্ষণ করে পরে রান্নার কাজে লাগাবেন না। এই অভ্যাসের কারণে আপনি অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। কারণ পোড়া রিফাইন্ড অয়েল ব্যবহার ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।

সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া

ট্যাগ:

লাইফস্টাইল
কাঁঠাল খেলে দূর হবে যেসব রোগ

banglanewspaper

আপনি কি জানেন, কাঁঠালে কত ধরনের গুনাগুণ রয়েছে? মানুষের দেহে যেসব পুষ্টির প্রয়োজন প্রায় সবই আছে কাঁঠালের মধ্যে। এক সময় বাঙালির পুষ্টির অভাব পূরণ করতো এই কাঁঠাল। তবে এক শ্রেণির মানুষ কাঁঠাল দেখলে নাক ছিটকান। তারা মনে করেন কাঁঠাল গরিবের খাদ্য। তা কিন্তু নয়, কাঁঠাল পুষ্টির রাজা। এর বিচিরও রয়েছে নানা গুণ যা মানব দেহের জন্য উপকারী। বিশেষ করে এই করোনাকালে যত পারেন কাঁঠাল খেয়ে নিতে পারেন। তাতে আপনারই উপকার।

পুষ্টিবিদরা বলছেন, কাঁঠালে রয়েছে বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন এ, সি, বি-১, বি-২, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়ামসহ নানা রকমের পুষ্টি ও খনিজ উপাদান।

এবার জেনে নেওয়া যাক কাঁঠালের উপকারিতা সম্পর্কে

পাইলস ও কোলন ক্যানসার দূরে রাখে

পাইলসের কষ্ট ভুক্তভোগী মাত্রই জানেন। আপনাকে এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে পারে কাঁঠাল। নিয়মিত কাঁঠাল খেলে দূর হয় কোষ্ঠকাঠিন্য। ফলে পাইলস বাড়তে পারে না। সেইসঙ্গে কাঁঠাল খেলে কমে কোলন ক্যানসারের মতো মরণঘাতি রোগের ভয়ও।

লোহিত রক্তকণিকা বাড়ায়

লোহিত রক্তকণিকার অভাবে দেখা দিতে পারে রক্তস্বল্পতা। এই রোগের হাত ধরে দেখা দিতে পারে আরও অনেক রোগ। সুমিষ্ট ফল কাঁঠালে থাকে আয়রন। এই উপাদান রক্তে লোহিত রক্তকণিকার পরিমাণ বাড়ায়। তাই যাদের রক্তস্বল্পতা রয়েছে, তাদের জন্য নিয়মিত কাঁঠাল খাওয়া উপকারী।

কোলেস্টেরল মুক্ত

কাঁঠালে আছে ভিটামিন বি-৬। উপকারী এই উপাদান ছাড়াও এতে পাওয়া যায় প্রচুর ক্যালোরি। তবে এতে কোনো রকম কোলেস্টেরল নেই। তাই কাঁঠাল খেলে উপকার মিলবে সহজেই।

ত্বক উজ্জ্বল রাখে

ত্বক উজ্জ্বল রাখতে চাইলে কেবল বাইরে থেকে যত্ন নেওয়াই যথেষ্ট নয়। বরং খেয়াল রাখতে হয় খাবারের দিকেও। নিয়মিত কাঁঠাল খেলে ত্বক দ্রুত উজ্জ্বল হবে। কারণ এই ফলে আছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট যা ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। সেইসঙ্গে কমায় বলিরেখাও।

চোখ ভালো রাখে

চোখের যত্ন নেওয়া জরুরি। কারণ আমাদের অবহেলা বা অযত্নের কারণে কমতে থাকে দৃষ্টিশক্তি। আপনার দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে কাজ করবে কাঁঠাল। এই ফলে আছে প্রচুর ভিটামিন এ এবং বিটা ক্যারোটিন। চোখ ভালো রাখার জন্য এই দুই উপাদান অপরিহার্য।

ট্যাগ: